WB DA Update: রাজ্যে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফলাফলের পর নবান্ন থেকে শুরু করে জেলার প্রতিটি সরকারি অফিসে এখন একটাই চর্চা— সপ্তম পে কমিশন নাকি বকেয়া ডিএ? নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন এবং ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ধরে নিজেদের সম্ভাব্য বর্ধিত বেতনের অঙ্ক কষতে শুরু করেছেন।
সূচিপত্র
সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার বর্তমান পরিস্থিতি
বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছিল যে ডিএ কোনো দয়ার দান নয়, বরং এটি কর্মীদের আইনসঙ্গত অধিকার। শীর্ষ আদালত ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া মেটানোর কড়া নির্দেশও দিয়েছিল। ৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, শুনানির ঠিক আগের দিন রাজ্যের তরফ থেকে সময় চেয়ে আরও তিন সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হয়েছে।
সপ্তম পে কমিশন এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কী?
সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন একধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। এই বেতন বৃদ্ধির হিসাবের জন্য ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত একটি গুণক বা মাল্টিপ্লায়ার, যার সাহায্যে খুব সহজেই সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের নতুন বেতনের কাঠামো তৈরি করা সম্ভব। সর্বভারতীয় মূল্যসূচকের ওপর ভিত্তি করে এই গুণক নির্ধারণ করা হয়।
- বেতন গণনার সহজ নিয়ম: বর্তমান বেসিক পে-র সঙ্গে নির্দিষ্ট ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (যেমন ২.৫৭) গুণ করে নতুন বেসিক পে নির্ধারণ করা হয়।
- উদাহরণ: ধরা যাক, কোনো কর্মীর বর্তমান বেসিক পে ১০,০০০ টাকা। সপ্তম পে কমিশনে যদি ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ধরা হয়, তবে নতুন বেসিক পে হবে: ১০,০০০ × ২.৫৭ = ২৫,৭০০ টাকা।
বেতন বৃদ্ধির একটি সম্ভাব্য হিসাব
| বর্তমান বেসিক পে (টাকা) | ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর | আনুমানিক নতুন বেসিক পে (টাকা) |
|---|---|---|
| ১০,০০০ | ২.৫৭ | ২৫,৭০০ |
| ১৫,০০০ | ২.৫৭ | ৩৮,৫৫০ |
| ২০,০০০ | ২.৫৭ | ৫১,৪০০ |
| ২৫,০০০ | ২.৫৭ | ৬৪,২৫০ |
৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের মূল কারণ হলো কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ডিএ-র বিপুল ফারাক। বর্তমানে এই ফারাক প্রায় ৪২ শতাংশ। চলতি বছরের শুরুতে রাজ্যের পেশ করা অন্তর্বর্তী বাজেটে ১ এপ্রিল থেকে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এর জন্য এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা বা অর্ডার জারি হয়নি। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, রাজ্যে নতুন সরকার কি পূর্বঘোষিত এই ৪% ডিএ কার্যকর করবে, নাকি একেবারে কেন্দ্রীয় হারে নতুন করে মহার্ঘ ভাতা বা সপ্তম পে কমিশন ঘোষণা করবে?
কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
রাজ্য সরকারি কর্মচারী পরিষদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পর নতুন সরকার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করবে বলেই কর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস। অন্যদিকে, কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, এর আগে অনেক প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ থাকলেও এবার শীর্ষ নেতৃত্বের আশ্বাসে কর্মচারীরা ভরসা রাখছেন। ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আর্জিও ইঙ্গিত দেয় যে, আগের সরকারের নেওয়া কর্মী-বিরোধী সিদ্ধান্তগুলি পর্যালোচনা করে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও আগামী দিনের রূপরেখা
- সরকারি নির্দেশিকার অপেক্ষা: নতুন সরকারের তরফ থেকে সপ্তম পে কমিশন বা ডিএ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং গুজবে কান দেবেন না।
- বেতনের হিসাব রাখুন: নিজের বর্তমান বেসিক পে এবং অন্যান্য ভাতার সঠিক হিসাব রাখুন, যাতে পে কমিশন কার্যকর হলে নিজেই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর দিয়ে নতুন বেতনের হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন।
- নজর রাখুন সুপ্রিম কোর্টে: সুপ্রিম কোর্টের আগামী শুনানির তারিখ ও রায়ের দিকে কড়া নজর রাখুন, কারণ দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ-র ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে এর ওপরই নির্ভরশীল।