চাকরি

SSC Case Hearing: এসএসসি মামলায় হাইকোর্টে তুলকালাম! প্যানেল ও তালিকা নিয়ে বড় মোড়, জানুয়ারিতে চূড়ান্ত ফয়সালা?

SSC Case Hearing: কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে আজ স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি মামলাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নবম দশম এবং একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া এবং ‘নট স্পেশালি ফাউন্ড টু বি টেইনটেড’ অর্থাৎ যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সরাসরি প্রমাণ মেলেনি, তাদের তালিকা প্রকাশ নিয়েই মূলত এই বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত। আজ আদালতের পরিবেশ ছিল রীতিমতো থমথমে এবং বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ লক্ষ্য করা যায়।

বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু

আজকের শুনানিতে মূলত আইটেম নম্বর ৭ এবং ৯ ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে নবম দশম শ্রেণীর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কমিশন ইতিমধ্যেই যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা পৃথক করেছে। কিন্তু সমস্যা ঘনীভূত হয় একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়োগ নিয়ে। মামলাকারীদের দাবি ছিল, অবিলম্বে সেই সমস্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হোক যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।

আইনজীবীদের সওয়াল ও পাল্টা যুক্তি

আদালতে আজ পিটিশনার এবং কমিশনের আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ সওয়াল জবাব চলে। উভয় পক্ষের যুক্তি ছিল অত্যন্ত ধারালো। নিচে উভয় পক্ষের প্রধান যুক্তিগুলি একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

পক্ষআইনজীবীমূল যুক্তি ও দাবি
পিটিশনারবিক্রম ব্যানার্জীসুপ্রিম কোর্টের ২৬শে নভেম্বরের নির্দেশ মেনে অবিলম্বে তালিকা প্রকাশ করতে হবে। ২০১৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী একাদশ দ্বাদশের প্যানেলের মেয়াদ বৃদ্ধির সংস্থান নেই, তাই মেয়াদ শেষের পর নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীরা অবৈধ।
কমিশন ও পর্ষদকল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মেনকা গুরুস্বামীসুপ্রিম কোর্ট যোগ্য প্রার্থীদের সুরক্ষা দিয়েছে এবং তাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিয়েছে। ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার বিপুল চাপ রয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য না শুনে একতরফা নির্দেশ দেওয়া উচিত নয়।

বিরতির আগে ও পরে: বিচারপতির অবস্থান পরিবর্তন

আজকের শুনানির সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি ছিল দুপুরের বিরতি বা টিফিন ব্রেকের সময়। বিরতির আগে বিচারপতি প্যানেলের মেয়াদ এবং তালিকা প্রকাশের বিষয়ে বেশ কঠোর মনোভাব পোষণ করেছিলেন এবং প্রাথমিকভাবে ৪ সপ্তাহের মধ্যে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার কথাও ভাবছিলেন।

তবে বিরতির পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। কমিশনের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোরালো সওয়ালের মুখে বিচারপতি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, হাজার হাজার প্রার্থীর মধ্য থেকে ‘টেইনটেড’ বা দুর্নীতিগ্রস্তদের পৃথক করা এবং নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। তাড়াহুড়ো করে নির্দেশ দিলে আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে।

জানুয়ারিতে পরবর্তী শুনানি

শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ বাদানুবাদের পর আদালত আজ কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি। তাৎক্ষণিক তালিকা প্রকাশের বদলে বিচারপতি সকল পক্ষকে এফিডেভিট বা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বর্তমান চাকরিপ্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

আদালতের এই সিদ্ধান্ত চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি করলেও, আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার স্বার্থে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button