সরকারি কর্মচারী

WBSEDCL Smart Meter: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বাড়িতে বসছে স্মার্ট মিটার, নবান্নের নতুন নির্দেশিকা

Smart Meter In West Bengal
Smart Meter In West Bengal

এক নজরে

  • রাজ্য সরকারি কর্মীদের বাসভবনে স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার বসানোর নির্দেশিকা জারি হয়েছে।
  • ভারত সরকারের RDSS প্রকল্পের অধীনে বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ১০৩টি সংবেদনশীল এলাকায় এই স্মার্ট মিটার বসানো হবে।
  • স্মার্ট মিটারগুলি ডিফল্টভাবে পোস্ট-পেইড মোডে কাজ করবে, তবে প্রি-পেইড অপশনও থাকবে।
  • বিদ্যুৎ চুরিরোধ এবং ডিস্ট্রিবিউশন লস কমানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

WBSEDCL Smart Meter: রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (WBSEDCL) এবার রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের বাসভবনে স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার (Smart Electric Meter) বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারত সরকারের ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম’ (RDSS)-এর নির্দেশিকা মেনে বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১০ জুন, ২০২৬ তারিখে রাজ্যের মুখ্য সচিবের (Chief Secretary) দপ্তর থেকে এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সমস্ত দপ্তরের প্রধান, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং ডিভিসনাল কমিশনারদের এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা যায়।

সূচিপত্র

স্মার্ট মিটার কেন বসানো হচ্ছে?

বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংস্কার এবং বণ্টন সংস্থাগুলির আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতির লক্ষ্যে ভারত সরকার দেশজুড়ে RDSS প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যুৎ চুরি কমানো এবং ডিস্ট্রিবিউশন লস (Distribution Loss) কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের যে সমস্ত দপ্তরের কর্মীদের বেতন বা সাম্মানিক রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে দেওয়া হয়, তাদের বাড়িতে এই আধুনিক স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Advertisement

কোথায় প্রথম এই মিটার বসবে?

প্রাথমিক পর্যায়ে গোটা রাজ্যের ৫৫৪টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের (CCC) মধ্যে ১০৩টি কেন্দ্রকে এই কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই ১০৩টি এলাকা বিদ্যুৎ বণ্টনে ক্ষতির দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর ফলে রাজ্য সরকারের কোষাগারে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রথমে এই এলাকাগুলিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, আধা-সরকারি কর্মী, রাজ্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং কর্পোরেশনের কর্মীদের বাসভবনে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে অন্যান্য কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের আওতাধীন এলাকাগুলিতে এই কাজ সম্প্রসারিত করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু একনজরে:

  • ভারত সরকারের RDSS স্কিমের অধীনে স্মার্ট মিটার ইনস্টলেশন।
  • প্রথম ধাপে ১০৩টি নির্দিষ্ট কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের (CCC) অধীনে কাজ শুরু।
  • রাজ্য সরকারি, আধা-সরকারি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের বাড়িতে অগ্রাধিকার।
  • ডিফল্ট বিলিং সিস্টেম হবে পোস্ট-পেইড (Post-paid)।
  • গ্রাহক চাইলে পরে প্রি-পেইড (Pre-paid) মোড নির্বাচন করতে পারবেন।
  • রাজ্য কোষাগারের ওপর থেকে ডিস্ট্রিবিউশন লসের বোঝা কমানোর উদ্যোগ।

বিলিং পদ্ধতি: প্রি-পেইড নাকি পোস্ট-পেইড?

নতুন স্মার্ট মিটার নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন হলো, এটি কি মোবাইলের মতো আগে রিচার্জ করে চালাতে হবে? সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, নতুন স্মার্ট মিটারগুলি ডিফল্টভাবে ‘পোস্ট-পেইড’ হিসেবেই ইনস্টল করা হবে। অর্থাৎ, বর্তমান ব্যবস্থার মতোই মাসে বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বিল আসবে এবং গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরে বিল জমা দেবেন। তবে, কোনো গ্রাহক চাইলে মিটার ইনস্টল করার পর স্বেচ্ছায় ‘প্রি-পেইড’ মোড বেছে নিতে পারবেন। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মনে যে বিভ্রান্তি বা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই অবসান হবে।

কর্মীদের প্রতি প্রশাসনের বার্তা ও কার্যকরী পরামর্শ

বিজ্ঞপ্তিতে সমস্ত দপ্তরের প্রধান এবং জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন তাদের অধীনস্থ সমস্ত কর্মীদের এই বিষয়ে অবহিত করেন। WBSEDCL-এর ডিস্ট্রিবিউশন এলাকায় বসবাসকারী সরকারি কর্মীদের স্মার্ট মিটার বসানোর সময় বণ্টন সংস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>