সহায়িকা ও নিয়মাবলী

BLO App Update: নামের সামান্য ভুলেও হিয়ারিং! বিএলও অ্যাপের নতুন আপডেটে জানুন করণীয়

BLO App Update
Blo App Update

BLO App Update: নির্বাচন কমিশনের বিএলও (BLO) অ্যাপের সাম্প্রতিক আপডেটের ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বড়সড় রদবদল এসেছে। বিশেষ করে অ্যাপের ৯.০৯ ভার্সন আসার পর থেকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy) বা তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। অনেক সাধারণ ভোটার, যাদের নাম হয়তো বহুদিন ধরেই তালিকায় রয়েছে, তারাও এখন শুনানির বা হিয়ারিং-এর নোটিশ পাচ্ছেন। কেন এমন হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে আপনার করণীয় কী, তা নিয়ে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।

সূচিপত্র

অ্যাপ আপডেটে নতুন জটিলতা: ‘হোয়াইট’ মার্কিং কেন?

বিএলও অ্যাপের ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (Special Intensive Revision) বিভাগে আগে ভোটারদের নামের পাশে সাধারণত সবুজ বা সাদা রঙের চিহ্ন দেখা যেত। কিন্তু বর্তমান ৯.০৯ আপডেটের পর অনেক পুরনো ভোটারের নামও এখন ‘সাদা’ বা ‘হোয়াইট’ কালার কোডে চিহ্নিত হচ্ছে। এর মানে হলো, কমিশনের ডাটাবেসে ওই নির্দিষ্ট ভোটারের তথ্যে কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়েছে এবং তাকে নতুন করে নথিপত্র প্রমাণ হিসেবে দাখিল করতে হবে।

মূলত ২০০২ সাল বা তার পরবর্তী শেষ এসআর (SIR) তালিকায় যাদের নাম ছিল, তাদের বর্তমান তথ্যের সঙ্গে পুরনো তথ্যের মিল না পাওয়া গেলেই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

Advertisement

ডিসক্রিপেন্সি বা অসঙ্গতির মূল কারণ কী?

অনেকেই ভাবছেন, এতদিন ভোট দেওয়ার পর হঠাৎ কেন অসঙ্গতি? অ্যাপে প্রদর্শিত বার্তাটি হলো— “Your name in the last SIR does not match in the name in current elector roll.” এর সহজ অর্থ হলো, ২০০২ সালের তালিকা বা শেষ প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকার নামের বানানের সঙ্গে বর্তমান ভোটার কার্ডের নামের বানানের হুবহু মিল নেই।

  • বানান ভুল ও অনুবাদের সমস্যা: অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বাংলা নাম ঠিক থাকলেও গুগলের অনুবাদের (Google Translate) কারণে বা ডাটা এন্ট্রির সময় ইংরেজি বানানে সামান্য হেরফের হয়েছে।
  • বংশলতিকা বনাম নিজের নাম: আগে সাধারণত বাবা বা মায়ের নামের সাথে লিঙ্কেজ না মিললে এই নোটিশ আসত। কিন্তু এখন নিয়ম বদলেছে। এখন ভোটার নিজের নাম ২০০২ সালের তালিকায় থাকা সত্ত্বেও যদি বর্তমান বানানের সাথে না মেলে, তবেই তাকে হিয়ারিং-এর জন্য ডাকা হচ্ছে।

শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নথিপত্র

যাদের নাম এই নতুন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় উঠে এসেছে, তাদের বিএলও-র মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু নথি আপলোড করতে হবে। শুনানির নোটিশ পেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. পুরনো তালিকার কপি: ২০০২ সালের ভোটার তালিকার যে পাতায় আপনার নাম রয়েছে, সেই পাতাটি এবং তালিকার একেবারে প্রথম পাতা বা টপ শিট (Top Sheet) স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
  2. নিজের নাম থাকলে সুবিধা: যেহেতু আপনার নিজের নামই পুরনো তালিকায় রয়েছে, তাই এই ক্ষেত্রে বাবা, দাদু বা অন্য কোনো আত্মীয়ের দলিল জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
  3. বিএলও আন্ডারটেকিং: একটি নির্দিষ্ট বিএলও ঘোষণাপত্র বা আন্ডারটেকিং ফর্ম পূরণ করে তার ছবি তুলে অ্যাপে সাবমিট করতে হবে।

এফিডেভিট বা হলফনামা কখন প্রয়োজন?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো হিয়ারিং-এর দিনের প্রস্তুতি। নাম বা বানানের ভুলের কারণে যদি এই সমস্যা হয়ে থাকে, তবে মৌখিক কথার চেয়ে আইনি নথির জোর অনেক বেশি।

  • ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট এফিডেভিট: যদি দেখেন ২০০২ সালের নামের বানানের সঙ্গে বর্তমান নামের বানানের বড়সড় পার্থক্য রয়েছে, তবে একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে এফিডেভিট করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
  • হলফনামার বিষয়বস্তু: এফিডেভিটে স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে যে, ২০০২ সালের তালিকায় উল্লেখিত ব্যক্তি এবং বর্তমান ভোটার তালিকার ব্যক্তি একই এবং অভিন্ন।

প্রযুক্তিগত কারণে বা ডাটা এন্ট্রির ভুলের দায়ভার অনেক সময় সাধারণ মানুষের ওপর এসে পড়ে। তবে সঠিক কাগজপত্র এবং প্রয়োজনে আইনি হলফনামা সঙ্গে থাকলে আপনার ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>