ডিএ

DA Strike Nabanna: ডিএ ধর্মঘট রুখতে কড়া নবান্ন, ১৩ মার্চ অফিসে না গেলেই কি কাটা যাবে বেতন?

DA Strike Nabanna: বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানোর দাবিতে ১৩ই মার্চ রাজ্য জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সহ একাধিক সংগঠন। এই সম্ভাব্য অচলাবস্থা রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতর। নবান্ন থেকে জারি করা 968-F(P2) নম্বর নির্দেশিকায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই দিন সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি সম্পূর্ণরূপে বাধ্যতামূলক।

ধর্মঘটের প্রেক্ষাপট ও মূল দাবি

দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের সরকারি কর্মী এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকার কোনো সদর্থক উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। এই বকেয়া মেটানোর দাবিতেই রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনগুলি।

উপস্থিতি এবং ছুটির কড়াকড়ি

সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক কাজে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ১৩ তারিখ শুক্রবার সমস্ত রাজ্য সরকারি অফিস এবং সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানগুলি খোলা রাখতে হবে। কোনো কর্মীকে ওই দিন ক্যাজুয়াল লিভ (Casual Leave) বা অন্য কোনো অর্ধদিবস বা পূর্ণদিবসের ছুটি দেওয়া হবে না। যদি কোনো কর্মী বিনা অনুমতিতে অফিসে অনুপস্থিত থাকেন, তবে সেই দিনটিকে ‘ডাইস-নন’ (dies-non) হিসেবে গণ্য করা হবে। এর অর্থ হল, ওই নির্দিষ্ট দিনের জন্য কোনো বেতন পাবেন না কর্মীরা এবং এটি চাকরিতে ছেদ হিসেবেও ধরা হতে পারে।

যাঁদের ক্ষেত্রে ছাড় মিলবে

তবে কিছু বিশেষ ও জরুরি ক্ষেত্রে এই কঠোর নিয়মের বাইরে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন, পরিবারের কারও মৃত্যু হয়, অথবা ১২ই মার্চের আগে থেকেই গুরুতর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকেন, তবে তাঁরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। এছাড়া, যে সমস্ত কর্মী ১২ই মার্চের আগে থেকেই আগে থেকে অনুমোদিত চাইল্ড কেয়ার লিভ, ম্যাটারনিটি লিভ, মেডিকেল লিভ বা আর্নড লিভে আছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বেতন কাটা হবে না।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও কড়া পদক্ষেপ

সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করে অনুপস্থিত থাকলে কর্মীদের শাস্তির মুখে পড়তে হবে। অফিস প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অনুপস্থিত কর্মীদের কারণ দর্শানোর (Show-Cause) নোটিশ পাঠাতে হবে। উপযুক্ত প্রমাণ সহ সন্তোষজনক উত্তর পেলেই শুধুমাত্র ছুটি মঞ্জুর করা হতে পারে। অন্যথায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আগামী ৩০শে মার্চ, ২০২৬ তারিখের মধ্যে শেষ করে অর্থ দফতরে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button