In-Service TET: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তর সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে (WBBPE) নির্দেশ দিয়েছে, কর্মরত শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা তথা টেট আয়োজন করতে হবে। দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে “TET for In-Service Teachers”। অর্থাৎ যারা ইতিমধ্যে চাকরিতে আছেন কিন্তু টেট পাশ করেননি, আপাতত তাদের জন্যই এই পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে।
সূচিপত্র
কেন এই নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা কী
সূত্র অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের নির্দেশে জানিয়েছিল যে শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি অথচ টেট উত্তীর্ণ নন, তাদের জন্য টেট বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রাথমিক নির্দেশে সময়সীমা ছিল দুই বছরের। তবে রিভিউ পিটিশনের পর সেই সময়সীমা বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়।
শিক্ষকদের বারবার সুযোগ দিতে রাজ্যগুলিকে প্রতি ছয় মাসে একবার টেট নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। মূলত এই নির্দেশের কারণেই রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
দায়িত্ব কার হাতে, পর্ষদ না কমিশন
| সংস্থা | দায়িত্ব | কাদের জন্য |
|---|---|---|
| প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) | প্রাইমারি টেট আয়োজন | কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষক |
| স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC) | আপার প্রাইমারি টেট আয়োজন | কর্মরত আপার প্রাইমারি শিক্ষক |
প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যেহেতু আলাদা, তাই দুটি সংস্থাকেই আলাদাভাবে পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে। এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবে দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে বোঝা যাচ্ছে প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে।
কাদের টেট দিতে হবে, কাদের নিয়ে ধোঁয়াশা
এখানেই আসল প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টের দুটি রায় অনুযায়ী নরমাল সেকশনের শিক্ষকদের আপার প্রাইমারি সেকশনে দেখানো যাবে না। ফলে তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ডাই-ইন-হারনেস প্রকল্পে নিযুক্ত শিক্ষক, হায়ার সেকেন্ডারি সেকশনের শিক্ষক বা অন্য কোনো বিশেষ ক্যাটাগরির জন্য সুপ্রিম কোর্টের সর্বভারতীয় নির্দেশে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা নেই।
- নরমাল সেকশনের শিক্ষক: হাইকোর্টের রায়ের জটিলতায় বিভ্রান্তি
- ডাই-ইন-হারনেস শিক্ষক: কোনো স্পষ্ট নির্দেশ নেই
- HS সেকশন শিক্ষক: আলাদা কোনো ব্যাখ্যা নেই
চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে এই বিষয়গুলো নিয়ে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের স্পষ্টীকরণ জরুরি বলেই মনে করছেন শিক্ষক মহলের একাংশ। নাহলে স্কুলে স্কুলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এরপর কী হবে
পর্ষদ বা কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই স্পষ্ট হবে, এই পরীক্ষা শুধু ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি নতুন প্রার্থীদের জন্যও দরজা খুলবে। আবেদনের পদ্ধতি, পরীক্ষার সিলেবাস ও তারিখ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে দপ্তরের ওয়েবসাইটে নজর রাখাই ভালো।









