ডিএ

WB DA News: ডিএ দিতে ‘না’, অথচ মামলা লড়তে ৬৫ কোটি খরচ! আরটিআই রিপোর্টে তোলপাড় রাজ্য

WB DA News: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে আন্দোলন দীর্ঘদিনের। একদিকে যখন সরকারের তরফে বারবার অর্থের অভাবের কথা বলা হয়েছে, ঠিক তখনই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআই (RTI)-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে রাজ্য সরকার বিভিন্ন মামলার খরচ চালাতে আইনজীবীদের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে।

এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কর্মী সংগঠন এবং আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, কর্মচারীদের হকের টাকা দেওয়ার বেলায় ভাঁড়ার শূন্য থাকলেও, সেই পাওনা আটকানোর আইনি লড়াইয়ে এত টাকা আসছে কোথা থেকে?

মামলার পাহাড় ও বিপুল খরচ

আরটিআই সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার আইনজীবীদের পারিশ্রমিক বা ফি বাবদ প্রায় ৬৫ কোটি টাকা খরচ করেছে। শয়ে শয়ে মামলা লড়তে গিয়ে রাজকোষ থেকে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। সাধারণ মানুষের করের টাকায় এই ব্যয়ভার বহন করা নিয়ে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বিশেষত, যেখানে ডিএ বা অন্যান্য আর্থিক দাবি মেটাতে সরকার বারবার অনীহা প্রকাশ করেছে, সেখানে আইনি লড়াইয়ে এই তৎপরতা ও খরচ বিরোধীদের সমালোচনার রসদ জুগিয়েছে।

করদাতার টাকার অপচয়? কী বলছেন আইনজীবীরা

রাজ্য সরকারের এই বিপুল আইনি খরচের তীব্র সমালোচনা করেছেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। ডিএ মামলা সহ একাধিক ক্ষেত্রে তিনি আন্দোলনকারীদের হয়ে সওয়াল করেছেন। ফিরদৌস শামিমের মতে, সরকার কোন কোন খাতে এই টাকা খরচ করেছে তার পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ না করলেও, এটা স্পষ্ট যে জনগণের করের টাকা অপচয় করা হচ্ছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জনগণের করের টাকায় কর্মচারীদের প্রাপ্য ডিএ দেওয়া হচ্ছে না, অথচ সেই ডিএ আটকাতেই কোটি কোটি টাকা আইনজীবীদের পেছনে ঢালা হচ্ছে। সরকার আদালতে ছয়বার হারার পরেও শিক্ষা নেয়নি। যদি কলকাতা হাইকোর্টের রায় মেনে সময়মতো ডিএ দিয়ে দেওয়া হতো, তবে এই আইনি জটিলতা বা খরচের বোঝা রাজ্যকে বইতে হতো না।” তাঁর কথায়, সরকারি কর্মীদের আইনসঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে গিয়ে এভাবে জনগনের টাকা নষ্ট করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

হেভিওয়েট আইনজীবীদের সমাগম

অন্যদিকে, কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, সরকার যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, বাস্তবে খরচের অঙ্ক তার চেয়েও বেশি হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানির সময় সরকার পক্ষের কৌশল ছিল চোখে পড়ার মতো।

মলয়বাবু বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, শুনানির দিনগুলিতে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি থেকে শুরু করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নামী-দামি আইনজীবীদের দাঁড় করানো হয়েছে। তালিকায় প্রায় ১৬ থেকে ১৮ জন আইনজীবীর নাম আমরা দেখেছি। এমনকী শুনানিতে অংশ না নিয়ে বা চুপচাপ বসে থাকলেও তাঁদের মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দিতে হয়েছে।”

তাঁর অভিযোগ, সরকার জানে যে এই মামলায় তাদের অবস্থান নড়বড়ে, তবুও শুধুমাত্র সময় নষ্ট করতে এবং মামলা ঝুলিয়ে রাখতে তারা জনগণের টাকায় এই ব্যয়বহুল আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে মামলাটি ওঠার পর থেকেই সরকারের তৎপরতা বেড়ে গিয়েছিল, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ করদাতাকে।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button