Carry Medicines in Flight: বিমানে ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন? এই ভুলগুলো করলে বিমানবন্দরেই বিপদে পড়বেন!

Carry Medicines in Flight: ভ্রমণের সময়, বিশেষ করে বিমানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে, অসুস্থতা বা জরুরি অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে, বিমানে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়, যা অনেকেরই অজানা। এই নিয়মগুলো না মানলে অনেক সময় বিমানবন্দরে সিকিউরিটি চেকের সময় সমস্যায় পড়তে হতে পারে, এমনকি আপনার প্রয়োজনীয় ওষুধটিও বাজেয়াপ্ত হতে পারে। এই পোস্টে আমরা বিমানে ওষুধপত্র নিয়ে যাওয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এবং টিপস নিয়ে আলোচনা করব, যা আপনার ভ্রমণকে আরও সুরক্ষিত ও চিন্তামুক্ত করবে।
কেন ওষুধ সঙ্গে রাখা জরুরি?
ভ্রমণের সময় আবহাওয়ার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাসের বদল বা অন্য কোনো কারণে শরীর অসুস্থ হতে পারে। এছাড়াও, যারা নিয়মিত কোনো রোগে ভুগছেন, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে রাখা অপরিহার্য। বিদেশে বা অচেনা জায়গায় সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধ খুঁজে পাওয়া কঠিন এবং ব্যয়বহুল হতে পারে। তাই, নিজের সুরক্ষার জন্যই প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
বিমানে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার জরুরি নিয়মাবলী
বিমানে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার সময় কিছু আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে হয়। এই নিয়মগুলি আপনার সুরক্ষা এবং অন্যান্য যাত্রীদের সুরক্ষার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক সেই নিয়মগুলি সম্পর্কে।
- ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অবশ্যই সঙ্গে রাখুন: যেকোনো ওষুধ, বিশেষ করে যদি সেটি নিয়ন্ত্রিত ওষুধের তালিকায় পড়ে, তবে তার সঙ্গে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রাখা বাধ্যতামূলক। প্রেসক্রিপশনটি আপনার নাম, ওষুধের নাম, এবং ডোজের পরিমাণ উল্লেখ সহ সাম্প্রতিক তারিখের হতে হবে। নিরাপত্তা কর্মীরা চাইলে আপনি যাতে প্রমাণ হিসেবে প্রেসক্রিপশনটি দেখাতে পারেন, তার জন্য এটি হাতের কাছেই রাখুন। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ নিয়ে গেলে তা বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
- ওষুধপত্র হ্যান্ড লাগেজে রাখুন: ভ্রমণের সময় সমস্ত প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র আপনার হ্যান্ডব্যাগ বা কেবিন লাগেজে রাখুন, চেক-ইন লাগেজে নয়। কারণ, চেক-ইন লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার বা পৌঁছাতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে আপনার প্রয়োজনীয় ওষুধ হাতের কাছে না থাকলে বড় সমস্যা হতে পারে।
- ওষুধের মূল প্যাকেজিং পরিবর্তন করবেন না: ওষুধগুলি তাদের আসল মোড়ক বা বোতলেই রাখুন। ওষুধের নাম, প্রস্তুতকারকের তথ্য, এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্টভাবে দেখা গেলে নিরাপত্তা কর্মীদের পক্ষে তা যাচাই করা সহজ হয়। আলাদা করে ছোট কোনো কৌটো বা প্যাকেটে ভরে ওষুধ নিলে তা সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে।
- তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা: ইনসুলিনের মতো কিছু ওষুধের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা প্রয়োজন। এই ধরনের ওষুধ নিয়ে ভ্রমণের আগে বিমান সংস্থাকে ইমেলের মাধ্যমে জানান এবং তাদের নিয়মাবলী জেনে নিন। সাধারণত, এই ধরনের ওষুধ একটি ছোট আইস প্যাক সহ ইনসুলেটেড ব্যাগে বহন করার অনুমতি দেওয়া হয়। বিমানে ওঠার পর, আপনি কেবিন ক্রুদের অনুরোধ করতে পারেন ওষুধটি তাদের তত্ত্বাবধানে শীতল স্থানে রাখার জন্য।
- পরিমাণ মতো ওষুধ নিন: আপনার ভ্রমণের সময়কালের জন্য যে পরিমাণ ওষুধ প্রয়োজন, ঠিক সেই পরিমাণই সঙ্গে নিন। অতিরিক্ত পরিমাণে ওষুধ নিয়ে গেলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদি আপনাকে বেশি পরিমাণে ওষুধ নিতেই হয়, তবে তার জন্য উপযুক্ত কারণ এবং ডাক্তারের অনুমতিপত্র সঙ্গে রাখুন।
কিছু অতিরিক্ত টিপস
- তরল ওষুধের ক্ষেত্রে নিয়মাবলী: বিমানে ১০০ মিলিলিটারের বেশি তরল পদার্থ নিয়ে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন সহ প্রয়োজনীয় তরল ওষুধের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল করা হয়। তবে, এই ওষুধগুলি আপনাকে আলাদাভাবে নিরাপত্তা কর্মীদের দেখাতে হতে পারে।
- একটি তালিকা তৈরি করুন: আপনার সঙ্গে থাকা সমস্ত ওষুধের একটি তালিকা তৈরি করুন, যেখানে ওষুধের নাম এবং কখন কোনটি খেতে হবে তা লেখা থাকবে। এটি আপনার নিজের সুবিধার জন্য এবং জরুরি অবস্থায় অন্যের সাহায্যের জন্যেও কাজে লাগবে।
- ফোনে অ্যালার্ম সেট করুন: যাত্রার সময় বা নতুন টাইম জোনে যাওয়ার ফলে ওষুধ খাওয়ার সময় ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই, সঠিক সময়ে ওষুধ খাওয়ার জন্য আপনার ফোনে অ্যালার্ম বা রিমাইন্ডার সেট করে নিন।
বিমানে ওষুধ নিয়ে ভ্রমণ করার সময় এই নিয়মগুলি মেনে চললে আপনি নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন। আপনার স্বাস্থ্য আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাই ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ওষুধপত্রের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন।