RTE Act Challenge: শিক্ষার অধিকার আইন বা রাইট টু এডুকেশন (RTE) অ্যাক্ট ২০০৯-এর সেকশন ২৩(২)-এর বৈধতা নিয়ে সম্প্রতি একটি বড়সড় আইনি চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে টেট (TET) রিভিউ মামলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের পরই এলাহাবাদ হাইকোর্টে এই আইনের নির্দিষ্ট একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হয়েছে নতুন রিট পিটিশন। এই মামলায় সরাসরি ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত, যা গোটা দেশের শিক্ষা জগতে এবং বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ ও কর্মরত শিক্ষকদের যোগ্যতামান নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূচিপত্র
আরটিই অ্যাক্ট ২০০৯: সেকশন ২৩(১) বনাম সেকশন ২৩(২)
আরটিই আইনের ২৩ নম্বর ধারায় শিক্ষকদের যোগ্যতামান নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপধারা রয়েছে। এই উপধারাগুলি ভালোভাবে না বুঝলে মামলার মূল ভিত্তি বোঝা কঠিন:
- সেকশন ২৩(১) (প্রস্পেক্টিভ ইফেক্ট): এই ধারা অনুযায়ী, যে কোনো ব্যক্তি (Any person) যিনি ভবিষ্যতে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হতে চান, তাকে সরকার বা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এটি মূলত নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।
- সেকশন ২৩(২) (রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট): এই ধারাটি আগে থেকেই কর্মরত শিক্ষকদের (A teacher) জন্য প্রযোজ্য। এতে বলা হয়েছে, যে সকল কর্মরত শিক্ষকদের আইনের শুরুতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না, তাদের নির্দিষ্ট সময়ের (প্রাথমিকভাবে ৫ বছর) মধ্যে সেই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং নতুন মামলার ভিত্তি
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে প্রাথমিক টেট সংক্রান্ত একটি রিভিউ মামলা চলাকালীন মাননীয় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আনজুমান ই তালিম ট্রাস্ট মামলার আগে বা পরে কোনো আইনি পদক্ষেপে সরাসরি আরটিই অ্যাক্টের সেকশন ২৩(২)-কে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। তিনি জানান যে, দেশের সংসদ আইন প্রণয়নের সময় “এ টিচার” এবং “এনি পার্সন” শব্দ দুটি দুর্ঘটনাবশত ব্যবহার করেনি, বরং অত্যন্ত ভেবেচিন্তেই তা নির্ধারণ করেছে। মাননীয় বিচারপতির এই ব্যাখ্যার পরই নতুন আইনি পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত হয়।
এলাহাবাদ হাইকোর্টে রিট পিটিশন ও মূল অভিযোগ
সুপ্রিম কোর্টের Observations-এর পরেই, এলাহাবাদ হাইকোর্টে ‘রোমা ভার্মা বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। পিটিশনারের পক্ষে মূল অভিযোগগুলি হলো:
- সেকশন ২৩(২)-এর রেট্রোস্পেক্টিভ বা অতীতমুখী প্রয়োগ আসলে সেকশন ২৩(১)-এর পরিপন্থী বা আল্ট্রা ভায়ারেস (Ultra vires)।
- এই ধারাটি ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ১৪ (আইনের চোখে সমতা) এবং আর্টিকেল ১৬ (সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ)-এর সরাসরি লঙ্ঘন করছে। অভিযোগকারীদের মতে, কর্মরত শিক্ষকদের উপর নতুন করে যোগ্যতার শর্ত চাপানো মৌলিক অধিকার খর্ব করার শামিল।
আদালতের নির্দেশ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
গত ২১শে মে, ২০২৬ তারিখে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই মামলার শুনানিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে:
- জবাব তলব: রেসপন্ডেন্ট অর্থাৎ ভারত সরকারকে (Union of India) তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি কাউন্টার এফিডেভিট বা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- রিজয়েন্ডার: পিটিশনারকে তার পর আরও দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে পাল্টা জবাব বা এফিডেভিট জমা দেওয়ার জন্য।
- অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ: যেহেতু একটি কেন্দ্রীয় আইনের (এনাক্টমেন্ট) বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই আদালত সরাসরি ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেলকে এই বিষয়ে নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিয়েছে।
চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষকদের জন্য এর তাৎপর্য
এই মামলাটি গোটা ভারতের শিক্ষক সমাজের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যারা অনেক দিন ধরে শিক্ষকতা করছেন, কিন্তু নতুন নিয়মের কারণে যোগ্যতার সংকটে পড়েছেন, তাদের জন্য এই রায় একটি নতুন দিকনির্দেশনা হতে পারে। ভারত সরকার এবং অ্যাটর্নি জেনারেল এই রেট্রোস্পেক্টিভ ধারার বৈধতা নিয়ে আদালতে কী আইনি যুক্তি পেশ করেন, তার ওপর নির্ভর করছে বহু কর্মরত শিক্ষকের ভবিষ্যৎ। আগামী ৩রা আগস্ট, ২০২৬ তারিখে এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত রয়েছে। কর্মরত শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীরা এই মামলার পরবর্তী আপডেটগুলির দিকে নজর রাখছেন এবং পেশাগত প্রস্তুতির বিষয়ে সতর্ক থাকছেন।









