DA Arrears: দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং প্রতীক্ষার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য এল বিরাট সুখবর। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের একাংশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) বা মহার্ঘ ভাতার টাকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন পেনশনভোগীর অ্যাকাউন্টে এই বকেয়া টাকা সরাসরি ঢুকতে শুরু করেছে, যা সরকারি কর্মীদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সূচিপত্র
কোন সময়ের বকেয়া ডিএ দেওয়া হচ্ছে?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১লা এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত যে দীর্ঘ সময়ের ডিএ বকেয়া ছিল, মূলত সেই টাকাই মেটানো শুরু করেছে রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে এই বকেয়া মেটানোর দাবিতে সরব ছিলেন কর্মী সংগঠনগুলি। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর অবশেষে সেই পাওনা টাকা সরাসরি পেনশনভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।
কারা এই টাকা পাচ্ছেন আর কারা বঞ্চিত?
প্রাথমিক পর্যায়ে শুধুমাত্র সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মচারী হিসেবে যারা অবসর গ্রহণ করেছেন, তাদের একাংশের অ্যাকাউন্টে এই বকেয়া ডিএ-র টাকা জমা পড়েছে। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এখনও বঞ্চনার চিত্র রয়ে গেছে। জেনে নিন কারা এখনও এই টাকা পাননি:
- শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী: সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল বা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীরা এখনও এই টাকা পাননি।
- পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্মী: পুরসভা বা পঞ্চায়েত থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের অ্যাকাউন্টেও বকেয়া টাকা জমা পড়ার কোনও খবর মেলেনি।
- বর্তমান কর্মী: চাকরিরত বা বর্তমান সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
নির্দেশিকা ছাড়াই টাকা জমা হওয়ায় বিভ্রান্তি
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, অর্থ দপ্তর থেকে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট পর্যায়ের (২০০৮-২০১৫) বকেয়া মেটানো নিয়ে নতুন কোনও সরকারি নির্দেশিকা বা অর্ডার প্রকাশ করা হয়নি। পূর্ববর্তী মার্চ মাসের নির্দেশিকায় (যেমন- 996-F বা 997-F) ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া মেটানোর কথা বলা হলেও, ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া মেটানোর পদ্ধতি পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ ছিল। ফলস্বরূপ, হঠাৎ করে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করায় পেনশনভোগী এবং কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আগামী সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মেগা বৈঠক
বকেয়া ডিএ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দাবি-দাওয়া নিয়ে আগামী সোমবার (১লা জুন) বিকেল ৫টায় নবান্নে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠকের পরেই বকেয়া ডিএ মেটানোর সম্পূর্ণ রূপরেখা এবং বাকি কর্মীদের পাওনা নিয়ে সরকারিভাবে বড় কোনও ঘোষণা হতে পারে।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে বকেয়া ডিএ শুধু একটি আর্থিক পাওনা নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের সম্মানজনক অধিকারের লড়াই। আগামী দিনের সরকারি পদক্ষেপ এই বিষয়ে কতটা স্বচ্ছতা আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।









