HS Semester Exam: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় খবর! বদলাচ্ছে খাতা ও প্রশ্নের নিয়ম, ৭ লক্ষ পড়ুয়ার জন্য জারি কড়া নির্দেশিকা
HS Semester Exam: পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তত্ত্বাবধানে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাজ্যের প্রায় ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৮১১ জন পড়ুয়া তাদের স্কুল জীবনের অন্যতম বড় পরীক্ষায় বসতে চলেছে। তবে এবারের পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মাবলীতে এসেছে একাধিক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। চিরাচরিত বার্ষিক পরীক্ষার ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে সেমেস্টার পদ্ধতির এই পরীক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ কিছু সতর্কতা অবলম্বন না করলে বাতিল হতে পারে প্রার্থিপদ।
সেমেস্টার পদ্ধতি ও উত্তর লেখার ধরণ
২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হওয়ার পর পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোতে বড় বদল এসেছে। যেখানে তৃতীয় সেমেস্টার ছিল মূলত এমসিকিউ (MCQ) বা বহু বিকল্প ভিত্তিক, সেখানে চতুর্থ সেমেস্টারে পড়ুয়াদের ব্যাখ্যামূলক বা বর্ণনামূলক উত্তর লিখতে হবে। এই সেমেস্টারের পরীক্ষাটি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে। তবে পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক ১০ মিনিট আগে, অর্থাৎ সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রে সঠিক সময়ে পৌঁছানো এবং মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত আবশ্যিক।
উত্তরপত্র নিয়ে কঠোর নিয়মাবলী
এবারের পরীক্ষায় উত্তরপত্রের ক্ষেত্রে এক বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে যা পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষায় পড়ুয়ারা উত্তর লেখার জন্য কোনও ‘অতিরিক্ত কাগজ’ বা লুজ শিট (Loose Sheet) নিতে পারবে না। নির্দিষ্ট উত্তরপত্রের মধ্যেই সমস্ত উত্তর শেষ করতে হবে। তাই পরীক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তারা যেন অযথা বড় উত্তর লিখে জায়গা নষ্ট না করে। উত্তর হতে হবে সংক্ষিপ্ত, তথ্যবহুল এবং নির্দিষ্ট শব্দসীমার মধ্যে।
নিষিদ্ধ সামগ্রী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংসদ এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মাথায় রাখা বাধ্যতামূলক:
- ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিষিদ্ধ: পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ বা ক্যালকুলেটরের মতো কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: যদি কোনও পড়ুয়ার কাছে এই ধরণের নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া যায় বা কেউ নকল করার চেষ্টা করে ধরা পড়ে, তবে তার পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।
প্রশ্নের বিকল্প ও সুযোগ
কড়াকড়ির পাশাপাশি পড়ুয়াদের সুবিধার্থে প্রশ্নের ধরণ নিয়ে একটি ইতিবাচক খবরও রয়েছে। উত্তর লেখার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীরা দ্বিগুণ সংখ্যক প্রশ্ন থেকে নিজের পছন্দমতো প্রশ্ন বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। সহজ কথায়, যদি চারটি প্রশ্ন থাকে, তবে তার মধ্যে থেকে পরীক্ষার্থীকে যে কোনও দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এই ব্যবস্থা পড়ুয়াদের ওপর চাপ কমাতে এবং ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।