TET Supreme Court: গত ২৮শে এপ্রিল ২০২৬, সুপ্রিম কোর্টে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল টেট (TET) মামলার রিভিউ পিটিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি (ক্লোজ চেম্বার হেয়ারিং) সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সবচেয়ে বড় এবং স্বস্তিদায়ক খবর হলো, এই রিভিউ আবেদনটি সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে খারিজ করেনি। সাধারণত শীর্ষ আদালতে বেশিরভাগ রিভিউ পিটিশন বা পুনর্বিবেচনার আবেদন প্রাথমিক পর্যায়েই দ্রুত খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে মাননীয় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ রায়টি এখনই বাতিল না করে, নিজেদের সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত (Reserved) রেখেছেন। এই পদক্ষেপ লক্ষ লক্ষ কর্মরত শিক্ষকের জন্য একটি বড় আশার আলো তৈরি করেছে।
সূচিপত্র
কী ঘটেছিল ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর রায়ে?
গত বছর অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছিল যে, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং গুণমান বজায় রাখার জন্য সমস্ত কর্মরত (in-service) শিক্ষকদের চাকরিতে বহাল থাকতে গেলে টেট (Teacher Eligibility Test) পাস করা বাধ্যতামূলক। যাদের অবসরের ৫ বছরের বেশি সময় বাকি আছে, তাদের সকলকেই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এই রায়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা দেশে লক্ষ লক্ষ অভিজ্ঞ শিক্ষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায়। অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন যে, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও একটি মাত্র পরীক্ষার কারণে তাদের চাকরি হারাতে হতে পারে।
রিভিউ পিটিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান অবস্থান
শিক্ষকদের এই অভূতপূর্ব সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার, বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন এবং বহু শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিলেন। তাদের মূল দাবি ছিল, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের উপর যেন এই নিয়ম পূর্ববর্তী প্রভাব (retrospective effect) দিয়ে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া না হয়। ২৮শে এপ্রিলের ক্লোজ চেম্বার শুনানিতে আদালত আবেদনকারীদের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। যদিও চূড়ান্ত রায় এখনও আসেনি, তবে রিভিউ পিটিশনটি খারিজ না হওয়াটাই আইনি লড়াইয়ে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত এখন গভীরভাবে বিবেচনা করছে যে এই মামলাটি একটি ওপেন হেয়ারিং (Open Hearing)-এর জন্য গ্রহণ করা হবে কি না।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা
- ওপেন হেয়ারিংয়ের জোরালো সম্ভাবনা: অভিজ্ঞ আইনজীবীদের মতে, মামলাটির গভীরতা, সারা দেশে এর প্রভাব এবং রাজ্য সরকারের সরাসরি অংশগ্রহণের কারণে ওপেন কোর্ট হেয়ারিং হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
- আইনি যুক্তিতর্কের সুযোগ: যদি আদালত ওপেন হেয়ারিংয়ের অনুমতি দেয়, তবে শিক্ষক সংগঠন এবং তাদের আইনজীবীরা পূর্ববর্তী রায়ের ত্রুটিগুলি এবং শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যাগুলি তুলে ধরার সম্পূর্ণ সুযোগ পাবেন।
- চাকরি বাঁচানোর আইনি পথ: এটি সেই সমস্ত শিক্ষকদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ, যারা এত দিন ধরে চাকরি হারানোর প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন। আইনজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপে রায় কিছুটা শিথিল হতে পারে।
এখন সারা দেশের শিক্ষক সমাজ এবং আইনি মহলের নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। চেম্বার হেয়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে কবে এই মামলার ওপেন কোর্ট হেয়ারিং শুরু হবে। আপাতত, শীর্ষ আদালতে আবেদন খারিজ না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে একটি ইতিবাচক মনোভাব এবং স্বস্তির নিশ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সত্য ও ন্যায়ের পথে এই আইনি লড়াই কতদূর অগ্রসর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।