WB Govt Media Rules: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমস্ত স্তরের আধিকারিক ও কর্মচারীদের জন্য সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। ২০ মে, ২০২৬ তারিখে জারি করা এই নতুন নির্দেশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমের সাথে কোনো ধরণের যোগাযোগ বা লেখালেখি করা যাবে না। নবান্নের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দপ্তর থেকে জারি করা ৬৯৬-পিএআর-এইচআর/ও/পিএআর(এস্ট)/এমআইএসসি-১১/২০২৩ নম্বর মেমো অনুযায়ী, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারী এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কঠোরভাবে লাগু হবে।
সূচিপত্র
কোন কোন নিয়মের আওতায় এই কড়া পদক্ষেপ?
রাজ্যের মুখ্য সচিবের ১৯ মে, ২০২৬ তারিখের ১৩৯-সিএস নম্বর সার্কুলারকে ভিত্তি করে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। মূলত তিনটি প্রধান আচরণ বিধি বা কনডাক্ট রুলসের কথা উল্লেখ করে কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে:
- অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (কনডাক্ট) রুলস, ১৯৬৮ (বিশেষত রুল ৬, ৭, ১৩(১)(এফ) এবং ১৭)
- ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস (ডিউটিজ, রাইটস অ্যান্ড অবলিগেশন্স অফ দ্য গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ) রুলস, ১৯৮০ (বিশেষত রুল ৪(৪), ৪(৫) এবং ৫(৭))
- দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল গভর্নমেন্ট সার্ভেন্টস কনডাক্ট রুলস, ১৯৫৯ (বিশেষত রুল ২৩, ২৪, ২৫ এবং ৩৩)
৫টি ক্ষেত্র যেখানে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে
রাজ্য সরকারের এই কড়া সার্কুলারে পাঁচটি প্রধান বিষয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে:
- মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া: কোনো সরকারি কর্মচারী বা আধিকারিক সরকারের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো স্পনসরড বা বেসরকারি মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি ভারত সরকারের কোনো প্রোগ্রাম যা বাইরের কোনো বেসরকারি সংস্থা তৈরি করছে, সেখানেও অনুমতি ছাড়া যাওয়া যাবে না।
- তথ্য আদান-প্রদান: কোনো সরকারি নথি বা ভেতরের তথ্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা যাবে না।
- লেখালেখি ও সম্পাদনা: কোনো খবরের কাগজ বা সাময়িকী সম্পাদনা করা, রেডিওতে বক্তব্য রাখা বা কোনো পত্রপত্রিকায় কলাম বা চিঠি পাঠানো যাবে না পূর্ব অনুমোদন ছাড়া।
- সরকারি নীতির সমালোচনা: কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নেওয়া কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা করা যাবে না।
- সম্পর্ক নষ্টের চেষ্টা: এমন কোনো মন্তব্য করা যাবে না যার ফলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের বা অন্য কোনো রাজ্য সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
কর্মচারীদের উপর এর বাস্তব প্রভাব
এই নির্দেশিকার ফলে সরকারি কর্মচারীদের সাধারণ কর্মজীবন বা দৈনন্দিন অভ্যাসে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
- ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট: আপনি যদি কোনো সরকারি দপ্তরের ক্লার্ক, পুলিশ কনস্টেবল বা শিক্ষক হন, তবে যেকোনো সরকারি নীতির সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন। এই নির্দেশিকার পর সামান্য একটি পোস্টের জন্যেও সাসপেনশন বা বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি হতে পারেন।
- তথ্য ফাঁসের বিপদ: অফিসের কোনো গোপন চিঠিপত্র, বিজ্ঞপ্তি বা ফাইলের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো এখন সরাসরি চাকরি বিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
- শখের লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চা: যদি কোনো সরকারি কর্মচারী নিয়মিত পত্রপত্রিকায় লেখেন বা কোনো সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন, তবে অবিলম্বে নিজের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কাছ থেকে লিখিত নো অবজেকশন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন।
এক নজরে নতুন নিয়মের তুলনামূলক তালিকা
| বিষয় | পূর্বের নিয়ম | বর্তমান কড়া নির্দেশিকা |
|---|---|---|
| মিডিয়া ইন্টারভিউ | কিছুটা নমনীয়তা ছিল | সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (পূর্ব অনুমতি ছাড়া) |
| সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা | অনেকেই করতেন | চরম নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা |
| পত্রপত্রিকায় কলাম লেখা | অনেকে ব্যক্তিগতভাবে লিখতেন | দপ্তরের লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক |
| অফিসিয়াল তথ্য প্রকাশ | সতর্ক করা হতো | সরাসরি সার্ভিস রুল ভঙ্গের অপরাধ |
Department: Personnel and Administrative Reforms
📥 Download Govt Order









