TET Mandatory Case: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত টেট বাধ্যতামূলক (TET Mandatory) রিভিউ মামলার মোড় ঘুরে গেল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি মনমোহনের ডিভিশন বেঞ্চ গত ২৮শে এপ্রিল ২০২৬-এ হওয়া ক্লোজ চেম্বার হেয়ারিং-এর পর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আদালত আবেদনকারীদের ‘ওপেন ওরাল হেয়ারিং’ বা মৌখিক শুনানির আর্জি মঞ্জুর করেছে, যার ফলে আগামী ১৩ই মে ২০২৬ তারিখে এই মামলার শুনানি সরাসরি ওপেন কোর্টে অনুষ্ঠিত হবে।
সূচিপত্র
কি এই মামলা এবং কেন এই শুনানি গুরুত্বপূর্ণ?
২০২৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট কর্মরত শিক্ষকদের জন্য টেট বাধ্যতামূলক করা সংক্রান্ত একটি নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়কে পুনর্বিবেচনার (Review) জন্য পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, রাজ্য সরকার এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। সাধারণত, রিভিউ পিটিশনগুলো বিচারপতিদের চেম্বারে নথি দেখার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বিচারপতিরা আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব শোনার প্রয়োজন মনে করেছেন।
ওরাল হেয়ারিং-এর তাৎপর্য
আদালতের নথিতে দেখা গেছে যে, আইএ (IA) বা ইন্টারলোকাটারি অ্যাপ্লিকেশন নম্বর ২৩৭৬৮৫ (Application for oral hearing) মঞ্জুর করা হয়েছে। এর অর্থ হলো:
- মামলাটি আর কেবল নথিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; আইনজীবীরা এখন সরাসরি আদালতে বিচারপতির সামনে যুক্তি পেশ করতে পারবেন।
- রিভিউ পিটিশনটি সরাসরি খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত দূর হয়েছে, যা চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর জন্য একটি বড় আশা।
- রাজ্য সরকার এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ তাদের যুক্তিগুলি পুনরায় জোরালোভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও ১৩ই মে-র গুরুত্ব
আগামী ১৩ই মে ২০২৬ তারিখটি পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই ওরাল হেয়ারিং-এ বিচারপতিরা সন্তুষ্ট হন, তবে আগের রায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ম্যান্ডেটরি টেট বা সমতুল্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের নজর এখন ১৩ই মে-র দিকে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওরাল হেয়ারিং মঞ্জুর হওয়া মানেই ইতিবাচক কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তথ্যসূত্র অনুযায়ী, বিচারপতিরা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন বলেই এই বিশেষ শুনানির অনুমতি দিয়েছেন।