Primary Teacher Case: রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের ৩২,০০০ শিক্ষক নিয়োগ মামলায় বড় ধরনের অগ্রগতি। সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার চূড়ান্ত অফিস রিপোর্ট। আগামী ১৭ই আগস্ট ২০২৬, সোমবার দেশের শীর্ষ আদালতের সিভিল আপিলেট জুরিসডিকশনের ৭ নম্বর কোর্টে (আইটেম নম্বর ৪৬) মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
স্পেশাল লিভ পিটিশন (সিভিল নম্বর ১২৬৫/২০২৬)-এর অধীনে বিচারাধীন এই মামলাটিতে যুক্ত হয়েছে একাধিক ইন্টারলোকিউটারি অ্যাপ্লিকেশন বা আই-এ। ফলে গোটা আইনি লড়াইয়ে এক নতুন মোড় তৈরি হয়েছে।
সূচিপত্র
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষাপট ও সময়সীমা
ঘটনার শুরু গত ১৮ই মে ২০২৬ তারিখে। সেদিন অনারেবল সুপ্রিম কোর্টে স্বপ্নাবৈদ্য বনাম ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ প্রাইমারি এডুকেশন মামলাটি প্রথম মেনশন ও লিস্টেড হয়। প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ বাতিলের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা এই এসএলপি-টি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন বিচারপতিদের বেঞ্চ।
শুনানি চলাকালীন আদালত আবেদনের বিলম্ব মকুব (ডিলে কন্ডোনেশন) করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিশ পাঠায়। পাশাপাশি, ২৬শে জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে কাউন্টার এফিডেভিট এবং তার ঠিক দুই সপ্তাহের ভেতর প্রয়োজনে রিজয়ন্ডার জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
| তারিখ | আদালতের পদক্ষেপ ও মাইলফলক |
|---|---|
| ১৮ই মে ২০২৬ | এসএলপি গ্রান্ট, বিলম্ব মকুব ও নোটিশ ইস্যুর নির্দেশ |
| ২৬শে জুলাই ২০২৬ | কাউন্টার এফিডেভিট জমা দেওয়ার শেষ দিন |
| ১৪ই আগস্ট ২০২৬ | নথিপত্র সংশোধন ও নতুন ইমপ্লিডমেন্ট জমা |
| ১৭ই আগস্ট ২০২৬ | প্রধান বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানি (কোর্ট নম্বর ৭, আইটেম ৪৬) |
নতুন আবেদন ও ইমপ্লিডমেন্টের বিস্তারিত তথ্য
এদিকে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে জমা পড়া অফিস রিপোর্টে একগুচ্ছ নতুন আবেদনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরাসরি পক্ষ না হলেও যাদের চাকরির স্বার্থ এই মামলার ওপর নির্ভর করছে, তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে আবেদন জমা দিয়েছেন।
গত ১৪ই আগস্ট ২০২৬ তারিখে রোহিত দত্তের পক্ষ থেকে সার্কুলেটেড কপি জমা দিয়ে ইমপ্লিডমেন্ট ফাইল করা হয়। পাশাপাশি ধর্মপ্রসাদ ল’ অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য দলগুলোর তরফে নতুন ইন্টারভেনশন আবেদন পেশ হয়েছে। বেশ কিছু আবেদনে আগের এসএলপি নম্বর ও এফিডেভিটে থাকা সাধারণ ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে নতুন করে নথি জমা দিয়েছেন আইনজীবীরা।
রাজ্য সরকার ও পর্ষদের আইনি অবস্থান
তবে আগামী সোমবারের শুনানিতে রাজ্য সরকার এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ PRIMARY EDUCATION (WBBPE)-এর কৌশল কী হবে, তা নিয়ে আইনি মহলে কৌতুহল তুঙ্গে। মামলায় মূল রেসপন্ডেন্ট হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টে সিনিয়র অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডদের (AOR) মাধ্যমে উপস্থিত থাকছে দুই পক্ষই।
পর্ষদ ও রাজ্য সরকার চাইলে নিরপেক্ষ থেকে সরাসরি আদালতের ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার আর্জি জানাতে পারে। অন্যদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত নথি পেশ করে এই ৩২,০০০ শিক্ষকের পদ টিকিয়ে রাখার সপক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরার পথও তাদের সামনে খোলা রয়েছে।
পূর্ববর্তী রায় বনাম সুপ্রিম কোর্ট শুনানির আইনি তুলনা
| বিষয় | হাইকোর্টের নির্দেশ | সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান পরিস্থিতি |
|---|---|---|
| নিয়োগের স্থায়িত্ব | পূর্ববর্তী একক বেঞ্চ বাতিল করলেও ডিভিশন বেঞ্চ স্বস্তি দেয় | স্বস্তির রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ শুনানির মুখে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন |
| আইনি সুযোগ | কাউন্টার এফিডেভিট জমা শেষ | রিজয়ন্ডার ও ইমপ্লিডমেন্ট পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে |
| শিক্ষকদের অবস্থান | ৯ বছরের বেশি চাকরির সপক্ষে রায় | চূড়ান্ত সুরক্ষার জন্য ১৭ই আগস্টের বেঞ্চের দিকে নজর |
ইতিমধ্যে উভয় পক্ষের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডদের হাতে অফিস রিপোর্ট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন ১৭ই আগস্টের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ঠিক কী অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়, তার ওপরই ঝুলে রয়েছে এই শিক্ষকদের ভবিষ্যত আইনি পদক্ষেপ।









