ডিএ

WB DA Arrears: ডিএ বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় গরমিলের অভিযোগ

7th Pay Commission Govt Employees Nabanna Money
7th Pay Commission Govt Employees Nabanna Money

WB DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে ফের এক নতুন মোড়। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি ঐতিহাসিক রায় দান করেন, যেখানে স্পষ্ট বলা হয় যে ডিএ সমস্ত সরকারি কর্মচারীর আইনত অধিকার (Legally Enforceable Right)। বকেয়া মেটানোর জন্য রাজ্য সরকারকে আগামী ৩১শে মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, রাজ্য অর্থ দপ্তরের (Finance Department) প্রকাশিত মেমোগুলিকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি এবং বঞ্চনার অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। WBIFMS পোর্টালে নিজেদের এরিয়ার হিসাব দেখতে গিয়ে বহু কর্মচারী হতাশ হয়েছেন।

সূচিপত্র

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং বর্তমান পরিস্থিতি

wbpay.in-এর পাতায় আমরা দীর্ঘদিন ধরেই ডিএ মামলার প্রতিটি আপডেট আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আশা করা হয়েছিল যে সরকার মসৃণভাবে বকেয়া মিটিয়ে দেবে। কিন্তু ইউনিটি ফোরামের আহ্বায়ক দেবপ্রসাদ হালদার জানিয়েছেন, অর্থ দপ্তর থেকে সম্প্রতি যে মেমোগুলি বের করা হয়েছে, তাতে চূড়ান্ত অসঙ্গতি রয়েছে। কয়েকজন কর্মচারীর হিসাব হাতে পাওয়ার পর দেখা যায়, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাপ্য টাকার পরিমাণে ব্যাপক কাঁটছাঁট করেছে।

Advertisement

১৬৪% ডিএ-র দাবি বনাম রাজ্য সরকারের হিসাব

মূল সমস্যাটি তৈরি হয়েছে বকেয়া ডিএ-র শতাংশ হিসাব নিয়ে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া পাওনার ক্ষেত্রে যে দাবিগুলি উঠে এসেছে তা হলো:

  • প্রকৃত পাওনা: এআইসিপিআই (AICPI) বা অল ইন্ডিয়া কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স (বেস ইয়ার ১৯৮২=১০০, সূচক ৫৩৬) অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের ১৬৪% হারে ডিএ পাওয়া উচিত।
  • সরকারের হিসাব: অভিযোগ, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই হার কমিয়ে প্রতিটি কর্মচারীকে সর্বোচ্চ ১৪০% থেকে ১৪৫% হারে ডিএ দিচ্ছে, যা প্রকৃত পাওনার প্রায় অর্ধেক।
  • বঙ্গভবনের দৃষ্টান্ত: বঙ্গভবনের কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই এই ১৬৪% হিসাব অনুযায়ী ডিএ পেয়েছেন। তাহলে রাজ্যের বাকি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কেন এই বৈষম্য?
  • হিসাবের গলদ: শুধুমাত্র ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের হিসাব কেন দেওয়া হচ্ছে? ১লা এপ্রিল ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ের হিসাব কোথায় গেল, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

নবান্নে কড়া আইনি নোটিশ এবং অবমাননার হুঁশিয়ারি

সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে ইউনিটি ফোরাম। সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি (SLP) মামলায় কর্মচারীদের পক্ষে প্রথম থেকে লড়াই করা বর্ষীয়ান আইনজীবী মাননীয় শ্রী পি. চ্যাটার্জি মহাশয় ইতিমধ্যেই নবান্নে একটি কড়া আইনি চিঠি (Legal Notice) জমা দিয়েছেন। চিঠিতে সাফ জানানো হয়েছে যে, কোনোভাবেই ১৬৪% এর কম টাকা দেওয়া যাবে না। কম টাকা দেওয়া হলে তা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অবমাননা বা ভায়োলেশন হিসেবে গণ্য হবে। এর পাশাপাশি, হিসাবের স্বচ্ছতা জানতে একটি আরটিআই (RTI) অ্যাপ্লিকেশনও করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

বর্তমানে রাজ্য সরকার প্রবল আইনি চাপের মুখে রয়েছে। আগামী ১৫ই এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে, যেখানে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা পড়ার কথা। ইউনিটি ফোরাম স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকার যদি সঠিক হিসাব মেনে পুরো টাকা না দেয়, তবে ওই দিনই সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার (Contempt of Court) অভিযোগ জানানো হবে। wbpay.in-এর পক্ষ থেকে সমস্ত কর্মচারীদের অনুরোধ করা হচ্ছে, আপনারা আপনাদের HRMS প্রোফাইলের দিকে নজর রাখুন এবং ডিএ সংক্রান্ত সমস্ত ব্রেকিং আপডেটের জন্য আমাদের পোর্টালে চোখ রাখুন।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>