ডিএ

WB DA Arrear: বকেয়া ডিএ থেকে বঞ্চিত শিক্ষকরা, ইন্দু মালহোত্রা কমিটিকে চিঠি

A Gavel With Supreme Court And Teacher In Class
A Gavel With Supreme Court And Teacher In Class

এক নজরে

  • ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ মেটানোর রায় দিলেও, এখনও বঞ্চিত রাজ্যের সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল ও মাদ্রাসার কর্মীরা।
  • বকেয়া ডিএ-র দাবিতে জাস্টিস ইন্দু মালহোত্রা কমিটির দ্বারস্থ হল শিক্ষক সংগঠন APGTWA।
  • সরকারি কর্মচারীদের মতো গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদেরও এরিয়ার ডিএ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
  • ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া টাকা কবে মিলবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।

WB DA Arrear: বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কড়া নির্দেশ দিলেও রাজ্যের সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কপালে এখনও খরা। আদালতের রায় মেনে সরকারি কর্মীদের বকেয়া মেটানোর তোড়জোড় শুরু হলেও, এই বড় অংশ কার্যত ব্রাত্যই রয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা ঘুচাতে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মনিটরিং কমিটির চেয়ারপার্সন জাস্টিস ইন্দু মালহোত্রার কাছে অভিযোগ জানাল অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (APGTWA)।

উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার, কোনও দান নয়। সেই প্রেক্ষাপটে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঝুলে থাকা বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।

সূচিপত্র

নজরদারিতে ইন্দু মালহোত্রা কমিটি

বকেয়া মেটানোর গোটা প্রক্রিয়াটি যাতে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ে দেয়। প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বকেয়ার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ এবং তা মেটানোর নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করার।

এদিকে, আদালতের কড়াকড়ির পর রাজ্য অর্থ দফতর গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে 998-F(P2) নম্বরের একটি নির্দেশিকা জারি করে। সেখানে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া মেটানোর কথা বলা হলেও, সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর শিক্ষক ও কর্মীদের কথা একবারের জন্যও উল্লেখ করা হয়নি। সরকারের এই ‘বাদ দেওয়ার’ রাজনীতি নিয়েই ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষকরা।

Advertisement

বৈষম্যের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা

APGTWA-এর অভিযোগ, পঞ্চম রাজ্য পে কমিশনের আওতায় বেতন পাওয়া স্থায়ী শিক্ষক, শিক্ষিকা, গ্রন্থাগারিক ও অশিক্ষক কর্মীরা এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র এক পয়সাও পাননি। শুধু তাই নয়, তাঁদের এই টাকা কবে মিলবে বা আদৌ মিলবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের কোনও উচ্চবাচ্য নেই।

অথচ ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্কুল শিক্ষা দফতরের মেমো নম্বর 46–SE(B)/5B-1/2009 বলছে অন্য কথা। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, পে কমিশনের সুবিধা শুধুমাত্র সরকারি কর্মীদের একচেটিয়া নয়। সাহায্যপ্রাপ্ত ও স্পনসরড প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও সমহারে এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।

বাস্তব চিত্রটা হলো, রাজ্যের অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকরা সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের মতোই খাতা দেখা থেকে শুরু করে নির্বাচনের ডিউটি—সবই সমানভাবে পালন করেন। সংগঠনের প্রশ্ন, তবে কি শুধুমাত্র আর্থিক অধিকারের বেলাতেই এই বৈষম্য? কর্মীরা এই বৈষম্যমূলক আচরণকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

আইনি অধিকার ও সরকারি নিয়ম

অ্যাসোসিয়েশন মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, অর্থ দফতরের ২০০৮ সালের ২৮ অগাস্টের 6020-F রেজোলিউশন অনুযায়ী পে কমিশন গঠনের সময় সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের কর্মীদেরও তার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে আইনি বা প্রশাসনিক -কোনও দিক থেকেই তাঁদের ডিএ থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চন্দন গড়াই জাস্টিস ইন্দু মালহোত্রাকে চিঠি লিখে আর্জি জানিয়েছেন, যাতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের কর্মীদের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার পরবর্তী মোড়

এই মামলার পরবর্তী শুনানি আজ ১৫ এপ্রিল ২০২৬। এর আগে রাজ্য সরকার অর্থাভাবের দোহাই দিয়ে ডিএ এড়াতে চাইলেও শীর্ষ আদালত তা পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে।

জাস্টিসদের স্পষ্ট বার্তা ছিল- টাকার অভাব দেখিয়ে কর্মীদের আইনি অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। বকেয়ার প্রথম কিস্তি বাবদ ২৫ শতাংশ টাকা ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের কর্মীরা সেই প্রথম কিস্তির সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। এই পরিস্থিতিতে ইন্দু মালহোত্রা কমিটির হস্তক্ষেপই এখন তাঁদের শেষ ভরসা।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>