সরকারি কর্মচারী

Annapurna Yojana Eligibility: আশাকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার ও প্যারা টিচাররা অন্নপূর্ণা যোজনার আওতার বাইরে

Annapurna Bhandar 3000 Deposited Nabanna
Annapurna Bhandar 3000 Deposited Nabanna

এক নজরে

  • ৮ই জুলাই ২০২৬-এর সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু পেশার মানুষ অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না।
  • আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং প্যারা টিচারদের আবেদন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
  • আবেদনকারীর পরিবারে সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী থাকলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।
  • ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে পোর্টালের মাধ্যমে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
  • মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে সরাসরি আবেদনকারীর নাম তালিকা থেকে বাতিল করা হতে পারে।

Annapurna Yojana Eligibility: রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের (Department of Women and Child Development and Social Welfare) গত ৮ই জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি বিশেষ বৈঠকের পর প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই মুহূর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না। আপনি যদি এই প্রকল্পে আবেদন করে থাকেন, তবে এই নতুন নির্দেশিকাটি আপনার জন্য জানা অত্যন্ত জরুরি।

সূচিপত্র

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে নতুন সরকারি নির্দেশিকা

গত ৮ই জুলাই ২০২৬ তারিখে সকাল ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা বিতরণ (Post Benefit Distribution) সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকেই আবেদনকারীদের যোগ্যতা এবং যাচাইকরণ নিয়ে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, যারা সরকারি কোনো প্রকল্পের সাথে যুক্ত থেকে নিয়মিত ভাতা বা পারিশ্রমিক পান, তাদের এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হবে।

Advertisement

কারা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন?

নতুন নোটিশ অনুযায়ী, বেশ কিছু সরকারি সম্মান ভাতা প্রাপক এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যাদের আবেদন আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে, তারা হলেন:

  • আশাকর্মী: স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে যুক্ত আশাকর্মীরা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না।
  • অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা: অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের সাথে যুক্ত কর্মী এবং সহায়িকাদের আবেদন আপাতত গ্রাহ্য করা হবে না।
  • সিভিক ভলান্টিয়ার: রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়াররা যেহেতু সরকারি তহবিল থেকে ভাতা পান, তাই তারাও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
  • প্যারা টিচার: পার্শ্বশিক্ষক বা প্যারা টিচারদেরও এই মুহূর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনা হচ্ছে না।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, যেহেতু এঁরা সকলেই সরকারি কাজের সাথে যুক্ত এবং নিয়মিত পারিশ্রমিক পান, তাই পরবর্তী সরকারি নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত এদের আবেদন অনুমোদন করা হবে না। আবেদন সরাসরি বাতিল না বললেও, আপাতত তারা টাকা পাচ্ছেন না।

পরিবারের সদস্যদের আয়ের ভিত্তিতে নতুন নিয়ম

অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল যে, আবেদনকারী নিজে কোনো কাজ না করলেও তার পরিবারের কেউ সরকারি চাকরি করলে তিনি টাকা পাবেন কি না। নতুন নির্দেশিকায় এই বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে:

  • সরকারি কর্মচারী: আবেদনকারীর স্বামী বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী হলে আবেদনকারী টাকা পাবেন না।
  • পেনশনভোগী: পরিবারের কেউ সরকারি পেনশন পেলে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়া যাবে না।
  • আয়করদাতা: পরিবারের কোনো সদস্য যদি ইনকাম ট্যাক্স বা আয়কর প্রদান করেন, তাহলেও আবেদনকারীর আবেদন আপাতত স্থগিত রাখা হবে।

যদিও প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে পরিবারের সদস্যদের কথা উল্লেখ ছিল না, তবুও এই ধরনের পরিবারের সদস্যদের আপাতত প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আবেদনপত্রে ভুল সংশোধন ও কড়া ভেরিফিকেশন

অনেকেই হয়তো ভুল তথ্য দিয়ে বা পরিবারের সরকারি আয়ের কথা গোপন করে আবেদন করেছেন। তাদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। গত ৯ই জুলাই ২০২৬ থেকে এনআইসি (NIC) পোর্টালে এডিট (Edit) বা সংশোধনের অপশন চালু করে দেওয়া হয়েছে। যাচাইকারী আধিকারিকরা (Enquiry Officers) এখন থেকে আবেদনপত্রগুলো খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে পারবেন। যদি ভেরিফিকেশনের সময় দেখা যায় যে কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করেছেন, তবে সরাসরি তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।

আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

  • আপনি যদি উপরে উল্লেখিত কোনো পেশার সাথে যুক্ত থাকেন, তবে অযথা চিন্তা করবেন না। আপাতত আপনাদের আবেদন স্থগিত থাকলেও, সরকার ভবিষ্যতে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে।
  • যাঁরা ভুলবশত ভুল তথ্য জমা দিয়েছেন, তারা স্থানীয় যাচাইকারী আধিকারিকদের সাথে যোগাযোগ করে সঠিক তথ্য তুলে ধরুন।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>