WB DA Arrears: শিক্ষক ও পেনশনারদের ৪৮ মাসের বকেয়া ডিএ-র হিসাব তলব করল শিক্ষা দপ্তর
WB DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর সম্প্রতি অনুদানপ্রাপ্ত বা গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পেনশনারদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) ও ডিয়ারনেস রিলিফ (DR)-এর হিসাব চেয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। রাজ্য অর্থ দপ্তরের নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে, জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত মোট ৪৮ মাসের বকেয়া ডিএ এবং ডিআর সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল।
প্রেক্ষাপট ও অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা
গত ১৩ই মার্চ ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর একটি মেমোরেন্ডাম (নম্বর: 998-F(P2)) প্রকাশ করে। এই বিজ্ঞপ্তিতে অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, পৌরসভা এবং অন্যান্য বিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মী ও পেনশনারদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর কথা উল্লেখ করা হয়। অর্থ দপ্তরের এই নির্দেশিকার পরেই ১৬ই মার্চ স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে দ্রুত হিসাব পাঠানোর নির্দেশ দেন। মূল লক্ষ্য হলো, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে প্রাপ্য বকেয়ার সঠিক হিসাব সংগ্রহ করা এবং তা প্রদানের নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা মডালিটি তৈরি করা। এই হিসাব সংগ্রহের কাজ মূলত রাজ্য সরকারের ফিনান্স পোর্টালের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। যেসব কর্মীর বেতন ইতিমধ্যেই আইএফএমএস (IFMS) বা এইচআরএমএস (HRMS) পোর্টালের মাধ্যমে হয়, তাঁদের তথ্য সহজেই যাচাই করা সম্ভব।
বিজ্ঞপ্তির আওতাধীন দপ্তর ও প্রয়োজনীয় তথ্য
এই নির্দেশিকাটি স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অধীনস্থ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড ও কমিশনের প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)।
- উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবং মধ্য শিক্ষা পর্ষদ।
- পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।
- মিড-ডে মিল ডিপার্টমেন্ট ও রবীন্দ্র ওপেন স্কুলিং।
- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিশু শিক্ষা মিশন।
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি নির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে:
১. সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অধীনস্থ সমস্ত কর্মরত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পেনশনারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা।
২. প্রত্যেক কর্মীর বেতন এবং ভাতার (Pay and Allowances) অথেন্টিকেটেড বা অনুমোদিত তথ্য।
৩. জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত, এই ৪৮ মাসে প্রতি মাসে প্রাপ্ত মহার্ঘ ভাতা বা ডিআর-এর বিস্তারিত বিবরণ।
কর্মীদের ওপর প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের শিক্ষক ও সরকারি কর্মীরা বকেয়া ডিএ-র দাবিতে সরব ছিলেন। বর্তমান এই বিজ্ঞপ্তিটি স্পষ্টতই বকেয়া মেটানোর প্রশাসনিক প্রস্তুতির অংশ। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বকেয়া ডিএ বা ডিআর কীভাবে প্রদান করা হবে, তার নির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করার কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের একটি ফিজিক্যাল মিটিং ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকের পর অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া মেটানোর বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে।