Income Tax Rules: পুরনো ট্যাক্স কাঠামোই কি সেরা হতে চলেছে? ড্রাফট রুলসে বড় চমক, বাড়ছে একাধিক ভাতার সীমা
Income Tax Rules: কেন্দ্রীয় সরকার আয়কর আইনকে সহজ এবং যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। যদিও গত বাজেটে নতুন কর কাঠামো বা ‘নিউ ট্যাক্স রেজিম’-কে ডিফল্ট এবং আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সদ্য প্রকাশিত ‘ইনকাম ট্যাক্স রুলস ২০২৬’-এর খসড়া বা ড্রাফট অন্য কথা বলছে। এই খসড়া প্রস্তাব যদি গৃহীত হয়, তবে বহু বছর ধরে চলে আসা নামমাত্র অ্যালাউন্স বা ভাতার পরিমাণে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে, বেশি বেতনের কর্মচারীদের জন্য ফের পুরনো কর কাঠামোই লাভজনক হয়ে উঠতে পারে।
কোন কোন ভাতার সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব?
কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ বা সিবিডিটি (CBDT)-এর প্রকাশিত খসড়ায় বেশ কিছু ভাতার উর্ধ্বসীমা বহুগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইকোনমিক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি নিম্নরূপ:
- শিক্ষা ও হোস্টেল ভাতা: এতদিন সন্তানের শিক্ষা ভাতা বা চিলড্রেন এডুকেশন অ্যালাউন্স হিসেবে মাসিক মাত্র ১০০ টাকা ছাড় পাওয়া যেত, যা বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হোস্টেল ভাতা মাসিক ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯,০০০ টাকা করার কথা ভাবা হচ্ছে।
- খাবার ও গিফট ভাউচার: অফিসের কাজের সময় ফ্রি মিল বা খাবারের ওপর কর ছাড়ের সীমা প্রতি মিল পিছু ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা এবং বার্ষিক গিফট ভাউচারের সীমা ৫,০০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
- লোন ও এইচআরএ (HRA): সুদহীন বা কম সুদের লোনের ক্ষেত্রে কর ছাড়ের সীমা ২০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব। এছাড়া ব্যাঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে এবং আহমেদাবাদের মতো শহরেও এখন ৫০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা বা HRA ছাড়ের সুবিধা মিলতে পারে।
১৫ লক্ষের বেশি বেতনে পুরনো কাঠামোয় লাভ?
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাবগুলি কার্যকর হলে যাঁদের বার্ষিক বেতন ১৫ লক্ষ টাকা বা তার বেশি, তাঁরা পুরনো কর কাঠামো বা ওল্ড রেজিম বেছে নিলে বেশি লাভবান হতে পারেন। বর্তমান নিয়মে ১৫ লক্ষ টাকা বেতনে নতুন কাঠামোয় যেখানে প্রায় ৯৭,৫০০ টাকা কর দিতে হয়, সেখানে পুরনো কাঠামোয় বিভিন্ন ছাড় (যেমন 80C, 80D এবং বর্ধিত অ্যালাউন্স) ঠিকঠাক ব্যবহার করলে সেই কর কমে প্রায় ৪১,৪৯৬ টাকায় নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ বিপুল সাশ্রয়ের সুযোগ থাকছে। ২০ লক্ষ বা ২৫ লক্ষ টাকা বেতনের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রায় ৬০-৬৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত সাশ্রয় সম্ভব।
নতুন আয়কর বিল ও বাস্তবায়ন
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন স্পষ্ট করেছেন যে, ১৯৬১ সালের আয়কর আইনটি বর্তমান ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মেলাতে পারছিল না এবং এতে প্রচুর জটিলতা ছিল। তাই নতুন আয়কর বিল আনা হচ্ছে, যা ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এতে ৫৩৬টি ধারা থাকবে এবং ভাষা হবে অত্যন্ত সহজ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
- ‘প্রিভিয়াস ইয়ার’ এবং ‘অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার’-এর ধারণা বাতিল করে শুধুমাত্র ‘ট্যাক্স ইয়ার’ চালু করা হবে।
- দেরিতে আইটিআর (ITR) ফাইল করলেও রিফান্ড পেতে সমস্যা হবে না।
- দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ব্যবসায়িক সম্পত্তির ওপর কর বসবে না।
- এই খসড়ার ওপর সাধারণ মানুষ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মতামত জানাতে পারবেন।
দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য এবং এটি কোনো আর্থিক পরামর্শ নয়। কর সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।