শিক্ষা

University Pension Rules: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেনশন নিয়ে নতুন নির্দেশিকা

Teacher In A Modern School Classroom
Teacher In A Modern School

University Pension Rules: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারীদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রাজ্য সরকারের নতুন পদক্ষেপে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকার “পিছনের দরজা” দিয়ে প্রশাসনিক নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য পাওনা এবং পেনশনের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে। এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (JUTA), ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (CUTA) এবং পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (WBCUTA)-সহ একাধিক সংগঠন যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

সূচিপত্র

নতুন নিয়মে পেনশনে অনিশ্চয়তা

শিক্ষক সংগঠনগুলোর মূল আপত্তির জায়গাটি হলো পেনশন বন্টনের নতুন প্রস্তাবিত পদ্ধতি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী অবসর গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধি বা স্ট্যাটিউট অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং লিভ এনক্যাশমেন্টের পুরো টাকা অনুমোদন ও প্রদান করা হয়।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকার এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে পেনশন বন্টনের দায়িত্ব ‘ডিরেক্টরেট অফ পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যান্ড গ্রুপ ইনস্যুরেন্স’ (DPPG)-এর হাতে তুলে দিতে চাইছে। প্রস্তাবিত এই নিয়মে বলা হয়েছে:

  • অবসরের পর মোট পেনশনের মাত্র ৭৫ শতাংশ “প্রোভিশনাল” বা সাময়িক হিসেবে দেওয়া হবে।
  • বাকি ২৫ শতাংশ টাকা কবে, কীভাবে বা আদৌ পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই।
  • গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও পাওনা টাকার তিন-চতুর্থাংশ মেটানোর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বাকি এক-চতুর্থাংশ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

শিক্ষকদের প্রশ্ন, “বাকি ২৫ শতাংশ কি সরকারের দয়া বা খেয়ালখুশির ওপর নির্ভর করবে? নাকি তা আর কখনোই পাওয়া যাবে না?”

Advertisement

স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তার প্রশ্ন

শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিজস্ব আইন ও স্বায়ত্তশাসন রয়েছে। চাকরির শর্তাবলী মেনেই শিক্ষকরা এখানে যোগ দিয়েছিলেন। যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনেকেই অন্য ভালো পেশার সুযোগ ছেড়ে শুধুমাত্র পেনশনের নিরাপত্তার কথা ভেবেই বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষকতা বা অশিক্ষক কর্মচারীর চাকরি বেছে নিয়েছিলেন। এখন যদি হঠাৎ করে সেই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়, তবে তা তাঁদের পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

তাঁদের অভিযোগ, লিভ এনক্যাশমেন্টের অনুমোদনের জন্যও এখন সরকারের মুখাপেক্ষী হতে হবে, যা আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল। একে তাঁরা কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

উপাচার্যহীন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনিক স্থবিরতা

শুধুমাত্র আর্থিক বিষয় নয়, রাজ্যের উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলি। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো উপাচার্য নেই। এর ফলে প্রশাসনিক কাজকর্মে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক নেতাদের মতে, একদিকে প্রশাসনিক অভিভাবকহীনতা এবং অন্যদিকে আর্থিক বঞ্চনা— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা।

সংগঠনগুলোর দাবি কী?

যাদবপুর, কলকাতা, প্রেসিডেন্সি, কল্যাণী এবং মাকাউত (MAKAUT)-এর মতো প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি পেশ করেছেন:

  • পেনশন বন্টন ব্যবস্থা DPPG-এর মাধ্যমে করার প্রস্তাবিত নির্দেশিকা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
  • অবসরের সময় কোনো ছাঁটাই ছাড়াই ১০০ শতাংশ বেনিফিট প্রদান করতে হবে।
  • ২০২৫ সালে গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের যে পর্যবেক্ষণ ছিল, তা মেনে চলতে হবে।
  • উপাচার্যহীন ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবিলম্বে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে হবে।

শিক্ষক মহলের আশঙ্কা, এই ধরনের “জনবিরোধী” নীতি কার্যকর হলে মেধাবী ছাত্রছাত্রী এবং গবেষকরা ভবিষ্যতে এই পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত হবেন, কারণ কেন্দ্রীয় কাঠামোর তুলনায় রাজ্যের বেতন স্কেল এমনিতেই কম।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>