Attendance App: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের হাজিরা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে। নবান্ন থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য এবার মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা বা অ্যাটেনডেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করছে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, ফেস রেকগনিশন এবং জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এর ফলে সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ করলেই নিজেদের স্মার্টফোন থেকে হাজিরা নথিভুক্ত করতে পারবেন। দীর্ঘক্ষণ বায়োমেট্রিক মেশিনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বা লিফটের জন্য অপেক্ষা করে দেরি হওয়ার যে সমস্যা ছিল, তা এই নতুন নিয়মের ফলে চিরতরে দূর হতে চলেছে।
সূচিপত্র
নতুন হাজিরা অ্যাপটি কীভাবে কাজ করবে?
রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, অত্যাধুনিক ‘ফেস রেকগনিশন অ্যাটেন্ড্যান্স সিস্টেম’ (Face Recognition Attendance System) সম্বলিত এই অ্যাপটিতে কর্মীদের সুবিধার্থে বেশ কিছু নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।
- জিও-ফেন্সিং (Geo-fencing): আপনার অফিসের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে এলেই অ্যাপটির লোকেশন ট্র্যাকিং অ্যাক্টিভ হয়ে যাবে এবং হাজিরার অপশন খুলে যাবে।
- ফেস ভেরিফিকেশন (Face Verification): অ্যাপটি খোলার পর সেলফি বা মুখের স্ক্যানের মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনও প্রক্সি অ্যাটেনডেন্স বা ভুয়ো হাজিরা না হয়।
- ঝামেলামুক্ত প্রক্রিয়া: বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দেওয়ার জন্য আর ভিড় ঠেলে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না।
অফিসে আসার সময়সীমা ও নতুন নিয়মাবলী
এই নতুন অ্যাপ চালুর পাশাপাশি অফিসে প্রবেশ এবং দেরিতে আসার ক্ষেত্রে কিছু কড়া নিয়মও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সময়ের প্রতি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই নিয়মগুলি জানা প্রত্যেক কর্মীর জন্য অত্যন্ত জরুরি:
| অফিসে প্রবেশের সময় | নতুন নিয়ম বা প্রভাব |
|---|---|
| সকাল ১০টা ১৫ মিনিট | অফিসে ঢোকার সঠিক সময়। |
| সকাল ১০টা ১৬ মিনিট থেকে ১০টা ৪৫ মিনিট | ‘লেট মার্ক’ (Late Mark) হিসেবে গণ্য হবে। |
| টানা ৩ দিন লেট মার্ক | ১ দিনের ক্যাজুয়াল লিভ (CL) বা ছুটি কাটা যাবে। |
| সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের পর | সরাসরি সেই দিনের পুরো ছুটি বাতিল বা কাটা যাবে। |
সরকারি কর্মীদের কেন এই অ্যাপটি প্রয়োজন ছিল?
নবান্ন বা অন্যান্য বহুতল সরকারি ভবনগুলিতে লিফট ব্যবহার করে নিজেদের নির্দিষ্ট দপ্তরে বা ডেস্কে পৌঁছতে গিয়ে অনেক কর্মীরই বেশ কিছুটা সময় নষ্ট হয়। আগে অফিসে ঢুকে বায়োমেট্রিক পাঞ্চ করতে গিয়ে সেই সামান্য সময়ের পার্থক্যে অনেকেরই ‘লেট মার্ক’ পড়ে যেত। এতে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছিল। এই স্মার্ট মোবাইল অ্যাপ চালু হলে, বিল্ডিংয়ের গেটের কাছাকাছি বা ১০০ মিটারের মধ্যে এলেই হাজিরা দেওয়া যাবে, ফলে ওই অতিরিক্ত সময়ের জন্য আর কাউকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে না।
রাজ্য সরকারের এই কড়া অথচ স্মার্ট পদক্ষেপ সরকারি কাজে চরম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কর্মীদের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। নির্ভুল ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের এই উদ্যোগ রাজ্য প্রশাসনে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে যা কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও পরোক্ষভাবে সুবিধা করবে।









