WBHS OPD Rules: রাজ্য সরকারি কর্মীদের চিকিৎসায় বড় স্বস্তি! ওপিডি বিলে নিয়ম বদল আনল অর্থ দপ্তর, জানুন খুঁটিনাটি
WBHS OPD Rules: রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর নিয়ে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার জন্য পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের (WBHS) অধীনে ওপিডি (OPD) সুবিধা গ্রহণ করছেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসা খরচের বিল বা রিমবার্সমেন্ট পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও সরল করা হয়েছে। অর্থ দপ্তরের মেডিকেল সেল থেকে জারি করা মেমো নম্বর 187-F(Med) WB অনুযায়ী, চিকিৎসার প্রয়োজনে একাধিক প্রেসক্রিপশন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে জটিলতা ছিল, তা এবার দূর করা হলো।
কেন এই নতুন সিদ্ধান্ত?
এতদিন পর্যন্ত নিয়ম ছিল যে, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের ক্লজ ৭(১) বা ৭(২)-এর অধীনে তালিকাভুক্ত কোনো জটিল রোগ যেমন—ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি ফেইলিওর বা থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি যদি রোগীর অন্য কোনো সহ-রোগ বা ‘কো-মরবিডিটি’ (Co-morbidities) থাকে, তবে তার খরচও সরকার বহন করবে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিচ্ছিল বিল জমা দেওয়ার সময়।
আগের নিয়মে শর্ত ছিল যে, মূল রোগের ওষুধ এবং সহ-রোগের ওষুধ—সবকিছুই মূল চিকিৎসকের (Primary Treating Doctor) একটি মাত্র প্রেসক্রিপশনে লেখা থাকতে হবে। কিন্তু বাস্তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটি সবসময় সম্ভব হয় না। একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রায়শই রোগীকে ডায়াবেটিস বা অন্য সমস্যার জন্য অন্য কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আলাদা প্রেসক্রিপশন তৈরি হয়। আগে এই ‘আলাদা প্রেসক্রিপশন’ থাকার কারণে বহু কর্মচারীর ওপিডি বিল বাতিল হয়ে যেত বা তাঁরা টাকা ফেরত পেতেন না।
নতুন নির্দেশিকায় কী সুবিধা মিলবে?
অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে চিকিৎসায় ‘মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি’ বা বহু-বিভাগীয় পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- রেফারেন্সের সুবিধা: যদি আপনার মূল চিকিৎসক আপনাকে অন্য কোনো বিশেষজ্ঞ বা সুপার-স্পেশালিস্টের কাছে সহ-রোগের চিকিৎসার জন্য রেফার করেন, তবে সেই বিষয়টি গ্রাহ্য হবে।
- আলাদা প্রেসক্রিপশন গ্রহণ: রেফার করা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যদি আলাদা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বা পরীক্ষার কথা লেখেন, তবে সেই আলাদা প্রেসক্রিপশন এখন থেকে ওপিডি (OPD) ক্লেমের জন্য বৈধ বলে গণ্য হবে।
- টাকা ফেরত: আলাদা প্রেসক্রিপশন হলেও, সেই বিলের টাকা বা রিমবার্সমেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকবে না।
এক নজরে নিয়ম পরিবর্তন
বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য নিচের ছকটি দেখুন:
| বিষয় | পুরানো নিয়ম | নতুন নিয়ম (২৬.১২.২০২৫ থেকে) |
|---|---|---|
| প্রেসক্রিপশন | সমস্ত ওষুধ একটি প্রেসক্রিপশনে থাকতে হতো। | রেফার করা ডাক্তারের আলাদা প্রেসক্রিপশন গ্রাহ্য হবে। |
| রেফারেন্স | আলাদা রেফারেন্সের গুরুত্ব কম ছিল। | মূল ডাক্তারের রেফারেন্স বাধ্যতামূলক। |
| বিল দাবি | আলাদা প্রেসক্রিপশন থাকলে বিল বাতিল হতো। | উভয় প্রেসক্রিপশনের বিলই পাওয়া যাবে। |
আবেদনকারীদের কী করতে হবে?
আপনি যদি এই সুবিধা পেতে চান, তবে বিল জমা দেওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন:
১. মূল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে যেন অন্য ডাক্তারের কাছে রেফার করার বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ থাকে।
২. রেফার করা বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন এবং বিলগুলি যত্ন সহকারে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করুন।
৩. যখন অফিসে বা পোর্টালে বিল বা ক্লেম জমা দেবেন, তখন মূল ডাক্তারের পরামর্শপত্র এবং নতুন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন—দুটিই একসঙ্গে জমা দিন।
এই নতুন নিয়মটি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার অসুস্থ কর্মচারী এবং পেনশনভোগী, যারা চিকিৎসার বিশাল খরচের চাপে জর্জরিত, তাঁরা অনেকটাই স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।