পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত সপ্তম বেতন কমিশন চালুর তোড়জোড় অবশেষে প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়েছে। সম্প্রতি জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সব প্রশাসনিক দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো তৈরি রাখে। রাজ্য সরকার চাইছে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই এই নতুন পে কমিশনের সুপারিশগুলো কার্যকর করতে।
তবে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। নির্বাচনের আগে যে দ্রুততার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সাথে বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির বিস্তর ফারাক থাকায় কর্মচারী সংগঠনগুলো একে তোপ দাগতে শুরু করেছে।
সূচিপত্র
জলসম্পদ দপ্তরের নির্দেশিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি
জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রত্যেকটি প্রশাসনিক দপ্তরকে তাদের কর্মীদের সংশোধিত বেতন ও ভাতার খসড়া তৈরি করতে হবে। এরপর অর্থ দপ্তরের পর্যবেক্ষণের পর তা পে কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, আগামী বছরের শুরুতেই সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কাজ শেষ করা।
প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের অমিল
নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গড়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন চালু করা হবে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং ছয় মাসের মধ্যে অষ্টম পে কমিশন চালুর রূপরেখাও প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু নতুন সরকার গঠনের দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়ায় কর্মীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
কর্মচারী সংগঠনের তীব্র সমালোচনা
কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক সমাজমাধ্যমে এই প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, পে কমিশন গঠনের কোনো গেজেট নোটিফিকেশন ছাড়াই দপ্তরগুলোর কাছে প্রস্তাব চাওয়া হচ্ছে—যা প্রশাসনিক ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। তিনি মনে করেন, এটি নিছক কর্মচারীদের বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল।
সর্বশেষ আপডেট: ডিএ বৃদ্ধি ও বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া
গত ২২শে জুন ২০২৬ তারিখে রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ডিএ ২০ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী, আগামী ১লা অক্টোবর ২০২৬ থেকে কর্মচারীদের মোট ডিএ বেড়ে হবে ৩৮ শতাংশ। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর রায় মেনে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজ চলছে। এর দ্বিতীয় কিস্তি মিলবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে।
কর্মচারীদের উপর বাস্তব প্রভাব
প্রশাসনিক স্তরে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় কর্মীদের কাজের চাপ কিছুটা বাড়বে। দপ্তরগুলোকে সার্ভিস বুক, পে অ্যানোমালি এবং নিজস্ব তথ্য যাচাই করে নতুন প্রস্তাব তৈরি করতে হবে। তবে আর্থিক দিক থেকে এটি বড় স্বস্তি আনবে। আগামী জানুয়ারি মাসে সপ্তম পে কমিশন চালু হলে এবং অক্টোবর থেকে ৩৮ শতাংশ ডিএ যুক্ত হলে কর্মীদের হাতে আসা বেতনে বড় রকমের লাফ দেখা যাবে।









