WB DA Arrears: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরেও রাজ্যের অনুদানপ্রাপ্ত ও সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে ফের তৈরি হলো চরম অনিশ্চয়তা। রাজ্যের অন্যান্য দপ্তরের সরকারি কর্মীরা রোপা ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ পাওয়া শুরু করলেও, শিক্ষাক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কার্যত কোনো অগ্রগতি নেই। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে রাজ্যের শিক্ষক সমাজ ফের একবার দ্বারস্থ হলেন কলকাতা হাইকোর্টের। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে দায়ের হয়েছে নতুন মামলা, যেখানে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত থাকবেন?
সূচিপত্র
সরকারি কর্মীরা পেলেন, শিক্ষকরা কেন বঞ্চিত?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার ও অর্থ দপ্তর সক্রিয় হয়ে সাধারণ সরকারি কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং ফ্যামিলি পেনশনারদের জন্য বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিভিন্ন দপ্তরে ইতিমধ্যেই এই টাকা হাতে পেতে শুরু করেছেন কর্মীরা। কিন্তু গ্রান্ট-ইন-এইড ও সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফে কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি এখনও জারি হয়নি। ওএসএমএস (OSMS) পোর্টালে কাজ শুরুর প্রাথমিক খবর মিললেও, বাস্তবে তার কোনো সন্তোষজনক অগ্রগতি নজরে আসেনি, যার ফলে এক প্রকার অন্ধকারেই রয়েছেন শিক্ষক সমাজ।
অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের আইনি লড়াই
এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা ফের আইনি পথ বেছে নিয়েছেন। অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ABTA)-এর উদ্যোগে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে নতুন মামলা। সংগঠনের স্পষ্ট বক্তব্য, রাজ্য সরকার যখন অন্যান্য কর্মচারীদের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে মহার্ঘ ভাতা দিতে শুরু করেছে, তখন সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা কেন এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকবেন? প্রশাসনের এই নীরবতা নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলেছে ABTA।
বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে কী হতে চলেছে?
মামলাটি বর্তমানে বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে বিচারাধীন এবং শীঘ্রই এর শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এই মামলা নতুন আঙ্গিকে হাইকোর্টে ফিরে আসায় শিক্ষক মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। আদালত এই বিষয়ে ঠিক কী নির্দেশ দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।
আগামী দিনে কী হতে পারে?
দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রাজ্যের শিক্ষকরা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন এই টানাপোড়েনের অবসান ঘটবে, কিন্তু গ্রান্ট-ইন-এইড স্কুলের ক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান নিষ্ক্রিয়তা নতুন করে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এখন সব নজর বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চের শুনানির দিকে।









