Prepaid Smart Meter: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি লিমিটেড (WBSEDCL) রাজ্যের সরকারি অফিসগুলিতে প্রিপেইড স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর (Audit Branch, Group T) এই বিষয়ে একটি নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যার মেমো নম্বর 2076-F(Y) এবং এটি ১০ জুন, ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থাটি আগামী ১ আগস্ট, ২০২৬ থেকে সরকারি দপ্তরগুলিতে কার্যকর হতে চলেছে। এর আগে, ২৮ অক্টোবর ২০২৪-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী অফিসগুলিকে ট্রেজারিতে কন্টিনজেন্সি বিল জমা দিয়ে মাসিক ভিত্তিতে মিটার রিচার্জ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান নির্দেশিকাটি ট্রানজিশন বা পরিবর্তনের সময়কার বকেয়া বিল মেটানোর পদ্ধতিকে আরও স্পষ্ট করেছে।
সূচিপত্র
বকেয়া বিল মেটানোর দুটি সহজ বিকল্প
পোস্ট-পেইড থেকে প্রিপেইড মিটারে পরিবর্তনের সময় অনেক অফিসেরই পুরনো বকেয়া বিল থাকতে পারে। এই বকেয়া টাকা আদায় নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দুটি বিকল্পের কথা জানিয়েছে ও বিলিং পদ্ধতি সহজ করেছে:
- সরকারি দপ্তর বা সংস্থাগুলি তাদের পুরনো আনপেইড পোস্ট-পেইড বিলের সম্পূর্ণ অংশ এককালীন (in one go) মিটিয়ে দিতে পারে ।
- এককালীন পেমেন্টের ক্ষেত্রে অফিসগুলিকে WBSEDCL-এর পোর্টাল থেকে বিল ডাউনলোড করে বর্তমান পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে ।
- অথবা, চাইলে বকেয়া বিলের টাকা ৩০০ দিনের মেয়াদে পরিশোধ করার সুবিধাও নেওয়া যেতে পারে ।
চূড়ান্ত বিলের হিসাব ও সমন্বয়
নির্দেশিকায় অত্যন্ত সহজভাবে চূড়ান্ত পোস্ট-পেইড বিলের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত বিলে মূল বকেয়া টাকার সাথে লেট পেমেন্ট সারচার্জ (LPSC) যোগ করা হবে এবং তার থেকে জমা থাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট বাদ দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বকেয়া ৫০০০ টাকা এবং লেট ফি ১০০০ টাকা হয়, এবং সিকিউরিটি ডিপোজিট ৩০০০ টাকা থাকে, তবে চূড়ান্ত বিল দাঁড়াবে ৩০০০ টাকা। এই টাকা ট্রেজারিতে কন্টিনজেন্সি বিল জমা দিয়ে মেটানো যাবে। অন্যদিকে, যদি সিকিউরিটি ডিপোজিট ৭০০০ টাকা হয়, তবে অতিরিক্ত ১০০০ টাকা গ্রাহকের প্রিপেইড অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স হিসেবে যোগ হয়ে যাবে ।
নতুন প্রিপেইড বিলিং ও রিচার্জ প্রক্রিয়া
প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করার পদ্ধতিকেও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
- প্রথম মাসের প্রিপেইড মিটারের জন্য স্যাংশন অর্ডার তৈরি করতে Annexure-I ফরম্যাট ব্যবহার করতে হবে ।
- এক্ষেত্রে বিগত ১২ মাসের বিদ্যুৎ বিলের গড়ের ভিত্তিতে খরচের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ।
- দ্বিতীয় ও তার পরবর্তী মাসগুলির জন্য Annexure-II ফরম্যাট ব্যবহার করে রিচার্জ করতে হবে।
- ৩০০ দিনের বকেয়া মেটানোর বিকল্পটি বেছে নিলে, প্রতিদিনের বিদ্যুৎ খরচের সাথে পুরনো চূড়ান্ত বিলের ৩০০ ভাগের এক ভাগ (1/300th) টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে।
- এই প্রক্রিয়াটি পুরনো বকেয়া সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে ।
- ৩০০ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর ব্যালেন্স থেকে শুধুমাত্র দৈনন্দিন খরচের টাকা কাটা হবে ।
সরকারি অফিসগুলির জন্য বিশেষ ছাড়
কাজের যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য বেশ কিছু বিশেষ সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে:
- পোস্ট-পেইড থেকে প্রিপেইড ব্যবস্থায় স্যুইচ করার পর, প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার জন্য ১০ দিনের অতিরিক্ত সময় বা গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হবে।
- অন্যান্য মাসগুলিতে মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও ৩০০ টাকা পর্যন্ত ‘নেগেটিভ ব্যালেন্স’ রাখার অনুমতি থাকবে ।
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজ্য সরকারের ছুটির দিনগুলিতে এবং অফিস আওয়ার বা কাজের সময়ের বাইরে মিটারে ব্যালেন্স না থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না।









