Traffic Rules 2026: ট্রাফিক নিয়মে বড় বদল! ৫টি ভুল করলেই বাতিল হবে ড্রাইভিং লাইসেন্স, জানুন কড়া নির্দেশিকা
Traffic Rules 2026: দেশের সড়ক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে এবং চালকদের বেপরোয়া মনোভাব বদলাতে কেন্দ্র সরকার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস ২০২৬’-এর আওতায় ট্রাফিক নিয়মে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন কেবলমাত্র বড়সড় দুর্ঘটনা বা অপরাধের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকি থাকত, কিন্তু নতুন নিয়মে ছোটখাটো ভুলের পুনরাবৃত্তিও আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স কেড়ে নিতে পারে।
সরকারের মূল লক্ষ্য হলো শাস্তির ভয় দেখিয়ে চালকদের ব্যবহারে পরিবর্তন আনা এবং সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমানো। নিচে নতুন নিয়মাবলীর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
লাইসেন্স বাতিলের নয়া সমীকরণ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো চালক যদি এক বছরের মধ্যে ৫ বার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করেন, তবে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করার পূর্ণ ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। এই ব্যবস্থাটিকে ‘ইভেন্ট-বেসড’ থেকে সরিয়ে ‘বিহেভিয়ারাল-বেসড’ বা আচরণগত নিয়ন্ত্রণের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
- বার্ষিক গণনা: এই নিয়মটি প্রতি বছর নতুন করে শুরু হবে। অর্থাৎ, এক বছর শেষ হওয়ার পর আপনার ভুলের সংখ্যা পুনরায় শূন্য (Reset) থেকে গণনা শুরু হবে।
- কঠোর পদক্ষেপ: আগে শুধুমাত্র মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো বা বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতো। এখন ছোট-বড় সব মিলিয়ে মোট ২৪টি ক্যাটাগরির ভুল এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কোন কোন ভুলের জন্য বিপদ বাড়বে?
সরকার মোট ২৪ ধরণের ট্রাফিক অপরাধ চিহ্নিত করেছে যা আপনার লাইসেন্স বাতিলের কারণ হতে পারে। এর মধ্যে ‘মাইনর’ বা ছোট ভুল এবং ‘মেজর’ বা বড় ভুলের কোনো তফাৎ রাখা হয়নি। প্রতিটি ভুলই সমান গুরুত্ব পাবে। নজরে থাকবে মূলত:
- গাড়ির গতিসীমা লঙ্ঘন বা ওভারস্পিডিং।
- সিট বেল্ট না বাঁধা বা হেলমেট না পরা।
- গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা।
- রেড লাইট অমান্য করা।
- ভুল দিশায় গাড়ি চালানো (Wrong Side Driving)।
- বৈধ কাগজপত্র ছাড়া রাস্তায় গাড়ি নামানো।
প্রযুক্তির কড়া নজরদারি ও আরটিওর ভূমিকা
রাস্তায় পুলিশ দাঁড়িয়ে না থাকলেও আপনার ভুল এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় ধরা পড়বে। এএনপিআর (ANPR) ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং ই-চালানের মাধ্যমে চালকদের ওপর নজর রাখা হবে। এই তথ্য সরাসরি ‘বাহন’ এবং ‘সারথি’ পোর্টালে জমা হবে।
- যখনই কোনো চালক পঞ্চম ভুলটি করবেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরটিওর (RTO) কাছে একটি অ্যালার্ট পৌঁছে যাবে।
- লাইসেন্স বাতিলের আগে চালককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ (Show Cause Notice) পাঠানো হবে।
- পরিস্থিতি বিচার করে আরটিও সতর্কবার্তা দিতে পারেন, কিছুদিনের জন্য লাইসেন্স সাসপেন্ড করতে পারেন অথবা আজীবনের জন্য বাতিলও করতে পারেন।
টোল ট্যাক্স ও এনওসি সংক্রান্ত কড়াকড়ি
শুধু ট্রাফিক নিয়ম নয়, টোল ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া রুখতেও সরকার কঠোর হয়েছে। আপনার গাড়ির যদি কোনো টোল পেমেন্ট বকেয়া থাকে, তবে বড়সড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে:
- এনওসি (NOC) আটকে যাবে: বকেয়া টোল থাকলে গাড়ির ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ পাওয়া যাবে না। এর ফলে আপনি গাড়িটি বিক্রি করতে পারবেন না বা অন্য রাজ্যে ট্রান্সফার করতে পারবেন না।
- ফিটনেস ও পারমিট সমস্যা: পুরনো ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাণিজ্যিক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট রিনিউ করা হবে না। এছাড়া কমার্শিয়াল গাড়িগুলির পারমিট পাওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং ভবিষ্যতে একটি বাধাহীন টোল ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই কঠোর পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।