ডিএ

WB DA Arrear: ডিএ রায় অমান্য করতে পারবেনা রাজ্য! রায়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলেন আইনজীবী

Advocate Firdous Samim Supreme Court Of India
Advocate Firdous Samim Supreme Court Of India

WB DA Arrear: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সুপ্রিম কোর্ট মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে। বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ডিএ কোনো দয়ার দান নয়, বরং এটি কর্মচারীদের একটি আইনগত এবং বলবৎযোগ্য অধিকার। ১২৪ পাতার এই রায়ে যেমন কর্মচারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে, তেমনই বকেয়া মেটানোর জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এই রায়ের খুঁটিনাটি এবং এর প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।

সূচিপত্র

বকেয়া ডিএ মেটানোর সময়সীমা ও কমিটি গঠন

সুপ্রিম কোর্ট শুধুমাত্র অধিকারের কথাই বলেনি, বরং বকেয়া ডিএ কীভাবে এবং কবে মেটানো হবে, তার জন্য একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে আরও দুইজন বিচারপতি এবং সিএজি (CAG)-র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী:

  • তাৎক্ষণিক সুরাহা: ১৬ মে ২০২৫-এর অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ মেনে রাজ্যকে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে।
  • পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা: আগামী ৬ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে কমিটিকে নির্ধারণ করতে হবে মোট কত টাকা বকেয়া রয়েছে এবং তা পেমেন্টের শিডিউল কী হবে।
  • প্রথম কিস্তি: কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী, ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সরকারকে বকেয়ার প্রথম কিস্তি মিটিয়ে দিতে হবে।
  • রিপোর্ট জমা: সবশেষে, ১৫ এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে রাজ্য সরকারকে আদালতে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়ে জানাতে হবে যে তারা আদালতের নির্দেশ পালন করেছে।
Advertisement

‘টাকা নেই’ অজুহাত খারিজ

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার আদালতে যুক্তি দিয়ে আসছিল যে, ডিএ মেটানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ তাদের কোষাগারে নেই। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে। রায়ে পরিষ্কার বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অভাবের দোহাই দিয়ে কর্মচারীদের সাংবিধানিক বা আইনি অধিকার খর্ব করা যায় না।

আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের মতে, আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে যে সরকার উৎসব বা অন্যান্য খাতে খরচ করলেও কর্মচারীদের বেলায় ‘কোষাগার শূন্য’র যুক্তি দেখাতে পারে না। এটি অনেকটা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টাকা নেই বলে শোধ না করার মতো বিষয়, যা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

জয়ের মূলে রোপা রুল ২০০৯

এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ২০০৯ সালের রোপা রুল (ROPA Rule)। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের সময় তৈরি এই রুলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক বা AICPI অনুযায়ী ডিএ প্রদান করতে হবে। বর্তমান সরকার ২০১৯ সালের রুলে এই অংশটি বাদ দিলেও, সুপ্রিম কোর্ট ২০০৯ সালের ওই নির্দিষ্ট ক্লজটিকেই মান্যতা দিয়েছে। আইনজীবীদের মতে, এই একটি লাইনই কর্মচারীদের আইনি জয়ের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। রায়ের ৫৯ নম্বর প্যারাগ্রাফে ডিএ-কে ‘লিগালি এনফোর্সেবল রাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য নির্দেশ

রায়ে পেনশনভোগীদের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার চলাকালীন সময়ে (Pendency of Litigation) যে সমস্ত কর্মচারী অবসর গ্রহণ করেছেন, তারাও এই বকেয়া ডিএ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। অর্থাৎ, যারা দীর্ঘ আইনি লড়াই চলাকালীন অবসরে গিয়েছেন, তাদের অধিকারও আদালত সুরক্ষিত করেছে। মলয় মুখোপাধ্যায় বা শ্যামল মিত্রের মতো মামলাকারীরা, যারা লড়তে লড়তে অবসর নিয়েছেন, তারাও এই রায়ের ফলে উপকৃত হবেন।

এই রায় রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর কাছে শুধুমাত্র আর্থিক প্রাপ্তি নয়, বরং দীর্ঘ ১০ বছরের আইনি লড়াই শেষে আত্মসম্মান এবং অধিকার ফিরে পাওয়ার জয়।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>