Vishwakarma Puja Date: আর মাত্র কয়েকদিন বাদেই বিশ্বকর্মা পুজো। কিন্তু এবার পুজোর দিন নিয়েই তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত জটিলতা। পঞ্জিকা মতে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনার প্রকৃত তিথি পড়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। অথচ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষিত ছুটির তালিকায় বিশ্বকর্মা পুজোর সরকারি ছুটি রাখা হয়েছে তার একদিন আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। ফলে কারখানা, গ্যারাজ, ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি আসল পুজো কোন দিন হবে, আর ছুটিই বা কবে থাকবে।
সূচিপত্র
পঞ্জিকা কী বলছে
বাংলা পঞ্জিকার হিসেব অনুযায়ী, প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ দিনে অর্থাৎ সংক্রান্তির দিনেই পালিত হয় বিশ্বকর্মা পুজো। বহুল প্রচলিত বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা অনুসারে, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ৩১ ভাদ্র পড়েছে ইংরেজি ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। সেই হিসেবে পঞ্জিকা মতে পুজোর প্রকৃত দিন ১৮ তারিখই। তবে কিছু পঞ্জিকা-ভিত্তিক প্রতিবেদনে আবার ১৭ সেপ্টেম্বরকেও বিশ্বকর্মা জয়ন্তীর দিন হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা এই বিভ্রান্তিকে আরও বাড়িয়েছে।
সরকারি ছুটির তালিকায় কী আছে
গত বছর ২৭ নভেম্বর অর্থ দফতরের (নবান্ন) তরফে ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে স্পষ্টভাবে বিশ্বকর্মা পুজোর ছুটি ধার্য হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। রাজ্য সরকারি অফিস, সরকার পোষিত স্কুল-কলেজ সেদিনই বন্ধ থাকবে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত সেই তালিকায় কোনও সংশোধনী বা নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি, অর্থাৎ সরকারি খাতায়-কলমে ছুটি ১৭ তারিখেই বহাল রয়েছে।
কেন এই ফারাক
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নির্ধারিত হয় সূর্যের রাশি পরিবর্তনের (সংক্রান্তি) সময়ের উপর ভিত্তি করে, যা প্রতিবছর ঠিক কোন দিনে বা কোন সময়ে পড়বে তা নির্ভর করে সূক্ষ্ম জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসেবের উপর। বিভিন্ন পঞ্জিকা প্রণেতাদের মধ্যে এই সংক্রান্তির সময় নিয়ে সামান্য মতপার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক, আর তার জেরেই কোনও কোনও বছর তিথি একদিন এদিক-ওদিক হয়ে যায়। সরকারি ছুটির তালিকা প্রস্তুত হয় সরকারের নিজস্ব সূত্র মেনে, বহু আগে থেকেই, ফলে পরে কোনও নির্দিষ্ট পঞ্জিকায় তারিখ ভিন্ন হয়ে গেলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে বদলানো হয় না।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য
এই তারিখ-বিভ্রান্তি নিয়ে নবান্ন বা রাজ্যের অর্থ দফতরের তরফে এখনও পর্যন্ত পৃথক কোনও ব্যাখ্যা বা সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, গেজেটেড ছুটির তালিকা একবার প্রকাশিত হয়ে গেলে তা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনেই তৈরি হয় এবং তা বদলের কোনও ইঙ্গিত এখনও মেলেনি। ফলে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ ও সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১৭ সেপ্টেম্বরই ছুটির দিন হিসেবে বহাল থাকছে।
সাধারণ মানুষের করণীয়
যাঁরা সরকারি ছুটির উপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ছুটি মিলবে ১৭ তারিখেই। তবে যাঁরা পঞ্জিকা মেনে পুজোর আচার পালন করেন, বিশেষত কল-কারখানা, গ্যারাজ, ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা ও ছোট ব্যবসায়ীরা তাঁদের অনেকেই পঞ্জিকা অনুসরণ করে ১৮ তারিখ অর্থাৎ শুক্রবার পুজো সারতে পারেন। ফলে এলাকাভেদে ও প্রতিষ্ঠানভেদে পুজোর দিন নিয়ে সামান্য পার্থক্য দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।









