WB DA Arrears: রাজ্য সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, ওয়ার্ক-চার্জড কর্মী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (Dearness Relief) অবিলম্বে মেটানোর দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিল ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। ৯ই জুন, ২০২৬ তারিখে লেখা এই চিঠিতে মূলত গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-Aid), সেচ ও পূর্ত দপ্তরের কর্মী এবং কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (KMC) পেনশনভোগীদের বকেয়া দ্রুত প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
সূচিপত্র
প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
যদিও রাজ্যের অর্থ দপ্তর ইতিমধ্যে গ্রান্ট-ইন-এইড বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ বা ডিআর (DA/DR) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, এখনও বিপুল সংখ্যক বৈধ প্রাপক তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বিশেষত শিক্ষক মহল, সেচ ও জলপথ দপ্তর এবং পূর্ত দপ্তরের অধীনে কর্মরত ওয়ার্ক-চার্জড কর্মীরা এবং কলকাতা পুরসভার পেনশনভোগীরা এখনও পর্যন্ত কোনো বকেয়া পাননি।
টিসিএস (TCS) থেকে তথ্য সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব
চিঠিতে ডেটাবেস সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত কার্যকরী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যে সমস্ত দপ্তরে কর্মীদের পুরনো বেতন বা পেনশনের রেকর্ড অসম্পূর্ণ বা অমিল, সেখানে সরাসরি টিসিএস (TCS)-এর কাছ থেকে পুরানো তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। কারণ, সংশ্লিষ্ট সময়ে বেতন ও পেনশন প্রদানের সিস্টেম মূলত টিসিএস দ্বারাই পরিচালিত হতো। এই পথে এগোলে তথ্য যাচাই ও টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া আর অহেতুক বিলম্বিত হবে না এবং কোনো যোগ্য প্রাপক বঞ্চিত হবেন না।
সরকারি বিজ্ঞপ্তির স্মরণিকা ও মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
মঞ্চ গত ১৩/০৩/২০২৬ তারিখের সরকারি বিজ্ঞপ্তি নম্বর 998-F(P2)-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, সম্প্রতি রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, দ্রুত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হলে তা সরকারের তরফে একটি বড় সদিচ্ছার বার্তা বহন করবে বলে মনে করছে মঞ্চ।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মূল ৯ দফা দাবি একনজরে:
- দ্রুত তথ্য যাচাই: সমস্ত যোগ্য কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, স্ক্রুটিনি এবং যাচাইয়ের কাজ অবিলম্বে শেষ করতে হবে।
- টিসিএস-এর সাহায্য: অসম্পূর্ণ রেকর্ডের ক্ষেত্রে টিসিএস এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সংস্থার থেকে পুরনো বেতন ও পেনশনের রেকর্ড সংগ্রহ করতে হবে।
- উচ্চ পর্যায়ের কমিটি: তথ্য সংকলন ও বকেয়া প্রদান প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং মেকানিজম বা কমিটি গঠন করতে হবে।
- নির্দিষ্ট সময়সীমা: একটি নির্দিষ্ট এবং সময়বদ্ধ কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় ডেটা জমা দেওয়ার জন্য সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তরকে কড়া নির্দেশিকা পাঠাতে হবে।
- রোডম্যাপ প্রকাশ: সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী সহ সকলের বকেয়া মেটানোর একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ও সময়সীমা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করতে হবে।
- বাজেট বরাদ্দ: পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের প্রথম দফার বকেয়া প্রদান দ্রুত শুরু করতে হবে।
- পূর্ত ও সেচ দপ্তরের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি: সেচ ও জলপথ এবং পূর্ত দপ্তরের ওয়ার্ক-চার্জড কর্মীদের অবিলম্বে এই বকেয়া প্রদানের আওতায় আনতে হবে।
- কেএমসি পেনশনভোগী: কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অধীনস্থ পেনশনভোগীদের বকেয়া বিনা বিলম্বে মেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
- বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করা: 998-F(P2) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সমস্ত যোগ্য প্রাপকদের দ্রুত বকেয়া মেটানোর প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করতে হবে।
কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন রাজ্যের সকল স্তরের সরকারি কর্মচারীরা। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটি, এবং বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের এই ন্যায্য পাওনার জন্য অপেক্ষা করে আছেন। এই চিঠি প্রমাণ করে যে, সরকার প্রক্রিয়া শুরু করলেও মূল স্তরে এখনও অনেক কাজ বাকি। বিশেষত পুরানো তথ্যের অভাবের যে যুক্তি বারবার উঠে আসে, তা খণ্ডন করতে টিসিএস-এর ডেটাবেস ব্যবহারের যে ব্যবহারিক বুদ্ধি এই চিঠিতে দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ স্বাক্ষরিত এই চিঠির প্রতিলিপি রাজ্যের মুখ্য সচিবকেও পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকার এই ৯ দফা দাবি মেনে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করলে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন।









