Digital Inheritance: আপনার ফোন বা ব্যাঙ্কের টাকা বেহাত হবে না তো? এখনই সেরে ফেলুন এই ৫টি জরুরি কাজ
Digital Inheritance: প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কঠিন এবং মর্মান্তিক। কিন্তু শোকের সেই ভারী দিনগুলোতে যদি হঠাৎ আবিষ্কার করেন যে, ব্যাঙ্কে বা ডিজিটাল ওয়ালেটে থাকা টাকা আপনি ব্যবহার করতে পারছেন না, তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আমরা অনেকেই ভাবি, একটি ‘উইল’ বা ইচ্ছাপত্র থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানের ডিজিটাল যুগে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। উত্তরাধিকার এখন কেবল সম্পত্তির মালিকানা নয়, বরং সেই সম্পত্তিতে ‘অ্যাক্সেস’ বা প্রবেশাধিকার পাওয়ার লড়াই।
মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালের ঘটনা ভাবুন—বাবার চিকিৎসার বিল মেটাতে সন্তানরা হিমশিম খাচ্ছে, অথচ বাবার ফোনেই ইউপিআই অ্যাপের পেছনে হাজার হাজার টাকা লক হয়ে পড়ে আছে। পাসওয়ার্ড বা বায়োমেট্রিক অ্যাক্সেস না থাকায় সেই টাকা কাজে আসছে না। আপনি যদি বয়স্ক বাবা-মায়ের সন্তান হন বা নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চান, তবে ২০২৬ সাল আসার আগেই নিচের বিষয়গুলো নিয়ে পারিবারিক আলোচনা ও ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্মার্টফোন: আধুনিক জীবনের ‘মাস্টার কি’
বর্তমানে আমাদের জীবনের প্রায় সবকিছুই স্মার্টফোনে বন্দি। ব্যাঙ্কিং অ্যাপ, ট্যাক্স রেকর্ড, পারিবারিক ছবি—সবই থাকে ফোনের ভেতরে। আপনার বা আপনার বাবা-মায়ের ফোন যদি ফেস স্ক্যান বা অজানা পিন দিয়ে লক করা থাকে, তবে মৃত্যুর পর সেই ফোন খোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
করণীয়:
- নিজের এবং বাবা-মায়ের ফোনের মাস্টার পাসকোড একটি ডায়েরিতে লিখে নিরাপদ স্থানে বা ‘ইমার্জেন্সি ফোল্ডারে’ রাখুন।
- ডিজিটাল পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে সেখানে একজন ‘ইমার্জেন্সি কন্টাক্ট’ বা জরুরি যোগাযোগকারী নির্বাচন করে রাখুন, যিনি আপনার অবর্তমানে অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস পাবেন।
অদৃশ্য সম্পদ: ফিনটেক ও ডিজিটাল ওয়ালেট
আগে টাকা ব্যাঙ্কে থাকত, যার পাসবুক বা স্টেটমেন্ট দেখে হিসাব পাওয়া যেত। কিন্তু এখন পেটিএম, ফোনপে বা বিভিন্ন শপিং ও ট্রাভেল অ্যাপের ওয়ালেটে হাজার হাজার টাকা বা রিওয়ার্ড পয়েন্ট পড়ে থাকে। এই অ্যাকাউন্টগুলোর কোনো ফিজিক্যাল রেকর্ড বা নমিনি না থাকলে, মৃত্যুর পর এই টাকা সোজা টেক কোম্পানিগুলোর ব্যালেন্স শিটে চলে যায়।
করণীয়:
- সমস্ত ডিজিটাল ওয়ালেট ও ফিনটেক অ্যাপের একটি তালিকা তৈরি করুন।
- প্রতিটি অ্যাপের সেটিংসে গিয়ে নমিনি বা উত্তরাধিকারীর নাম আপডেট করা আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
- পুরানো বা অব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পেতে আরবিআই-এর ‘UDGAM’ (Unclaimed Deposits-Gateway to Access Information) পোর্টালটি ব্যবহার করুন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভারতীয় ব্যাঙ্ক ও বিমা সংস্থাগুলোতে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বেওয়ারিশ অর্থ পড়ে আছে।
শেয়ার বাজার ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ঝুঁকি
শেয়ার বাজারে এখন আর কাগুজে সার্টিফিকেটের যুগ নেই, সবটাই ডিম্যাট (Demat) অ্যাকাউন্টে। বাবা-মা যদি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেন, তবে তাঁদের মৃত্যুর পর কোন অ্যাপে কত শেয়ার আছে তা জানা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডি-ফাই (De-Fi) আরও ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে কোনো ম্যানেজার নেই। ‘প্রাইভেট কি’ বা পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে সেই টাকা চিরতরে হারিয়ে যায়।
করণীয়:
- ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে ‘Beneficial Nominee’ যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করুন।
- ব্রোকারের থেকে ‘Transmission of Shares’ ফর্মটি আগে থেকেই ডাউনলোড করে রাখুন এবং নিয়মাবলী জেনে নিন।
- ক্রিপ্টো বা ডিজিটাল কারেন্সির পাসওয়ার্ড বা ‘সিড ফ্রেজ’ ফিজিক্যাল লকারে বা নিরাপদ সিন্দুকে রাখুন। ইমেল বা ক্লাউডে রাখবেন না, হ্যাক হওয়ার ভয় থাকে।
গুগল ও অ্যাপল: ডিজিটাল অভিভাবক
আমাদের ইমেল, ছবি এবং ক্লাউড ব্যাকআপ সাধারণত গুগল বা অ্যাপলের কাছে থাকে। এই অ্যাকাউন্টগুলোর অ্যাক্সেস না থাকলে অন্য অনেক আর্থিক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড রিসেট করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
করণীয়:
- Google: ‘Inactive Account Manager’ চালু করুন। এটি নির্দিষ্ট সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর আপনার বিশ্বস্ত কাউকে ডেটা অ্যাক্সেস দেবে।
- Apple: ‘Legacy Contact’ অপশনটি ব্যবহার করুন। এটি শোকের সময়ে পরিবারকে ডিজিটাল তথ্য পেতে সাহায্য করে।
এই আলোচনাগুলো করা অস্বস্তিকর হতে পারে, কিন্তু এটি আপনার পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয়। আইনি জটিলতা এড়াতে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ যাতে প্রিয়জনদের কাজেই লাগে তা নিশ্চিত করতে আজই এই পদক্ষেপগুলো নিন।
দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, এটি কোনো আর্থিক পরামর্শ নয়। বিনিয়োগ বা আইনি সিদ্ধান্তের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।