সরকারি কর্মচারী

GISS Module: রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য চালু হচ্ছে GISS পরিষেবার নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা

Giss Online Module
Giss Online Module

এক নজরে

  • পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য WBIFMS প্ল্যাটফর্মে নতুন GISS মডিউল চালু করেছে।
  • এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মীদের গ্রুপ ইনসিওরেন্স-কাম-সেভিংস স্কিমের হিসাব সম্পূর্ণ অনলাইনে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।
  • অফিসের প্রধানরা HOO GISS Admin হিসেবে HRMS লগইন ব্যবহার করে এই মডিউলে প্রবেশ করতে পারবেন।
  • সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভিস টেনিউর ক্যাপচারের মাধ্যমে ওপেনিং ব্যালেন্স ও সুদ নির্ধারণ করবে।
  • নতুন এই অনলাইন ব্যবস্থার ফলে হিসাবের ভুলত্রুটি কমে যাবে এবং প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।

GISS Module: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর সম্প্রতি রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের এক স্মারকের মাধ্যমে WBIFMS প্ল্যাটফর্মে চালু হওয়া “Group Insurance-cum-Savings Scheme” বা GISS মডিউল পরিচালনার বিস্তারিত নিয়মাবলী গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে (স্মারক নং ১১৯-F(J))। এর ফলে রাজ্যের লক্ষাধিক কর্মচারীর গ্রুপ ইনসিওরেন্স-কাম-সেভিংস স্কিম সংক্রান্ত যাবতীয় হিসাব এবার সম্পূর্ণ অনলাইনে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

সূচিপত্র

GISS মডিউল আসলে কী?

অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, GISS 1983/1987 প্রকল্পের অধীন যে সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারী GISS-এর সদস্য বা সদস্য হওয়ার যোগ্য, তাঁদের বছরওয়ারি সুদ জমা করার প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করে তুলতেই এই মডিউল আনা হয়েছে। এতদিন এই হিসাব মূলত ম্যানুয়াল বা আধা-ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হতো, যার ফলে বিলম্ব ও ভুলের সম্ভাবনা থেকে যেত। এখন থেকে WBIFMS-এর মাধ্যমেই কর্মীদের GISS সেভিংস ফান্ডের ওপেনিং ব্যালেন্স ধরা হবে এবং তার ভিত্তিতে সুদ হিসাব করা হবে।

Advertisement

কারা ব্যবহার করবেন এই মডিউল?

নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ডিরেক্টরেট অফ পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যান্ড গ্রুপ ইনসিওরেন্স (DPPG), পশ্চিমবঙ্গ এই মডিউল বাস্তবায়নের শীর্ষ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। প্রতিটি অফিসের প্রধান “HOO GISS Admin” হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যিনি HRMS-এর একই লগইন দিয়ে সরাসরি এই মডিউলে প্রবেশাধিকার পাবেন। প্রয়োজনে তিনি “HOO GISS Operator” নিয়োগ করতে পারবেন, যিনি কর্মীভিত্তিক তথ্য এন্ট্রি করবেন। এছাড়াও প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তর একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করবে।

কীভাবে কাজ করবে প্রক্রিয়াটি?

প্রথমে HOO GISS Admin মডিউলে একটি ওয়ার্কফ্লো তৈরি করবেন। এরপর HOO GISS Operator ১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত কর্মীদের GISS-এর ওপেনিং ব্যালেন্স ধরে “Service Tenure Capture” অনুরোধ শুরু করবেন, যার ভিত্তিতে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে GISS সেভিংস ফান্ডের ওপেনিং ব্যালেন্স নির্ধারণ করবে। এরপর HOO GISS Admin পর্যালোচনা করে অন্তত ৯০ শতাংশ কর্মীর তথ্য একসঙ্গে DPPG-তে পাঠাবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কর্মীকে “Employee Review List”-এ রাখা যাবে, এবং বাকি অংশ সর্বোচ্চ দুই দফায় পাঠানো যাবে। সবশেষে DPPG যাচাই করে অনুরোধ গ্রহণ করবে অথবা সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠাবে।

সুদ জমা হবে কীভাবে?

অনুরোধ গৃহীত হওয়ার পর DPPG, WB সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য কর্মীদের GISS অ্যাকাউন্টে যথাযথ সুদের পরিমাণ AGWB থেকে বুক অ্যাডজাস্টমেন্ট বা অর্থ দপ্তরের নির্ধারিত অন্য কোনও পদ্ধতিতে সরাসরি জমা করবে।

কর্মীদের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের GISS সংক্রান্ত সুদ ও ব্যালেন্স আপডেট অনেক দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে হাতে-কলমে হিসাব করার ভুল কমবে এবং কর্মীরাও নিজেদের অ্যাকাউন্টের প্রকৃত অবস্থা সহজে জানতে পারবেন। প্রয়োজনে DPPG আরও অপারেশনাল নির্দেশিকা জারি করতে পারবে বলেও স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে GISS Module চালু হওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মীদের এই নতুন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি, কারণ আগামী দিনে GISS সংক্রান্ত সমস্ত কাজকর্ম মূলত এই মডিউলের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>