WB Govt Media Rules: রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক এবং পুলিশ কর্মীদের সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খোলার ক্ষেত্রে জারি হওয়া কড়া নিষেধাজ্ঞায় বড়সড় বদল আনল নবান্ন। তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুর নরম করতে বাধ্য হল প্রশাসন। গত ১৯ মে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সই করা নির্দেশিকায় যে সর্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার এক নতুন সংশোধনী জারি করে তার পরিধি অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে।
সূচিপত্র
নজিরবিহীন ব্যাকট্র্যাক: কী বদল করল নবান্ন?
গত ২০ মে পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস (P&AR) দপ্তর থেকে Memo No. 696-PAR-HR/O/PAR(Estt)/MISC-11/2023 নম্বর নির্দেশিকা জারি করে ১৯ মে-র মুখ্যসচিবের 139-CS নম্বর সার্কুলারটি সমস্ত বিভাগে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, রাজ্য সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্থাৎ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও এই চরম নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন।
তবে নতুন সরকার গঠনের পরপরই জারি হওয়া এই অর্ডার নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিরোধীদের পাশাপাশি শিক্ষামহল থেকেও বড়সড় প্রশ্ন ওঠে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এক নতুন নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট করে দেন যে, এই বিধিনিষেধের আওতা অনেক সীমিত করা হয়েছে।
কারা নতুন নিয়মের আওতায় থাকছেন আর কারা ছাড় পেলেন?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের কড়া নিষেধাজ্ঞা এখন সকলের ওপর ঢালাওভাবে প্রযোজ্য হবে না।
কারা এই নিয়মের আওতায় আছেন:
- অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস বা সর্বভারতীয় স্তরের আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) আধিকারিক।
- ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (WBCS) ও ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস (WBPS) সহ সরাসরি রাজ্য সরকারি দপ্তরের স্থায়ী কর্মচারীরা।
- সরাসরি রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন বোর্ড, কর্পোরেশন, স্বশাসিত সংস্থা এবং আন্ডারটেকিংয়ের আধিকারিক ও কর্মীরা।
কারা বড় ছাড় পেলেন:
- সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা এই কড়া নিষেধাজ্ঞা থেকে সরাসরি ছাড় পেয়েছেন।
- সম্পূর্ণভাবে সরকারি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে নেই এমন বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না।
পূর্বে কী নিয়ম ছিল আর সংশোধিত নিয়মে কী বদলাল?
| বিষয় | আদি নির্দেশিকা (১৯ মে, ২০২৬) | নতুন সংশোধিত নিয়ম (২১ মে, ২০২৬) |
|---|---|---|
| আওতাধীন কর্মীবৃন্দ | শিক্ষক, পুলিশ, অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থা সহ সকল সরকারি কোষাগার থেকে বেতনভোগী কর্মী | শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি কর্মী এবং সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন কর্পোরেশন বা বোর্ডের কর্মী |
| শিক্ষকদের অবস্থান | সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কড়া নজরদারি | এই নিয়মের আওতায় রাখা হয়নি, তাঁরা ছাড় পেয়েছেন |
| তথ্য ও মতপ্রকাশ | সর্বস্তরে কড়া নিষেধাজ্ঞা | মূল সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে |
সরকারি কর্মচারীদের ওপর এই নিয়মের বাস্তব প্রভাব
আপনি যদি রাজ্য সরকারের কোনো দপ্তরের স্থায়ী ক্লার্ক, আধিকারিক বা পুলিশ কর্মী হন, তবে আপনাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কোনো সরকারি নীতির সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট লেখা, কোনো ফাইলে তথ্য বা ছবি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো কিন্তু আপনার জন্য সরাসরি চাকরি বিধির লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।
অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (কনডাক্ট) রুলস ১৯৬৮ এবং দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল গভর্নমেন্ট সার্ভেন্টস কনডাক্ট রুলস ১৯৫৯ অনুযায়ী নিয়ম ভাঙলে বিভাগীয় কড়া পদক্ষেপ হতে পারে। তবে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে যেহেতু নিয়ম শিথিল করা হয়েছে, তাই তাঁরা তাঁদের সাহিত্যচর্চা বা ব্যক্তিগত লেখালেখির ক্ষেত্রে পূর্বের মতোই স্বাভাবিক অধিকার বজায় রাখতে পারবেন।
Personnel & Administrative Reforms Department Order
Department: Personnel & Administrative Reforms Department
Source: https://par.wb.gov.in/
📥 Download Govt Order









