শিক্ষা

SSC 2016 Teachers: চাকরি ফেরাতে বিধানসভায় বিল? মুখ্যমন্ত্রীকে বড় প্রস্তাব বঞ্চিত শিক্ষক সুমন বিশ্বাসের!

SSC 2016 Teachers: এসএসসি ২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর চাকরিহারা হাজার হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এই পরিস্থিতিতে বঞ্চিত ও ‘আনটেইনটেড’ (Untainted) বা নির্দোষ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সুমন বিশ্বাস একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে রাজ্য সরকার এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও দাবি পেশ করেছেন। তাঁর এই বার্তার মূল লক্ষ্য হলো নির্দোষ শিক্ষকদের সম্মান ও জীবিকা রক্ষা করা।

সরকারের কাছে আলোচনার প্রস্তাব ও দাবি

সুমন বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে রাজ্য সরকারের কাছে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কাছে সময় চেয়েছেন যাতে এই জটিল পরিস্থিতির একটি সম্মানজনক সমাধান বের করা যায়। তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও রাজ্য সরকার চাইলে বিধানসভায় বিশেষ বিল পাস করে নির্দোষ শিক্ষকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে পারে। যারা গত সাত-আট বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন, হঠাৎ করে তাঁদের বেতন বন্ধ হওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া থেকে বাঁচাতে আইনি সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

প্যানেল মেয়াদ ও দুর্নীতির অভিযোগ খণ্ডন

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে যে প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ (Panel Expired) হওয়ার পর যারা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের কেন দুর্নীতিগ্রস্ত বলা হবে না। এই বিষয়ে সুমন বিশ্বাস স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন:

  • এসএসসির দায়: এসএসসি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও তারা তথ্য গোপন করেছে। র্যাংক জাম্প বা নিয়োগে অনিয়মের জন্য বোর্ড দায়ী, সাধারণ প্রার্থীরা নন।
  • প্যানেল এক্সপায়ার মানেই দুর্নীতি নয়: প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়োগ হতে পারে। এসএসসিকে জনসমক্ষে বা বিধানসভায় ব্যাখ্যা দিতে হবে যে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এই নিয়োগগুলো হয়েছিল।
  • ওএমআর শিট বিতর্ক: সিএফএসএল (CFSL) রিপোর্ট বা ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ কপি কেন জনসমক্ষে আনা হলো না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এবং সুপ্রিম কোর্টের এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন।

মানবিক আবেদন ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

সুমন বিশ্বাস মনে করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া হাজার হাজার মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সাত-আট বছর চাকরি করার পর পুনরায় পরীক্ষায় বসার নির্দেশকে তিনি অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই চাকরির সাথে অনেকের ব্যাঙ্ক ঋণ, পৈত্রিক ভিটা এবং পরিবারের বেঁচে থাকার প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। সুবল সরেন বা সন্তোষদার মতো সহকর্মীরা ইতিমধ্যেই এই মানসিক চাপে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবিধানে মানুষের কর্ম কেড়ে নেওয়ার কথা কোথাও বলা নেই, বরং ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে।

সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব

সরকার যদি সদিচ্ছা দেখায়, তবে এই জট কাটানো সম্ভব বলে মনে করেন সুমন বিশ্বাস। তিনি সরকারের কাছে নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলি রেখেছেন:

বিষয়প্রস্তাবিত পদক্ষেপ
আইনি সুরক্ষাবিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে বিল এনে নির্দোষ শিক্ষকদের পৃথক করে সুরক্ষা প্রদান করা।
শূন্যপদ ও নিয়োগ২০১৬ প্যানেলের সর্বনিম্ন কাট-অফ নম্বরকে ভিত্তি করে শূন্যপদ বৃদ্ধি করে নিয়োগ সুনিশ্চিত করা।
শিক্ষাকর্মীদের রক্ষা৩৩৯৪ জন যোগ্য শিক্ষাকর্মীকে রক্ষায় সরকারকে সুপ্রিম কোর্টে জোরালো সওয়াল করতে হবে।
আর্থিক সুরক্ষাসরকার চাইলে অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মতো শিক্ষকদেরও বিশেষ ভাতা বা আর্থিক সুরক্ষা দিতে পারে।

পরিশেষে, সুমন বিশ্বাস আশা প্রকাশ করেন যে ২০২৫ সালের শুরুতে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মানবিকতার পরিচয় দিয়ে বঞ্চিতদের সাথে আলোচনায় বসবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই লড়াই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের পক্ষে।

দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে তৈরি এবং এটি সুমন বিশ্বাসের ভিডিও বার্তার সারসংক্ষেপ মাত্র। কোনো আইনি পরামর্শের জন্য বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button