পশ্চিমবঙ্গ

WB Voter List: সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনী সংক্রান্ত মামলা

WB Voter List
Wb Voter List

WB Voter List: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল সামারি রিভিশন (SSR) প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত ত্রুটি, অযৌক্তিক বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ এবং বৈধ নথিপত্র গ্রাহ্য না করার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের (BLO) চরম ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

সূচিপত্র

মামলার মূল ভিত্তি ও অভিযোগসমূহ

সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া আবেদনে মূলত নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, কমিশনের কিছু নির্দেশিকা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

  • লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যৌতিক অসংগতি: ভোটার তালিকা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণ দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। অথচ এর পেছনে কোনো লিখিত আদেশ নেই। উদাহরণস্বরূপ, বাবা ও ছেলের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হওয়া কিংবা একজন বাবার নামে একাধিক (যেমন ৬ জন) সন্তান নথিভুক্ত থাকাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অসংগতি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে।
  • সফটওয়্যার ও ডেটা সমস্যা: ২০০২ সালের ভোটার তালিকার হার্ডকপি স্ক্যান করে ডিজিটাল ফরম্যাটে (CSV) রূপান্তর করার সময় যান্ত্রিক গোলযোগ হয়েছে। এর ফলে বহু ভোটারের নাম হার্ডকপিতে থাকা সত্ত্বেও অনলাইন পোর্টালে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  • নথিপত্র বাতিলের অভিযোগ: শুনানির সময় অনেক যোগ্য ভোটার জমির দলিল বা ২০১০ সালের পরবর্তী ওবিসি সার্টিফিকেটের মতো বৈধ নথি পেশ করলেও তা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
  • বিনা নোটিশে নাম বাদ: অনেক ক্ষেত্রে কোনো পূর্ব নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।
Advertisement

সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা দাবিদাওয়া

আবেদনকারীরা সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধার্থে সুপ্রিম কোর্টের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছেন:

১. প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা: ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং অসুস্থ নাগরিকদের সশরীরে হাজিরা দেওয়া থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। তাদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে (Doorstep Verification) অথবা ভিডিও কল বা টেলিফোনের মাধ্যমে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আবেদন জানানো হয়েছে।
২. ভার্চুয়াল শুনানি: কর্মসূত্রে বা অন্য কারণে রাজ্যের বাইরে থাকা ভোটারদের (Migrant Voters) জন্য ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা করা অথবা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।
৩. পঞ্চায়েত নথির স্বীকৃতি: গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত প্রধানের দেওয়া বসবাসের শংসাপত্র (Residential Certificate) এবং পারিবারিক বা ফ্যামিলি রেজিস্টারকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।
৪. সময়সীমা বৃদ্ধি ও তালিকা স্থগিত: দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ তারিখ ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এই সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সুরক্ষা ও সঠিক যাচাইকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়েছে।

জনভোগান্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জেরে কেবল সাধারণ ভোটাররাই নন, বিএলও-রাও ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন। সফটওয়্যারের অসংগতি এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আসা বিভিন্ন নির্দেশিকার জেরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এক সাংসদ এই বিষয়গুলি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বর্তমানে সকলেই সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে আছেন, যা রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>