8th Pay Commission Pension: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের অবসরের পরের জীবন আরও সুরক্ষিত করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল ন্যাশনাল কাউন্সিল (স্টাফ সাইড) জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)। গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তারা অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত মেমোরেন্ডাম জমা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে অবসরপ্রাপ্তদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখাই এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য।
সবচেয়ে বড় দাবি উঠেছে পেনশন স্কিম নিয়ে। মেমোরেন্ডামে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কন্ট্রিবিউটারি ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) এবং সম্প্রতি অনুমোদিত ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম (UPS) কর্মীদের স্বার্থবিরোধী। এর বদলে সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর জন্য পুরনো পেনশন স্কিম বা Old Pension Scheme (OPS) ফিরিয়ে আনার জোরদার আবেদন জানানো হয়েছে।
সূচিপত্র
পেনশন ও ফ্যামিলি পেনশনে ব্যাপক বৃদ্ধির প্রস্তাব
বর্তমানে অবসরের পর শেষ প্রাপ্ত বেতনের (Last Pay Drawn বা LPD) ৫০ শতাংশ পেনশন হিসেবে দেওয়া হয়। তবে NC-JCM চাইছে এই হার বাড়িয়ে ৬৭ শতাংশ করা হোক। সেক্ষেত্রে শেষ প্রাপ্ত বেতন অথবা গত ১০ মাসের গড় বেতনের মধ্যে যেটি বেশি, সেটিকেই ভিত্তি হিসেবে ধরার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ফ্যামিলি পেনশনের হার বর্তমান ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫০ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি বর্ধিত ফ্যামিলি পেনশন (Enhanced Family Pension) পাওয়ার সময়সীমাও বাড়িয়ে ৭০ বছর করার আর্জি রয়েছে। পেনশনভোগীদের জন্য সবথেকে বড় স্বস্তির খবর হতে পারে অন্য একটি দাবি— সেটি হলো সমস্ত ধরণের পেনশন এবং ফ্যামিলি পেনশনকে আয়করের (Income Tax) আওতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা।
বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে পেনশন
বার্ধক্যে চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় অনেককেই। এই সংকট মেটাতে বয়সভিত্তিক ধাপে ধাপে পেনশন বাড়ানোর একটি পরিকাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে:
- ৬৫ বছর বয়স: শেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭০ শতাংশ
- ৭০ বছর বয়স: শেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ
- ৭৫ বছর বয়স: শেষ প্রাপ্ত বেতনের ৮০ শতাংশ
- ৮০ বছর বয়স: শেষ প্রাপ্ত বেতনের ৮৫ শতাংশ
- ৮৫ বছর বয়স: শেষ প্রাপ্ত বেতনের ৯০ শতাংশ
- ৯০ বছর বয়স: শেষ প্রাপ্ত বেতনের ১০০ শতাংশ
গ্র্যাচুইটির হিসেবে বড় বদল ও ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি
ডেথ কাম রিটায়ারমেন্ট গ্র্যাচুইটি (DCRG) বা গ্র্যাচুইটি গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার দাবি তোলা হয়েছে। এখন মাসে ৩০ দিন ধরে হিসেব হলেও মেমোরেন্ডামে ২৫টি কার্যকর কর্মদিবস ধরার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে কর্মীদের প্রাপ্য টাকার অঙ্ক বাড়বে।
বর্তমানে গ্র্যাচুইটির ঊর্ধ্বসীমা ২৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারদর ও মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে এই সীমা একলাফে বাড়িয়ে ৭৫ লক্ষ টাকা করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ৩৩ বছরের বেশি চাকরির ক্ষেত্রে ১৬.৫ গুণের যে কড়াকড়ি রয়েছে, সেটিও তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আবাস ও যাতায়াতে অতিরিক্ত সুবিধা
শুধুমাত্র পেনশন নয়, প্রবীণদের কল্যাণে আরও বেশ কিছু সুবিধার কথা বলা হয়েছে মেমোরেন্ডামে। আকাশছোঁয়া বাড়ি ভাড়ার চাপ সামলাতে পেনশনভোগীদের জন্য হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স (HRA) চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি রেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিকদের যে ছাড় আগে ছিল, তা অবিলম্বে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সমস্ত পেনশনভোগীদের জন্য লিভ ট্রাভেল কনসেশন (LTC) এবং অসুস্থদের সেবার জন্য কেয়ার টেকার অ্যালাউন্স চালু করার অনুরোধ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সমস্ত সিভিল পেনশনারদের জন্য ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন বা OROP নীতি কার্যকর করার আর্জি জানিয়েছেন স্টাফ সাইড প্রতিনিধিরা।
বেতন কাঠামো ও সাম্প্রতিক আপডেট
গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জমা দেওয়া ৫১ পৃষ্ঠার এই মেমোরেন্ডামে পেনশনের পাশাপাশি বেতন পরিকাঠামোতেও আমূল পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সর্বনিম্ন বেসিক পে ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩৩ করার প্রস্তাবের পাশাপাশি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৩ শতাংশের বদলে ৬ শতাংশ করার আবেদন জানিয়েছে NC-JCM।
অষ্টম বেতন কমিশন যদি এই প্রস্তাবগুলি মেনে নেয়, তবে বর্তমান ও ভবিষ্যতের অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা আমূল বদলে যাবে। পেনশনের ওপর সম্পূর্ণ আয়কর ছাড় এবং গ্র্যাচুইটির সীমা বৃদ্ধি হলে তাঁদের হাতে খরচের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকবে, যা বার্ধক্যে চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বড় ভূমিকা নেবে।