নির্দেশিকা

WBBSE Verification SOP: ভোটার তথ্যে গরমিল? নথি যাচাইয়ে ডিএমদের কড়া নির্দেশ পর্ষদের, জারি হল নয়া এসওপি

WBBSE Notice for SAS
WBBSE Notice for SAS

WBBSE Verification SOP: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে জোরকদমে। এই পরিস্থিতিতে নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বড়সড় প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে জেলাশাসকদের (District Magistrates) উদ্দেশ্যে কড়া নির্দেশিকা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) জারি করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় একটি বিশেষ চিঠির মাধ্যমে ২৩টি জেলার জেলাশাসক এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের এই নয়া নিয়ম সম্পর্কে অবগত করেছেন। মূল উদ্দেশ্য হলো, এলোমেলোভাবে বা বিক্ষিপ্ত ইমেলের মাধ্যমে নথি পাঠানো বন্ধ করে একটি সুশৃঙ্খল কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সূচিপত্র

বিক্ষিপ্ত ইমেল নয়, চাই নির্দিষ্ট চ্যানেল

এতদিন যাবৎ বিভিন্ন জেলা ও ব্লক স্তর থেকে ভোটারদের বয়সের প্রমাণপত্র বা শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি যাচাইয়ের জন্য পর্ষদের কাছে পৃথক পৃথক ইমেল আসছিল। পর্ষদ সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক স্ক্যান করা নথি এবং অসংখ্য ইমেলের ভিড়ে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। প্রশাসনিক এই বিশৃঙ্খলা দূর করতেই জারি হয়েছে নতুন এসওপি।

  • একক চ্যানেল ব্যবস্থা: এখন থেকে আর যেখান সেখান থেকে ইমেল পাঠানো যাবে না। নথি ও তালিকা জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট অনলাইন চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে।
  • কেন্দ্রীয় রিপোর্ট: যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্ষদও একইভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলায় পাঠিয়ে দেবে।
  • ফি মুকুব: সাধারণত মধ্যশিক্ষা পর্ষদে নথি যাচাইয়ের জন্য ৩০০ টাকা ফি ধার্য থাকে। কিন্তু ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা ‘সার’ (SIR)-এর কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই ফি নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
Advertisement

প্রবল কাজের চাপ ও সময়ের অভাব

বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই বা শুনানির প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে ম্যাপিংয়ে নাম নেই এমন ৩২ লক্ষ এবং ম্যাপিং সমস্যাযুক্ত ১৪ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১২ লক্ষ মানুষের নথি যাচাইয়ের জন্য পর্ষদের কাছে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এবছর প্রায় ১০ লক্ষ ৭৯ হাজার পরীক্ষার্থী মাধ্যমিকে বসছে। পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে পর্ষদ বর্তমানে চূড়ান্ত ব্যস্ত। এই চরম ব্যস্ততার মধ্যে ভোটার তালিকার নথি যাচাইয়ের কাজটি যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয় এবং প্রশাসনিক জট না পাকায়, তাই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই শুনানি প্রক্রিয়া চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য নয়?

পর্ষদ তাদের নির্দেশিকায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যাচাই প্রক্রিয়ায় কী পাঠানো যাবে এবং কী যাবে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অপ্রাসঙ্গিক নথিও যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে, যা সময় নষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

  • উচ্চ মাধ্যমিকের নথি: মধ্যশিক্ষা পর্ষদ শুধুমাত্র মাধ্যমিক স্তরের নথি যাচাই করতে পারে। তাই উচ্চ মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট বা সার্টিফিকেট এখানে পাঠানো যাবে না।
  • অন্যান্য বোর্ড: পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ছাড়া অন্য কোনও বোর্ডের ইস্যু করা নথি এই যাচাই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।
  • গ্রহণযোগ্য নথি: শুধুমাত্র মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, মার্কশিট এবং পাস সার্টিফিকেটই যাচাইয়ের জন্য বিবেচিত হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই নির্দেশিকা বা এসওপি মেনে চললে আসন্ন দিনগুলিতে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি কমবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>