পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য অবশেষে খুশির খবর শোনাল রাজ্য সরকার। আগামী বুধবার নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আবেদনপত্র প্রকাশ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে প্রকল্পের রূপরেখা ও আবেদনের যাবতীয় নিয়মাবলিও স্পষ্ট করে দেওয়া হবে।
কল্যাণীতে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পটিকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সাথী কার্ডকেও কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারতের ধাঁচে সাজানো হচ্ছে। আগামী ১ জুন ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের ৩,০০০ টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নবান্নের।
সূচিপত্র
কারা পাবেন অন্নপূর্ণা ভান্ডারের সুবিধা?
রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী স্থায়ী বাসিন্দা মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। তবে শর্ত একটাই—আবেদনকারী যেন আয়কর দাতা না হন। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী মহিলারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।
বর্তমানে লক্ষ্মীর ভান্ডারের যারা উপভোক্তা, তারা সরাসরি নতুন এই প্রকল্পে স্থানান্তরিত হয়ে যাবেন। তবে ভুয়া বা মৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে এবার বিশেষ স্ক্রিনিং বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালানো হবে।
স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণের কঠোর নিয়ম
প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য প্রশাসন এবার খুবই কঠোর। ভোটার তালিকা যাচাই বা স্লিপ বিলির সময় যারা মৃত, স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এতে সরকারি কোষাগারের অপচয় অনেকটাই কমবে।
অবশ্য যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলেও তারা নাগরিকত্ব আইনের অধীনে আবেদন করেছেন বা ট্রাইব্যুনালে মামলা লড়ছেন, আইনি ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনুদান বন্ধ হবে না। বিষয়টি সরাসরি তদারকি করার জন্য নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন করবেন যেভাবে
আবেদন প্রক্রিয়া সহজ রাখতে ডিজিটাল এবং কাগজের ফর্ম—দুই ব্যবস্থাপনাই থাকছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই এই ফর্ম প্রকাশ করা হবে। বিধায়কদের উদ্যোগে প্রতিটি এলাকায় বিশেষ ক্যাম্প হবে। এছাড়া ব্লক স্তরের বিডিওদের নেতৃত্বে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সহায়তা করবেন।









