শিক্ষা

TET Mandatory Case: কর্মরত শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক টেট: ২রা এপ্রিল মামলার শুনানির দিন ধার্য

A Gavel With Supreme Court And Teacher In Class
A Gavel With Supreme Court And Teacher In Class

TET Mandatory Case: ৫ বছরের বেশি সময় ধরে চাকরিতে কর্মরত অথচ টেট (TET) পাস করেননি, এমন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। “আঞ্জুমান ইশাদ ই তালিম ট্রাস্ট বনাম মহারাষ্ট্র রাজ্য” (Anjuman-E-Ishat-E-Talim Trust vs The State of Maharashtra) মামলাটির দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ২রা এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এই মামলার রায় কর্মরত বহু শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন, তাদের জন্য এই আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সূচিপত্র

প্রেক্ষাপট ও শিক্ষকদের উৎকণ্ঠা

দেশের অগণিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে এই মামলাটি বর্তমানে প্রবল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আদালত একটি যুগান্তকারী নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে, যে সকল শিক্ষক ৫ বছরের বেশি সময় ধরে চাকরিতে বহাল আছেন কিন্তু তাদের টেট পাস করা নেই, তাদেরও বাধ্যতামূলকভাবে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এই নির্দেশের পরেই শিক্ষক মহলে চরম উৎকণ্ঠা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। বহু বছর ধরে যারা দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষাদান করছেন, তাদের আচমকা এই পরীক্ষার মুখে পড়ার খবরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। এই পরিস্থিতিতে চাকরি বাঁচানোর তাগিদে পরবর্তীতে বহু শিক্ষক ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের তরফ থেকে আদালতের কাছে একাধিক রিভিউ পিটিশন (Review Petition) দাখিল করা হয়।

Advertisement

২রা এপ্রিলের শুনানির বিস্তারিত তথ্য

দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির কোনো অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল। তবে অবশেষে শুনানির একটি নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশিত হয়েছে, যা নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। আদালতের ওয়েবসাইটের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী:

  • শুনানির তারিখ: আগামী ২রা এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে এই মামলার শুনানি হবে।
  • তালিকাভুক্তি ও সিরিয়াল নম্বর: ওয়েবসাইটের তথ্য মোতাবেক, মামলাটি ৮ নম্বর সিরিয়ালে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
  • কোর্ট নম্বর: অভ্যন্তরীণ তথ্য থেকে জানা গেছে যে, মামলাটি ২রা এপ্রিল কোর্ট নম্বর ১-এর মিসলেনিয়াস হেয়ারিং লিস্টে (Miscellaneous Hearing List) রাখা হয়েছে।
  • নতুন রিট পিটিশন: সেখানে আপাতত শুধুমাত্র দুটি রিট পিটিশন তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রথমটি হলো ১১২৫/২০২৫ (শিক্ষক মহাসংঘ বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া) এবং দ্বিতীয়টি হলো ১২৪৮/২০২৫ (ছায়াবিদ্যা ডান্ডবালে এবং অন্যান্য বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া)। এই দুটি পিটিশন মূলত ফ্রেশ অ্যাডমিশনের (Fresh Admission) জন্য লিস্টেড হয়েছে।

অস্পষ্টতা ও কর্মীদের ওপর প্রভাব

শুনানির দিনক্ষণ স্থির হলেও বেশ কিছু আইনি ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ওয়েবসাইটে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট বিচারপতির নাম বা ঠিক কোন বেঞ্চে এই শুনানি পরিচালিত হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এর ফলে শিক্ষকদের মধ্যে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে, পুরনো সমস্ত রিভিউ পিটিশনগুলোর শুনানি ওই একই দিনে হবে কি না। যদি আদালত আগের নির্দেশ বহাল রাখে, তবে হাজার হাজার কর্মরত শিক্ষককে চাকরি বাঁচাতে নতুন করে টেট প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্যদিকে আদালত যদি কোনো ছাড় দেয়, তবে সেটি একটি বড় স্বস্তি হিসেবে গণ্য হবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও চূড়ান্ত চিত্র

আগামী ২রা এপ্রিল সমস্ত রিভিউ পিটিশন একত্রে শোনা হবে কি না, তা আদালতের বর্তমান তালিকা থেকে পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ১লা এপ্রিল যখন আদালতের অফিস রিপোর্ট (Office Report) প্রকাশিত হবে, তখন এই ধোঁয়াশা কেটে যাবে। ওই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে, এই মামলার ঠিক কোন কোন অংশের বা পিটিশনের শুনানি ২রা এপ্রিল হতে চলেছে। তাই আপাতত ১লা এপ্রিলের অফিস রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>