Madhyamik 2026: স্কুলের ভুলে বিপাকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা? সমাধানে কড়া পদক্ষেপ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের
Madhyamik 2026 Portal: পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। পরীক্ষার ঠিক প্রাক্কালে, যখন হাতে আর মাত্র কয়েকদিন সময় বাকি, তখন পর্ষদের এই সিদ্ধান্ত হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। মূলত কিছু স্কুলের গাফিলতির কারণে যে সমস্ত পড়ুয়া সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল, তাদের স্বার্থেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পোর্টাল খোলার সময়সীমা ও সময়সূচী
পর্ষদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই সুযোগ বারবার দেওয়া হবে না। নাম নথিভুক্তকরণ বা এনরোলমেন্ট (Enrollment) এবং ভুল সংশোধনের জন্য পর্ষদ তাদের অনলাইন পোর্টালটি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই পোর্টালটি খোলা থাকবে মাত্র ২৪ ঘন্টার জন্য।
নির্ধারিত সময়সূচী:
| বিবরণ | সময় ও তারিখ |
|---|---|
| পোর্টাল খোলার সময় | ২৭শে জানুয়ারি, দুপুর ১২টা থেকে |
| পোর্টাল বন্ধের সময় | ২৮শে জানুয়ারি, দুপুর ১২টা পর্যন্ত |
| সংশোধিত অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ | ২৯শে জানুয়ারি |
কেন নেওয়া হলো এই জরুরি পদক্ষেপ?
পরীক্ষার একদম শেষ মুহূর্তে এসে পর্ষদের এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল কারণ হলো বিভিন্ন স্কুলের প্রশাসনিক গাফিলতি। পর্ষদ লক্ষ্য করেছে যে, বেশ কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষের অসতর্কতার কারণে অনেক বৈধ পরীক্ষার্থীর নাম পর্ষদের কাছে জমা পড়েনি। আবার অনেক ক্ষেত্রে জমা পড়া তথ্যে বড়সড় ভুলভ্রান্তি রয়ে গেছে। পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনোভাবেই একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, সেই মানবিক দিক বিবেচনা করেই পর্ষদ এই ‘লাস্ট মিনিট’ সুযোগ প্রদান করছে।
কারা এই বিশেষ সুযোগের আওতাভুক্ত?
এই পোর্টাল খোলার সুবিধা সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয়। পর্ষদ নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে এই সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে। যে সমস্ত পরীক্ষার্থী নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করেছে, শুধুমাত্র তাদের জন্যই স্কুলগুলি আবেদন করতে পারবে:
- টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ: সংশ্লিষ্ট ছাত্র বা ছাত্রীকে অবশ্যই স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
- উপস্থিতির হার: নবম এবং দশম শ্রেণি মিলিয়ে ওই পড়ুয়ার ক্লাসে উপস্থিতির হার অন্ততপক্ষে ৭০ শতাংশ হতে হবে।
স্কুলের দায়িত্ব এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অভিভাবক বা ছাত্রছাত্রীরা ব্যক্তিগতভাবে পর্ষদে আবেদন করতে পারবেন না। স্কুলগুলিকে নির্দিষ্ট লেট ফি (Late Fee) এবং জরিমানা জমা দিয়ে পোর্টালের মাধ্যমে যাবতীয় সংশোধন বা এনরোলমেন্ট করতে হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেও পর্ষদ অকৃতকার্য পড়ুয়াদের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দিয়েছিল, যেখানে স্কুলগুলিকে ছাত্রপিছু ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হয়েছিল। এবারের বিজ্ঞপ্তিতেও পর্ষদ কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। যে সমস্ত স্কুলের ভুলের জন্য পরীক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি পোহাতে হলো, সেই সমস্ত দোষী স্কুলগুলির বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পর্ষদ সতর্কবার্তা দিয়েছে।
২৯শে জানুয়ারি স্কুলগুলিকে পর্ষদের ক্যাম্প অফিস থেকে সংশোধিত অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। যেহেতু সময় অত্যন্ত কম, তাই স্কুলগুলিকে চূড়ান্ত সতর্কতার সাথে এবং দ্রুততার সাথে এই কাজটি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় সুযোগ। যদি কোনো পরীক্ষার্থীর তথ্যে ভুল থাকে বা নাম বাদ পড়ে গিয়ে থাকে, তবে অবিলম্বে স্কুলের সাথে যোগাযোগ করা বাঞ্ছনীয়। কারণ এই ২৪ ঘন্টার সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আর কোনো সুযোগ পাওয়া যাবে না।