Bengali Language Mandatory: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সব দপ্তর, জেলা প্রশাসন ও থানায় এবার থেকে জনসাধারণের সঙ্গে বাংলায় কথা বলা, চিঠির জবাব দেওয়া এবং অভিযোগ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নবান্ন থেকে জারি হওয়া স্মারক নং ২৯০(এ)/সি.এস./২০২৬, তারিখ ৩১/৮/২৬ অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হল।
মুখ্যমন্ত্রী ২০ জুলাই, ২০২৬ তারিখে বিধানসভায় যে ঘোষণা করেছিলেন, তারই ভিত্তিতে এই আদেশনামা তৈরি হয়েছে। মুখ্যসচিব নিজে এই নির্দেশে বাংলায় সই করেছেন, আর কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার বিভাগকে গোটা কর্মসূচির সমন্বয়কারী দপ্তর হিসেবে ঠিক করা হয়েছে।
সূচিপত্র
কী বদলাচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে
জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয় এমন সব অফিসে আবেদন গ্রহণ, উত্তর দেওয়া, নোটিশ, বিজ্ঞপ্তি ও পরিষেবা-সংক্রান্ত তথ্য যতটা সম্ভব বাংলায় দিতে হবে। বিশেষভাবে বলা হয়েছে জনঅভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কথা।
- পুলিশ থানায় এফআইআর ও অভিযোগ সংক্রান্ত যোগাযোগ বাংলায় করতে হবে
- তদন্ত-সংক্রান্ত জবাব ও অভিযোগ নিষ্পত্তি বাংলায় জানাতে হবে
- সব দপ্তরের জনপরিষেবা কাউন্টারে বাংলায় উত্তর দিতে হবে
কমিটির কাঠামো কেমন হচ্ছে
গোটা প্রকল্প তদারকির জন্য তিন স্তরের কমিটি তৈরি হচ্ছে।
| স্তর | কে দায়িত্বে | কাজ |
|---|---|---|
| রাজ্যস্তর | মুখ্যসচিব | সামগ্রিক বাস্তবায়ন ও সমন্বয় |
| দপ্তর স্তর | বিভাগীয় বাস্তবায়ন সমিতি | নিজ দপ্তরে অগ্রগতি পর্যালোচনা |
| জেলা স্তর | জেলা বাস্তবায়ন সমিতি | জেলাস্তরে অগ্রগতি নজরদারি |
পশ্চিমবঙ্গ সরকারি ভাষা সমিতি নামে আরেকটি সংস্থাও গঠিত হবে, যেটি অভিন্ন পরিভাষা ও শব্দকোষ তৈরি করবে। এই কাজে সাহায্য করবে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি।
৩ মাসের মধ্যে সমীক্ষা, সময়সীমা কবে
আদেশ জারির দিন থেকে গুনলে প্রতিটি দপ্তরকে ৩ মাসের মধ্যে সমীক্ষা শেষ করতে হবে, অর্থাৎ মোটামুটি নভেম্বরের শেষের মধ্যে। সূত্র অনুযায়ী এই সমীক্ষায় দেখতে হবে কম্পিউটার ব্যবস্থা, নথি সংরক্ষণ, বাংলায় দক্ষ কর্মীর সংখ্যা ও ঘাটতি, এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।
| ধাপ | সময়সীমা | কী হবে |
|---|---|---|
| ধাপ ১ | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | জনমুখী যোগাযোগ বাংলায় বাধ্যতামূলক |
| ধাপ ২ | আদেশ জারির ৩ মাস পর | দপ্তরভিত্তিক সমীক্ষা রিপোর্ট জমা |
| ধাপ ৩ | পর্যায়ক্রমে | অভ্যন্তরীণ প্রশাসনেও বাংলার পূর্ণ প্রয়োগ |
প্রভাব: আপনার কাজে কী বদলাবে
যাঁরা থানায়, বিডিও অফিসে বা পুরসভায় জনসংযোগ কাউন্টারে বসেন, তাঁদের এবার থেকে ইংরেজিতে খসড়া তৈরি করে পরে বাংলায় অনুবাদ করার বদলে সরাসরি বাংলায় নথি তৈরির অভ্যাস গড়তে হবে। যাঁরা বাংলা টাইপে দক্ষ নন, তাঁদের জন্য প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আলাদা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি করবে।
অনুবাদক, মুদ্রাক্ষরিক, লঘুলিপিকার ও প্রত্যেক সংশোধন পাঠকের পদ তৈরির প্রস্তাব অর্থ দপ্তরে যাবে, ফলে নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বেতন কাঠামোয় সরাসরি কোনও বদলের কথা এই আদেশে নেই, প্রভাব মূলত কর্মপদ্ধতি ও দৈনন্দিন কাজে।
অন্য মাতৃভাষাগুলির কী হবে
আদেশে স্পষ্ট বলা আছে, হিন্দি, নেপালী, সাঁওতালী, রাজবংশী, কামতাপুরী, কুরমালী, কুরুখ-সহ রাজ্যে প্রচলিত সব মাতৃভাষাকে সমান মর্যাদা দেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক তথ্য সংশ্লিষ্ট মাতৃভাষাতেও পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
প্রতি মাসে দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে অগ্রগতি রিপোর্ট মুখ্যসচিবের কাছে পাঠাতে হবে, আর রাজ্যস্তরীয় কমিটি নিয়মিত সেই অগ্রগতি খতিয়ে দেখবে।

Department: Finance
Source: https://par.wb.gov.in/
📥 Download Govt Order










