WBSSC Exam 2025: ২১ জুলাই মধ্যরাতে শেষ হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫ লক্ষ ৮৪ হাজার প্রার্থী ফর্ম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার প্রার্থী এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য আবেদন করেছেন ২ লক্ষ ৫৪ হাজার প্রার্থী।
সূচিপত্র
আন্দোলন এবং আবেদন
“রিভিউ পিটিশনের আগে কোনও চাকরির পরীক্ষার ফর্ম পূরণ নয়” — এই দাবিতে ‘যোগ্য’ শিক্ষকেরা বিকাশ ভবন অভিযান করেছিলেন, অবস্থান বিক্ষোভ করেছিলেন এবং অনশনেও বসেছিলেন। কিন্তু এখন সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতারাই ২০২৫ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদন করেছেন। মেহবুব এবং চিন্ময়ের মতো আন্দোলনকারীরাও পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করেছেন। ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের মধ্যে ৮৯ শতাংশই আবেদন করেছেন। তবে বাকি ১১ শতাংশ প্রার্থী আবেদন করলেন না।
চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ শারীর বিজ্ঞানের শিক্ষক অমিত রঞ্জন ভুঁইয়া অভিযোগ করেছিলেন যে, কলকাতার ডিআই অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সময় তাঁকে পুলিশের লাঠির ঘা খেতে হয়েছিল। তিনি এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অমিত বলেন, “আমরা আমাদের দাবি থেকে সরে আসিনি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের আবেদন করতে বাধ্য করেছে। আমরা পুলিশের লাঠি থেকে শুরু করে লাথি পর্যন্ত সহ্য করেছি।”
আদালতের নির্দেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি
এসএসসি কর্তৃক প্রকাশিত ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের তালিকায় ১৫,৪০৩ জনের নাম উল্লেখ ছিল। পরে এসএসসি ১,৮০১ জন ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর নথি আদালতে জমা দেয়। এসএসসি-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩,৭০০ জন ফর্ম পূরণ করেছেন। এর অর্থ হল, ১১ শতাংশ ‘যোগ্য’ শিক্ষক এই নতুন প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি। প্রায় ৮৯ শতাংশ ‘যোগ্য’ প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তবে, এই ১৫,৩০৩ জন ‘যোগ্য’ শিক্ষক এখনও স্কুলে চাকরি করছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁরা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে পড়াতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর প্যানেল বাতিল করে দেয়। আন্দোলনের অন্যতম মুখ মেহবুব মণ্ডল বলেন, “আমরা সবাই ফর্ম পূরণ করেছি। যেহেতু ‘অযোগ্য’দের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হচ্ছে না, তাই আমরা এক ধাপ এগিয়েছি। আমরা ফর্ম পূরণ করেছি এবং পরীক্ষা দেব। বাকিটার জন্য আমরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে আছি।”
২০১৬ সালের চিত্র
২০১৬ সালের এসএলএসটি পরীক্ষার জন্য প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৩৫ হাজার। এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার আবেদন করেছিলেন।