পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তরের অধীনে থাকা অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস সার্ভিস (WBA&AS) অফিসারদের সম্পদ বিবরণী বা ডিক্লারেশন অফ অ্যাসেট স্টেটমেন্ট (DAS) জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে প্রকাশিত একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এই ক্যাডারের অফিসাররা এখন আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত তাঁদের সম্পদের খতিয়ান অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। আগের নিয়ম অনুযায়ী, এই শেষ তারিখ ছিল ৩০ এপ্রিল ২০২৬।
অর্থ দপ্তরের (গ্রুপ-টি) ১০১২/এফ(ওয়াই)-ডব্লিউবি/ই৯৩২৪৭৭ নম্বর অর্ডারে এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। যারা পশ্চিমবঙ্গ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস সার্ভিসে কর্মরত, তাঁদের জন্য এই নির্দেশিকাটি প্রযোজ্য। মনে রাখতে হবে, ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির যে স্থিতি ছিল, সেটিই পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
সূচিপত্র
কেন এই সময়সীমা বাড়ানো হল
নিয়ম অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ পরিষেবা বিধি (WBSR) মেনে প্রতি বছর ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই অফিসারদের এই দায়িত্ব সম্পন্ন করার কথা। তবে মাঝেমধ্যে পোর্টালে প্রযুক্তিগত সমস্যা বা প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারেন না। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি এই সময়সীমা বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছেন।
ড্যাস পোর্টাল ও অনলাইন সাবমিশন
পুরো বিষয়টি যেহেতু অনলাইনের মাধ্যমে হয়, তাই ড্যাস (DAS) পোর্টালে লগ-ইন করে অফিসারদের যাবতীয় তথ্য ডিজিটালভাবে পেশ করতে হচ্ছে। দপ্তরের নির্দেশে ই-গভর্ন্যান্স সেলকে পোর্টালটি ৩০ জুন পর্যন্ত খোলা রাখা এবং প্রয়োজনীয় আপডেট দেওয়ার কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। যারা এখনও আবেদন জমা দিতে পারেননি, তাঁরা এবার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।
নির্দেশিকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একনজরে
অফিসারদের সুবিধার জন্য নির্দেশিকার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- মেমো নম্বর: ১০১২/এফ(ওয়াই)-ডব্লিউবি/ই৯৩২৪৭৭
- প্রকাশের তারিখ: ১৯ মে ২০২৬
- পুরনো শেষ তারিখ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- বর্ধিত শেষ তারিখ: ৩০ জুন ২০২৬
- কার জন্য প্রযোজ্য: অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস সার্ভিসের অফিসার (WBA&AS)
সম্পদ ঘোষণা না করলে কী সমস্যা হতে পারে
সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রতি বছর সম্পদ ঘোষণা করা একটি বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া। সময়মতো এই বিবরণ জমা না দিলে ভিজিল্যান্স ক্লিয়ারেন্স পেতে বড় ধরনের বাধা আসতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পদোন্নতি বা বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ওপর। এছাড়া পেনশনের কাজ বা বড় কোনো সরকারি লোনের ক্ষেত্রেও সম্পদ বিবরণী না থাকলে ফাইল আটকে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।
অর্থ দপ্তরের এই নির্দেশিকার প্রতিলিপি ইতিমধ্যেই নবান্ন, রাইটার্স বিল্ডিংস, স্টেট ভিজিল্যান্স কমিশন এবং ডিরেক্টরেট অফ ট্রেজারি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস (DTA) সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সার্ভিস রেকর্ড সেল বা এসআরএমএস পোর্টালেও এই নির্দেশ দ্রুত আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









