দেশ

RTO New Rules: ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বিমা নিয়ে বড় বদল! ৪০-৬০ বছর বয়সীদের জন্য বিরাট স্বস্তি, তবে ভুল করলেই লাইসেন্স বাতিল

RTO New Rules: কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রক দেশের গাড়ি চালক এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিয়মনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। এতদিন ধরে চলে আসা বেশ কিছু পুরনো নিয়ম যেমন শিথিল করা হচ্ছে, ঠিক তেমনই সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং চালকদের দায়িত্ববান করতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। মূলত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।

৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য বড় স্বস্তি

এতদিন পর্যন্ত নিয়ম ছিল যে, কোনো ব্যক্তির বয়স ৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হলে, ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License) নতুন করে তৈরি বা রিনিউ করার সময় একজন চিকিৎসকের থেকে ফিজিক্যাল ফিটনেস বা মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এটি সাধারণ মানুষের জন্য বেশ ঝক্কির কারণ হয়ে দাঁড়াত। ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া, ফি দেওয়া এবং সেই সার্টিফিকেট আরটিও অফিসে জমা দেওয়া—পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়সাপেক্ষ। অনেক ক্ষেত্রে দালালদের দৌরাত্ম্যও বাড়ত এই নিয়মের কারণে।

তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী নাগরিকদের জন্য এই মেডিকেল সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা যেমন কমবে, তেমনই লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াও অনেক দ্রুত হবে।

ট্রাফিক আইন ভাঙলে চালু হচ্ছে ‘পয়েন্ট সিস্টেম’

সড়ক সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতে সরকার এবার জরিমানা আদায়ের বাইরেও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে। শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে ফাইন দিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এবার থেকে চালু হচ্ছে বিশেষ “পয়েন্ট সিস্টেম” (Penalty Point System)।

বিষয়টি অনেকটা এরকম—একজন চালক যতবার ট্রাফিক নিয়ম ভাঙবেন, ততবার তাঁর লাইসেন্সে নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘নেগেটিভ পয়েন্ট’ যোগ হতে থাকবে। এই পয়েন্টের সংখ্যা যদি একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তবে ওই চালকের লাইসেন্স সাময়িকভাবে সাসপেন্ড বা বাতিল করা হতে পারে। অর্থাৎ, বারবার ভুল করলে স্টিয়ারিং ধরার অধিকারই কেড়ে নেওয়া হবে। এর ফলে বেপরোয়া গাড়ি চালানো কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খারাপ ড্রাইভিংয়ের প্রভাব পড়বে বিমার প্রিমিয়ামে

আপনার গাড়ি চালানোর ধরণ বা ‘ড্রাইভিং বিহেভিয়ার’-এর ওপর এবার থেকে নির্ভর করবে আপনার গাড়ির ইনস্যুরেন্স বা বিমার খরচ। যদি কোনো চালকের ট্রাফিক ভায়োলেশনের রেকর্ড খারাপ হয় এবং লাইসেন্সে পেনাল্টি পয়েন্ট বেশি থাকে, তবে পরবর্তী সময়ে গাড়ির বিমা রিনিউ করার সময় তাঁকে বেশি টাকা প্রিমিয়াম গুণতে হবে। অন্যদিকে, যারা নিয়ম মেনে গাড়ি চালাবেন, তাঁরা সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, পকেটের টাকা বাঁচাতে হলে এবার থেকে রাস্তায় সাবধানে গাড়ি চালানো বাধ্যতামূলক হতে চলেছে।

ডিজিটাল ইন্ডিয়া: ঘরে বসেই সব কাজ

আরটিও (RTO) অফিসের লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ হতে চলেছে। আধার কার্ড ব্যবহার করে এখন গাড়ির মালিকানা বদল বা কেনা-বেচার মতো কাজগুলি বাড়ি বসেই করা সম্ভব হবে। এছাড়া, ড্রাইভিং লাইসেন্সে ঠিকানা পরিবর্তন বা মোবাইল নম্বর আপডেট করার জন্য আর অফিসে ছোটাছুটি করতে হবে না। নিজের স্মার্টফোন থেকেই এই কাজগুলি সেরে ফেলা যাবে। সরকারের এই ডিজিটাল উদ্যোগে একদিকে যেমন সময় বাঁচবে, অন্যদিকে স্বচ্ছতাও বজায় থাকবে।

সামগ্রিকভাবে, নতুন এই নিয়মগুলি ভালো চালকদের পুরস্কৃত করবে এবং যারা নিয়ম ভাঙেন, তাঁদের ওপর কড়া নজরদারি চালাবে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button