ইনকাম ট্যাক্স

Credit Card Rules: ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে আয়কর দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা

New Credit Card Rules Income Tax
New Credit Card Rules Income Tax

New Credit Card Rules: ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার আর শুধুমাত্র মেট্রো শহরগুলিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ছোট শহরগুলিতেও এর ব্যাপক প্রচলন ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে এবং কর ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে আয়কর বিভাগ। আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত একাধিক নিয়মে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ করদাতা এবং কার্ড ব্যবহারকারীদের ওপর। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ড্রাফট ইনকাম রুলস ২০২৬’-এ এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সূচিপত্র

লেনদেনে নজরদারি এবং রিপোর্টিংয়ের নিয়ম

নতুন খসড়া বা ড্রাফট অনুযায়ী, ১৯৬২ সালের পুরনো নিয়মকে সরিয়ে নতুন বিধান আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বড় অংকের লেনদেনের ওপর নজরদারি।

  • ক্যাশলেস পেমেন্ট: যদি কোনও ব্যক্তি এক অর্থবর্ষে ইউপিআই (UPI), চেক বা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মতো ডিজিটাল মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ডের বিল বাবদ ১০ লক্ষ টাকার বেশি পেমেন্ট করেন, তবে ব্যাঙ্ক বা কার্ড প্রদানকারী সংস্থাকে বাধ্যতামূলকভাবে সেই তথ্য আয়কর বিভাগকে জানাতে হবে।
  • নগদ পেমেন্ট: আগে থেকেই নিয়ম ছিল, তবে এবার আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ক্রেডিট কার্ডের বিলে ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা করলে তাও রিপোর্টিংয়ের আওতায় আসবে।
Advertisement

প্যান কার্ড এবং কেওয়াইসি (KYC) আপডেট

ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি ও বেনামি লেনদেন রুখতে প্যান কার্ড সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর হতে চলেছে।

  • কার্ড ইস্যুতে প্যান বাধ্যতামূলক: প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্যান কার্ড ছাড়া গ্রাহককে নতুন ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে না। অর্থাৎ, প্যান নম্বর প্রদান করা এখন আবশ্যিক শর্ত।
  • প্যান আবেদনের নথি: অন্যদিকে সুবিধাও বাড়ছে। প্যান কার্ডের জন্য আবেদন করার সময় এখন থেকে ক্রেডিট কার্ডের স্টেটমেন্টকে ‘অ্যাড্রেস প্রুফ’ বা ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে শর্ত হলো, সেই স্টেটমেন্টটি তিন মাসের বেশি পুরনো হওয়া চলবে না।

কর্পোরেট কার্ড এবং কর ব্যবস্থা

চাকরিজীবীদের জন্য, বিশেষ করে যারা অফিসের কাজে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন, তাদের জন্য নিয়মে বড় বদল আসছে। যদি কোনও কোম্পানি তার কর্মচারীকে ক্রেডিট কার্ড দেয় এবং তার বার্ষিক ফি বা মেম্বারশিপ চার্জ কোম্পানি বহন করে, তবে সেটিকে ‘Perquisite’ বা বাড়তি সুবিধা হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে এই অর্থ কর্মচারীর মোট আয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং তার ওপর কর ধার্য হবে। তবে, যদি উপযুক্ত প্রমাণ ও রেকর্ড সহ দেখানো যায় যে কার্ডটি শুধুমাত্র অফিসের কাজের জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে কর ছাড় পাওয়া যাবে।

এছাড়া, কর দাখিলের প্রক্রিয়া সহজ করতে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড এবং নেট ব্যাঙ্কিংকে কর প্রদানের অফিশিয়াল মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে করদাতারা আরও সহজে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্যাক্স পেমেন্ট করতে পারবেন।

ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য এবং এটি কোনো আর্থিক পরামর্শ নয়। যেকোনো বিনিয়োগ বা কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>