India GDP Growth: আমেরিকার চোখরাঙানি উপেক্ষা করে ভারতের চমক! ৮.২% জিডিপি বৃদ্ধিতে স্তম্ভিত বিশ্ব
India GDP Growth: আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশের কঠোর শুল্ক নীতি এবং নানাবিধ আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, ভারতীয় অর্থনীতি ফের নিজের অদম্য শক্তির পরিচয় দিল। সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫) জিডিপি বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পরিসংখ্যানে ভারত ৮.২ শতাংশের বিস্ময়কর বৃদ্ধি নথিবদ্ধ করেছে। যেখানে বিশ্বের তাবড় অর্থনীতিবিদরা ৭.৪ শতাংশের আশেপাশে বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, সেখানে ভারতের এই পারফরম্যান্স কার্যত সকল অনুমানকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে।
জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান এবং তুলনা
ভারতের এই অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উত্থান গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকেও ভারতের ফলাফল বেশ ভালো ছিল, তবে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের এই লাফ নিঃসন্দেহে বিনিয়োগকারী এবং নীতি নির্ধারকদের মধ্যে খুশির হাওয়া এনেছে। নিচে একটি ছকের মাধ্যমে তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| সময়কাল | জিডিপি বৃদ্ধির হার |
|---|---|
| চলতি অর্থবর্ষ (২০২৫-২৬) – দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (Q2) | ৮.২% |
| চলতি অর্থবর্ষ (২০২৫-২৬) – প্রথম ত্রৈমাসিক (Q1) | ৭.৪% |
| গত অর্থবর্ষ – দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (Q2) | ৫.৪% |
আমেরিকার শুল্ক নীতি ও ভারতের প্রত্যুত্তর
ভিডিও এবং সূত্র অনুযায়ী, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত এবং ব্রাজিলের উপর চড়া শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করেছিলেন। পরবর্তীকালে ব্রাজিলের উপর শুল্ক কমানো হলেও, ভারতের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের বিশাল শুল্ক বজায় রাখা হয়। ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, এই চাপে পড়ে ভারতীয় অর্থনীতি নড়বড়ে হয়ে যাবে এবং ভারত শুল্ক কমানোর আবেদন জানাবে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ৮.২ শতাংশের এই জিডিপি বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, আমেরিকার এই শুল্ক যুদ্ধের (Trade War) বিশেষ কোনও নেতিবাচক প্রভাব ভারতের সামগ্রিক বৃদ্ধির ওপর পড়েনি। উল্টে, এই শক্তিশালী অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান এখন আলোচনার টেবিলে ভারতকে আরও সুবিধাজনক এবং শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
সবার আগে খবরের আপডেট পান!
টেলিগ্রামে যুক্ত হনজিএসটি হ্রাসের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেপ্টেম্বর মাসে জিএসটি (GST) হারে কিছু ছাড়ের ঘোষণা করেছিলেন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ৮.২ শতাংশ বৃদ্ধির পরিসংখ্যানে সেই জিএসটি হ্রাসের সম্পূর্ণ সুফল এখনও প্রতিফলিত হয়নি।
- তৃতীয় ত্রৈমাসিকের আশা: অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলা তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (Q3) দিওয়ালি এবং অন্যান্য উৎসবের মরশুম থাকে। উৎসবের কেনাকাটা এবং জিএসটি কমানোর যৌথ প্রভাবে আগামী দিনে জিডিপি বৃদ্ধির হার আরও উন্নত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইএমএফ (IMF) রিপোর্ট: তথ্যের গুণমান ও বিতর্ক
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ ভারতের জিডিপি তথ্যের গুণমান নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে, যেখানে ভারতকে ‘C’ গ্রেড দেওয়া হয়েছে।
- গ্রেডিংয়ের কারণ: আইএমএফ-এর মতে, ভারত এখনও জিডিপি গণনার জন্য ২০১১-১২ সালকে ভিত্তি বছর (Base Year) হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আপডেট করা প্রয়োজন। তবে সরকার শীঘ্রই নতুন ভিত্তি বছর চালু করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
- চিনের সাথে তুলনা: তথ্যের গুণমানের ক্ষেত্রে চিনকেও ‘C’ গ্রেড দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি অর্থের পরিসংখ্যান বা ‘গভর্নমেন্ট ফাইন্যান্স স্ট্যাটিসটিক্স’-এর ক্ষেত্রে ভারত ‘B’ গ্রেড পেয়েছে, যেখানে চিন পেয়েছে ‘C’। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, চিনের তুলনায় ভারতের সরকারি আর্থিক তথ্য অনেক ক্ষেত্রে বেশি স্বচ্ছ।