সহায়িকা ও নিয়মাবলী

New Voter Card: ২০২৬ সালে নতুন ভোটার কার্ডের আবেদন এখন আরও সহজ, জানুন বাড়িতে বসে ফর্ম ৬ ফিলাপের সম্পূর্ণ পদ্ধতি

New Voter Card
New Voter Card

New Voter Card: ২০২৬ সালের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নাগরিক অধিকারের কথা মাথায় রেখে নতুন ভোটার কার্ড তৈরির প্রক্রিয়াটি এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও আরও সহজ করা হয়েছে। আপনি যদি ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী হন এবং এখনও ভোটার তালিকায় আপনার নাম না থাকে, তবে এখনই উপযুক্ত সময় আবেদন করার। নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করে বাড়িতে বসেই আপনি এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন। তবে আবেদন শুরু করার আগে সঠিক নথিপত্র এবং পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

সূচিপত্র

আবেদনের পূর্বে নথিপত্র প্রস্তুতি

অনলাইনে আবেদন শুরু করার আগে হাতের কাছে কিছু নির্দিষ্ট নথিপত্র স্ক্যান করে রাখা প্রয়োজন। এতে ফর্ম ফিলাপ করার সময় কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হবে না।

  • ছবি: একটি পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি (জেপিজি ফরম্যাট, সর্বোচ্চ ২ এমবি)।
  • বয়সের প্রমাণপত্র: বার্থ সার্টিফিকেট, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা আধার কার্ডের যেকোনো একটি (পিডিএফ বা জেপিজি, সর্বোচ্চ ২ এমবি)।
  • ঠিকানার প্রমাণপত্র: আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ব্যাংক পাসবুক, অথবা জল/বিদ্যুৎ/গ্যাসের বিল।
  • বিশেষ দ্রষ্টব্য (বিবাহিত মহিলাদের জন্য): বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির ঠিকানায় ভোটার কার্ড করার ক্ষেত্রে যদি নিজের নামে কোনো অ্যাড্রেস প্রুফ না থাকে, তবে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ‘রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ করে তা আপলোড করা যেতে পারে।
Advertisement

পোর্টাল রেজিস্ট্রেশন ও লগইন প্রক্রিয়া

আবেদন করার জন্য প্রথমে আপনাকে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

১. রেজিস্ট্রেশন: সরাসরি voters.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Sign Up’ অপশনে ক্লিক করুন। আপনার মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা কোড দেওয়ার পর নাম ও পদবী দিয়ে ওটিপি ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করলেই রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে।
২. লগইন: রেজিস্ট্রেশনের পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করুন। এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘New Voter Registration’ সেকশনের অন্তর্গত ‘Fill Form 6’ অপশনটি বেছে নিন।

ফর্ম ৬ পূরণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ

ফর্ম ৬ পূরণ করার সময় তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি তথ্য সতর্কতার সাথে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

  • ব্যক্তিগত ও আধার তথ্য: প্রথমেই রাজ্য, জেলা ও বিধানসভা কেন্দ্র নির্বাচন করতে হবে। নিজের নাম ইংরেজিতে টাইপ করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলায় চলে আসবে। বানান ভুল থাকলে অন-স্ক্রিন কিবোর্ড ব্যবহার করে তা সংশোধন করে নিন। আধার নম্বর থাকলে তা নির্দিষ্ট স্থানে বসান, না থাকলে চেক বক্সে টিক দিন।
  • পারিবারিক ও যোগাযোগের তথ্য: বাবা, মা বা স্বামী—যেকোনো একজন অভিভাবকের নাম ও সম্পর্ক উল্লেখ করুন। মোবাইল নম্বর নিজের দেওয়াই শ্রেয়, তবে প্রয়োজনে আত্মীয়ের নম্বর দিয়ে ‘Relative’ অপশন সিলেক্ট করা যাবে।
  • ঠিকানা ও ঘোষণা: আপনার বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা নির্ভুলভাবে লিখুন। আপনি ওই ঠিকানায় কতদিন ধরে বসবাস করছেন, তা ‘Declaration’ অংশে উল্লেখ করতে হবে।

জমা দেওয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ

ফর্মটি সম্পূর্ণ পূরণ করার পর ‘Preview and Submit’ এ ক্লিক করে সমস্ত তথ্য শেষবারের মতো মিলিয়ে নিন। এরপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করলে আধার ওটিপি-র মাধ্যমে ই-সাইন (e-Sign) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদন সফলভাবে জমা হলে আপনি একটি Reference Number পাবেন। এই নম্বরটি যত্ন করে লিখে রাখুন, কারণ পরবর্তীতে ‘Track Application Status’ অপশনে গিয়ে আপনার কার্ডের স্থিতি জানতে এটি প্রয়োজন হবে। আবেদন জমা পড়ার পর আপনার এলাকার বিএলও (BLO) নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, অথবা শুনানির (Hearing) জন্য ডাকতে পারেন। সঠিক যাচাইকরণ শেষে আপনার ভোটার কার্ডটি জেনারেট হয়ে যাবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>