DA Strike Case: বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ-র দাবিতে গত ১৩ মার্চ আন্দোলনে নেমেছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। সেই ধর্মঘটে সামিল হওয়ার কারণে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের। তবে এবার সেই ঘটনায় বড়সড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ রাজ্য সরকারের বেতন কাটার নির্দেশিকার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দায়ের করা একটি রিট পিটিশন-এর ভিত্তিতে এই জরুরি শুনানিটি হয়। এর আগে রাজ্যের অর্থ দপ্তর ১৩ মার্চের কর্মবিরতি রুখতে অত্যন্ত কড়া এক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল। সেই নির্দেশিকায় সাফ বলা হয়েছিল যে, উপযুক্ত কারণ ছাড়া কেউ অনুপস্থিত থাকলে তা ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিস রুলস (WBSR) অনুযায়ী ‘dies-non’ বা চাকরিতে ছেদ হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে বেতন কাটার পাশাপাশি কর্মীদের সার্ভিস রেকর্ডেও বড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে আদালতের এই হস্তক্ষেপের পর আপাতত সেই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ থমকে গেল।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
ঘটনার সূত্রপাত ১২ মার্চ ২০২৬-এ। রাজ্য অর্থ দপ্তরের একটি মেমোরেন্ডাম মারফত জানিয়ে দেওয়া হয় যে, পরের দিন অর্থাৎ ১৩ মার্চ সমস্ত সরকারি দপ্তরে ১০০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। পূর্বানুমোদিত ছুটি বা চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া কোনো ক্যাজুয়াল লিভ (CL) মঞ্জুর করা হয়নি।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর সরকারের ওই ‘dies-non’ এবং বেতন কাটার নির্দেশিকার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে এ নিয়ে আরও বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা চলবে।
বর্তমান পরিস্থিতি
কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশকে রাজ্য সরকারের কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি জোরালো রক্ষাকবচ হিসেবে দেখছেন আইনজীবীরা।
আপাতত ডিএ আন্দোলনকারীদের মধ্যে এই রায় খুশির হাওয়া নিয়ে এসেছে। ১৩ তারিখের কর্মবিরতির জেরে যাঁদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা এখন আদালতের এই স্থগিতাদেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁদের আইনি জবাব দাখিল করতে পারবেন।