ইনকাম ট্যাক্স

Income Tax: এ কর এড়াতে ভুয়ো বাড়ি ভাড়ার রসিদ নিয়ে আয়কর দপ্তরের কড়া এআই নজরদারি

Income Tax New Forms
Income Tax New Forms

এক নজরে

  • আইটিআর ফাইলিংয়ের সময় ভুয়ো বাড়ি ভাড়া রসিদ বা এইচআরএ ক্লেম করলে পড়তে পারেন আয়কর dপ্তরের এআই নজরদারিতে।
  • বার্ষিক ১ লক্ষ টাকার বেশি বাড়ি ভাড়া দিলে ল্যান্ডলর্ডের সাথে সম্পর্ক জানাতে চালু হয়েছে নতুন ফর্ম ১২৪।
  • ভুয়ো করছাড়ের দাবি প্রমাণিত হলে আসল করের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
  • পুরোনো চার বছরের কর রিটার্ন নতুন করে খতিয়ে দেখার ক্ষমতা রয়েছে আয়কর বিভাগের।
  • সতর্কভাবে সঠিক নথিপত্র মিলিয়ে ৩১শে জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা করার পরামর্শ।

Income Tax: প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন বা আইটিআর জমার মরসুমে এক শ্রেণির চাকুরিজীবী কর বাঁচানোর জন্য ভুয়ো বাড়ি ভাড়ার রসিদ জমা দিয়ে থাকেন। তবে এখন আর সেই সুযোগ নেই। আয়কর দপ্তর এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক উন্নত স্ক্রুটিনি সিস্টেম ব্যবহার শুরু করেছে, যা চোখের পলকে যেকোনো ভুয়ো দাবি ধরে ফেলছে।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের করদাতা কর্মচারীদের মধ্যে যারা ৩১শে জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে আইটিআর-১ বা আইটিআর-২ ফাইল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তনটি বেশ বড়। আগে শুধু রসিদ আপলোড করলেই কাজ চলত, কিন্তু এখন প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল ট্রেইল এআই দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

সূচিপত্র

কিভাবে কাজ করছে আয়কর দপ্তরের এআই স্ক্রুটিনি?

বর্তমানে সেন্ট্রালাইজড প্রসেসিং সেন্টার বা সিপিসি ২.০ সিস্টেম চালু হয়েছে। এই সিস্টেমটি ট্যাক্স পেয়ারের প্যান কার্ড, আধার নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন এবং ফর্ম ১৬-এর সমস্ত তথ্য সরাসরি মিলিয়ে দেখছে। যদি কেউ মাসে ২০,০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া দেখান অথচ তার ব্যাংক স্টেটমেন্টে সমপরিমাণ টাকা তোলার বা ইউপিআই করার কোনো প্রমাণ না থাকে, তবে এআই সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে ফ্ল্যাগ করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, বাড়িওয়ালার প্যান কার্ডও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আপনি যে বাড়ি ভাড়া দেখিয়ে করছাড় নিচ্ছেন, সেই বাড়িওয়ালা নিজের আয়কর রিটার্নে ওই টাকা আয় হিসেবে দেখিয়েছেন কি না, তাও সহজেই ধরা পড়ছে।

Advertisement

ল্যান্ডলর্ডের সাথে সম্পর্কের নতুন নিয়ম ও ফর্ম ১২৪

নতুন কর বিধি অনুযায়ী, আপনার বার্ষিক বাড়ি ভাড়া যদি ১ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তবে বাড়িওয়ালার সাথে আপনার সম্পর্ক কী তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। ড্রাফট ইনকাম ট্যাক্স রুলস ২০২৬-এর আওতায় আনা নতুন ফর্ম ১২৪ পূরণ করা এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর ফলে আপনি যদি বাবা, মা বা কোনো আত্মীয়কে ভাড়া দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন, তবে সিস্টেম সেটিকে “হাই-রিস্ক” ক্যাটাগরিতে ফেলে দেবে। পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফারের স্পষ্ট প্রমাণ না থাকলে সেই করছাড়ের আবেদন সরাসরি বাতিল হতে পারে।

ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রভাব ও কঠিন জরিমানা

আইটিআর-এ ভুল বা অসত্য তথ্য দিলে কেবল করছাড় বাতিল হবে তা নয়, এর পরিণতি বেশ মারাত্মক।

  • ২০০ শতাংশ জরিমানা: ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য ভুয়ো রসিদ ব্যবহার করলে করের পরিমাণের ওপর ২০০% পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা হতে পারে।
  • সুদের বোঝা: ধারা ২৩৪এ এবং ২৩৪বি অনুযায়ী বকেয়া করের ওপর প্রতি মাসে ১ শতাংশ হারে সাধারণ সুদ দিতে হবে।
  • পুরোনো আইটিআর রি-ওপেন: আয়কর দপ্তরের হাতে গত চার বছরের রিটার্ন পুনরায় খুলে খতিয়ে দেখার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে অতীতের কোনো ফাঁকিও এখন ধরা পড়ে যেতে পারে।
  • কারাদণ্ড: গুরুতর জালিয়াতি বা কর ফাঁকির মামলায় ধারা ২৭৬সি-এর অধীনে ফৌজদারি মামলা এবং কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য করণীয় এবং টিপস

পশ্চিমবঙ্গ সরকারি চাকুরিজীবী বা পেনশনারদের জন্য আয়কর ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার:

১. ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যবহার করুন: বাড়ি ভাড়া সর্বদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, নেট ব্যাংকিং বা ইউপিআই-এর মাধ্যমে দেওয়ার চেষ্টা করুন। নগদে ভাড়া দেওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এর কোনো ডিজিটাল প্রমাণ থাকে না। ২. নথিপত্র গুছিয়ে রাখুন: ভাড়ার রসিদ এবং নোটারি করা ভাড়ার চুক্তিপত্র হাতের কাছে রাখুন। ৩. এআইএস ও ফর্ম ২৬এএস যাচাই করুন: রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে এআইএস (অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট) এবং ফর্ম ২৬এএস ভালো করে দেখে নিন যাতে আয়ের অঙ্কে কোনো গরমিল না থাকে। ৪. অন্যান্য করছাড়ের সঠিক তথ্য দিন: বাড়ি ভাড়া ছাড়াও ধারা ৮০জি (দান), ৮০ডি (স্বাস্থ্যবিমা) বা ৮০ই (শিক্ষা ঋণ) ইত্যাদির অধীনে করছাড়ের আবেদন করার সময় সঠিক রসিদ ও পেমেন্ট হিস্ট্রি নিশ্চিত করুন।

আয়কর দপ্তরের এই কঠোর এআই নজরদারি এড়াতে সঠিক তথ্য ও বৈধ কাগজপত্র সহকারে সময়মতো রিটার্ন ফাইল করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>