SLST Case Update: সুপ্রিম কোর্টের চরম ভৎসনা এসএসসি কে, জেনে নিন আদালতের সর্বশেষ নির্দেশ

SLST Case Update: সুপ্রিম কোর্টে SLST মামলার শুনানিতে বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলাটি নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ছিল এবং আজকের শুনানিতে তার অনেকটাই নিরসন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আসুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী
- ‘দাগী’ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ: আদালত স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (SSC) সাত দিনের মধ্যে ‘কলঙ্কিত’ বা ‘টেনটেটিভ’ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে। এই তালিকা সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করতে হবে।
- পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে না ‘দাগী‘ প্রার্থীরা: আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কোনো ‘কলঙ্কিত’ প্রার্থী পরীক্ষায় বসতে পারবে না এবং তাদের নামে কোনো অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হবে না।
- পরীক্ষা স্থগিত নয়: বিচারপতিরা জানিয়েছেন যে পরীক্ষা স্থগিত করার কোনো প্রয়োজন নেই। SSC-ও পরীক্ষা স্থগিত করতে চায় না বলে জানিয়েছে।
- বয়সের ছাড়: সমস্ত যোগ্য এবং অ-কলঙ্কিত চাকরিপ্রার্থী যারা চাকরিরত ছিলেন, তাদের ৭ এবং ১৪ তারিখের পরীক্ষায় বসার জন্য বয়সের ছাড় দেওয়া হবে।
SSC-র অবস্থান এবং আদালতের প্রতিক্রিয়া
SSC-র আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি আদালতে জানান যে, অ্যাডমিট কার্ড সাময়িকভাবে ইস্যু করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত যাচাইয়ের সময় ‘দাগী’ প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু আদালত এই যুক্তি মানতে নারাজ। বিচারপতিরা স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, ‘দাগী’ প্রার্থীরা কোনোভাবেই পরীক্ষায় বসতে পারবে না। কল্যাণ ব্যানার্জি আরও জানান যে, প্রায় ১৯০০ জন প্রার্থীকে ‘দাগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, আবেদনকারী সমস্ত ‘দাগী’ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং তাদের আবেদনপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে।
শূন্যপদ নিয়ে উদ্বেগ
যোগ্য শিক্ষকদের আইনজীবীরা আদালতে জানান যে, SSC বিষয় এবং বিভাগ অনুযায়ী শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করেনি। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, ২০১৬ সালের শূন্যপদের সঙ্গে ২০২৫ সালের তালিকায় গরমিল রয়েছে এবং কিছু বিষয়ে শূন্যপদের সংখ্যা কমে গেছে বা শূন্য হয়ে গেছে। এই বিষয়ে SSC-কে জবাব দিতে হবে বলে আদালত জানিয়েছে।
চূড়ান্ত নির্দেশ
আদালত চূড়ান্ত নির্দেশে জানিয়েছে যে, পরীক্ষা নির্ধারিত ৭ এবং ১৪ তারিখেই হবে। যোগ্য প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় বসতে পারে এবং কোনো ‘দাগী’ প্রার্থী যাতে পরীক্ষায় না বসে, তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘দাগী’ প্রার্থীদের তালিকা সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ করার নির্দেশ পুনরায় দেওয়া হয়েছে।
এই রায় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, SSC আদালতের নির্দেশ কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে পালন করে এবং আগামী দিনে নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা মসৃণ হয়।